রেজিনগরেও এবার বিজেপির জয়জয়কার! মুসলিম-প্রধান আসনে বিজেপির ‘চমক’ ঘিরে বাড়ছে জল্পনা

মুসলিম-প্রধান আসন। এতদিনের ভোটের অঙ্কও যেন স্পষ্ট। কিন্তু এবার কি সেই হিসেবেই বড়সড় ধাক্কা দিতে চলেছে বিজেপি? রেজিনগর উপনির্বাচন যত এগোচ্ছে, ততই চড়ছে রাজনৈতিক উত্তেজনা। বিজেপির অন্দরে জোর চর্চা উত্তরপ্রদেশের কুন্দরকি মডেলেই কি এবার রেজিনগরে বদলে দেওয়া যাবে প্রচলিত ভোটের সমীকরণ? ২০২৪ সালের কুন্দরকি উপনির্বাচনে প্রায় ৬৩ শতাংশ মুসলিম জনসংখ্যার আসনে বিজেপির রামবীর সিং প্রায় ১.৪৪ লক্ষ ভোটে জয় পেয়েছিলেন। সেই ফলকেই সামনে রেখে রেজিনগরেও জনবিন্যাসের অঙ্ককে চ্যালেঞ্জ করার দাবি করছে গেরুয়া শিবির।

 

কিন্তু রেজিনগরে সেই ছক কতটা কার্যকর হবে? দলের এক কেন্দ্রীয় নেতার দাবি, মেরুকরণের অঙ্কেই এবার রেজিনগর বিজেপির ঝুলিতে আসতে পারে। তাঁর যুক্তি, আসনটিতে মুসলিম ভোটারের সংখ্যা প্রায় ৬০-৬৫ শতাংশ হলেও শুধু জনবিন্যাস দিয়ে ভোটের ফল নির্ধারিত হয় না। হিন্দু ভোটের বড় অংশ একদিকে একজোট হলে এবং সংখ্যালঘু ভোটে বিভাজন তৈরি হলে বদলে যেতে পারে গোটা সমীকরণ। এই দাবিকে ঘিরেই এখন রেজিনগরকে বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।

নন্দীগ্রাম নিয়েও আত্মবিশ্বাসী বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। দলের একাংশের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত প্রভাবের জোরে সেখানে বড় ব্যবধানে জয় আসতে পারে। এমনকি দলের এক কেন্দ্রীয় নেতা অন্তত ৫০ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়ের দাবিও করেছেন। তবে একইসঙ্গে রেজিনগরকেও বিশেষ নজরে রাখা হচ্ছে কারণ এই আসনে জয় এলে তা শুধু একটি উপনির্বাচনের ফল নয়, বাংলার ভোটের প্রচলিত সমীকরণ নিয়েও বড় রাজনৈতিক বার্তা দিতে পারে বলে মনে করছে গেরুয়া শিবির।

এর পিছনে বারবার উঠে আসছে কুন্দরকির উদাহরণ। ২০২৪ সালের নভেম্বরে উত্তরপ্রদেশের মুসলিম-অধ্যুষিত কুন্দরকি আসনে বিজেপি প্রার্থী রামবীর সিং সমাজবাদী পার্টির প্রার্থীকে প্রায় ১.৪৪ লক্ষ ভোটে হারান। ভোটের আগে কুন্দরকিকে এসপি-র শক্ত ঘাঁটি হিসেবে দেখা হলেও ফলাফল সেই হিসাব পাল্টে দেয়।তবে কুন্দরকির ফলের ব্যাখ্যা নিয়েও একাধিক মত রয়েছে। বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্ব সেই জয়ের পিছনে উন্নয়নমূলক কাজ ও সরকারি প্রকল্পের প্রভাবের কথা বলেছিল। অন্যদিকে কিছু বিশ্লেষণে ভোটার উপস্থিতি, বুথভিত্তিক ভোটের ধরণ এবং স্থানীয় সামাজিক সমীকরণের কথাও উঠে এসেছে। অর্থাৎ, কুন্দরকির ফলকে শুধুমাত্র একটি কারণ দিয়ে ব্যাখ্যা করা নিয়ে মতভেদ রয়েছে।

আর ঠিক এখানেই রেজিনগরের আসল লড়াই। বিজেপির অঙ্ক যদি বাস্তবে ভোটের বাক্সে প্রতিফলিত হয়, তাহলে মুসলিম-প্রধান আসনেও গেরুয়া শিবিরের বড় চমক দেখা যেতে পারে। আবার সংখ্যালঘু ভোট যদি কোনও একটি দলের দিকে ব্যাপকভাবে একজোট থাকে, তাহলে সেই অঙ্ক অন্যদিকে ঘুরে যেতে পারে। ফলে রেজিনগরে এবার লড়াই শুধু প্রার্থী বনাম প্রার্থীর নয় লড়াই ভোটের প্রচলিত সমীকরণ বনাম নতুন রাজনৈতিক অঙ্কেরও। শেষ হাসি কার? উত্তর মিলবে ভোটের বাক্স খুললেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *