বাংলায় বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই যেন রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে এক চরম অরাজকতা ও গুন্ডারাজ। শান্ত বাংলাকে রাজনৈতিক হিংসায় ভাসিয়ে দিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে গেরুয়া শিবির। সম্প্রতি পূর্ব যাদবপুর থানায় একটি লিখিত স্মারকলিপি পেশ করতে যাওয়ার পথে তৃণমূলের সুশৃঙ্খল শোভাযাত্রার ওপর বিজেপির আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বর্বর হামলার ঘটনা ঘিরে রাজ্য রাজনীতি উত্তাল হয়ে উঠেছে। এই হিংস্র হামলায় গুরুতর জখম ও রক্তাক্ত হয়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা অবসরপ্রাপ্ত আইপিএস অফিসার হুমায়ুন কবীর এবং তৃণমূলের আইটি সেলের প্রধান উপাসনা চৌধুরীসহ একাধিক দলীয় কর্মী। বর্তমানে মারাত্মক আহত অবস্থায় চিকিৎসকদের কড়া নজরদারিতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন হুমায়ুন কবীর। শুক্রবার তাঁর বাড়িতে গিয়ে শারীরিক পরিস্থিতির খোঁজ নেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং এই নজিরবিহীন ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান।
ঘটনার দিন মুকুন্দপুরের মুকুন্দ ভবন থেকে তৃণমূল নেতৃত্বের পরিচালনায় একটি অত্যন্ত শান্ত ও সুশৃঙ্খল মিছিল পূর্ব যাদবপুর থানার দিকে যাচ্ছিল। কিন্তু ঠিক মাঝপথে কোনো প্ররোচনা ছাড়াই বিজেপির একদল সশস্ত্র গুন্ডাবাহিনী হঠাৎ নারী-পুরুষ নির্বিশেষে মিছিলের ওপর চড়াও হয়। হিংস্র আক্রমণকারীরা বয়স্ক প্রাক্তন বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকেও ছাড়েনি। তাঁদের নিষ্ঠুর প্রহারে মারাত্মকভাবে রক্তাক্ত হন প্রাক্তন এই আইপিএস অফিসার।
হামলায় মারাত্মকভাবে আহত হুমায়ুন কবীরের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে শুক্রবার সশরীরে তাঁর বাসভবনে পৌঁছে যান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। পরে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া পেজে সেই সাক্ষাতের ছবি পোস্ট করে বিজেপির এই জল্লাদসুলভ মানসিকতার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি পোস্ট করে অভিষেক স্পষ্ট ভাষায় লেখেন, পূর্ব যাদবপুর থানায় একটি লিখিত স্মারকলিপি দিতে যাওয়ার সময় কীভাবে তাঁদের সুশৃঙ্খল মিছিলে বিজেপির গুন্ডাবাহিনী আচমকা হামলা চালিয়েছে। ঈশ্বর যাতে হুমায়ুন কবীরকে দ্রুত আরোগ্য দান করেন, সেই প্রার্থনাও জানান তিনি।
এর পরেই রাজ্যাভিষেকের পর বিজেপির অপশাসন ও ভেঙে পড়া আইনশৃঙ্খলা নিয়ে বর্তমান সরকারকে সরাসরি তোপ দাগেন অভিষেক। রাজ্যবাসীর চোখ খুলে দিয়ে তিনি লেখেন, “বাংলায় বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার মান যে কতটা নিচে নামতে পারে, তা এ রাজ্যের সাধারণ মানুষ ঘুণাক্ষরেও টের পাননি।” তিনি বিজেপিকে পরিষ্কার বার্তা দিয়ে জানান যে, গেরুয়া শিবিরের এই নোংরা ও প্রতিহিংসামূলক রাজনীতি তৃণমূল কংগ্রেস কোনোভাবেই সহ্য করবে না। গুন্ডামি করে, ত্রাস সৃষ্টি করে কিংবা গায়ে হাত তুলে তৃণমূলকে এভাবে দমিয়ে বা অবদমিত করে রাখা যাবে না।
বর্তমানে এই গণবিরোধী বিজেপি সরকারের এই হিংস্র ও রক্তক্ষয়ী রাজনীতির বিরুদ্ধে রাজ্যজুড়ে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজনৈতিকভাবে লড়াই করতে ব্যর্থ হয়েই বিজেপি এখন বাংলায় হিংসা ও গুন্ডামির পথ বেছে নিয়েছে। তবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই বার্তা স্পষ্ট করে দিয়েছে—প্রতিহিংসার রাজনীতির সামনে মাথা নত না করে বিজেপির এই অরাজকতার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়েই লড়াই চালিয়ে যাবে তৃণমূল।
