Prime Minister’s Tea Workers’ Schemeউত্তরবঙ্গের চা-বাগান মানেই শুধু সবুজের সমুদ্র নয়। এই সবুজের আড়ালে রয়েছে হাজার হাজার শ্রমিক পরিবারের জীবন-জীবিকা, স্বপ্ন আর দীর্ঘদিনের অপেক্ষা। সেই চা-বলয়ের মানুষের জন্য এবার একগুচ্ছ বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শিক্ষা, স্বাস্থ্য থেকে শুরু করে পরিকাঠামো চা-বাগান এলাকার উন্নয়নে কেন্দ্রের অনুমোদিত ৩১৩.৩০ কোটি টাকার প্রকল্পের কাজ হবে বলে জানানো হয়েছে।
শুধু রাস্তা, সেতু বা পরিকাঠামো নয়, চা-বাগানের শ্রমিকদের মাথার উপর যে ঘর, সেই ঘরের মালিকানা নিয়েও উঠেছে বড় প্রশ্ন। শ্রমিকদের বাড়ির মালিকানা কীভাবে দেওয়া হবে, কত পরিবার এই সুবিধা পাবেন, কবে থেকে শুরু হবে সেই প্রক্রিয়া এখনও তার বিস্তারিত জানানো হয়নি। তবে এই ঘোষণায় দীর্ঘদিন ধরে জমি ও বাড়ির অধিকার নিয়ে অনিশ্চয়তায় থাকা পরিবারগুলির মধ্যে নতুন আশার আলো তৈরি হয়েছে।
আগেই ২০ শতাংশ বোনাস দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা হয়েছিল। ডুয়ার্সের একাধিক চা-বাগানে ইতিমধ্যেই বোনাস দেওয়ার কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। উৎসবের আগে হাতে বাড়তি টাকা মানেই শ্রমিক পরিবারগুলির কাছে একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস, সন্তানদের জন্য নতুন জামাকাপড়, ঘরে পুজোর বাজার ছোট ছোট সেই আনন্দই যেন বড় হয়ে ধরা দেয়।
চা-বলয়ের উন্নয়নের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের যোগাযোগ ব্যবস্থাকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি মূর্তি নদীর সেতুর উদ্বোধন করেন তিনি। এই সেতু চালু হওয়ায় এলাকার মানুষের যাতায়াত আরও সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। আরও দু’টি সেতুর নির্মাণকাজ চলছে বলেও জানানো হয়েছে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগে উত্তরবঙ্গের বহু রাস্তা ও সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। তার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কালীখোলা সেতুটিও ছিল। গত বছরের দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত সেই সেতু পুনর্নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। অর্থাৎ চা-বাগান এলাকার উন্নয়ন শুধু ঘোষণাতেই আটকে না থেকে রাস্তা, সেতু ও যোগাযোগ ব্যবস্থার দিকেও এগোতে চাইছে সরকার।
তবে উদ্বোধনী মঞ্চ থেকেই আগের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর অভিযোগ, ২০২১ সালে কেন্দ্রের তরফে এই বিশেষ প্রকল্প চালু করা হলেও তৎকালীন রাজ্য সরকার তার যথাযথ সুবিধা নেয়নি। তাঁর দাবি, প্রতিবেশী অসম সেই প্রকল্পের সুযোগ নিয়ে চা শ্রমিকদের কল্যাণে এগিয়ে গিয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের মাধ্যমে কেন্দ্রের কাছে এই প্রকল্পের জন্য আবেদন জানানো হয়েছিল। তারই ফল হিসেবে গত বৃহস্পতিবার কেন্দ্রের তরফে প্রায় ৩৩০ কোটি টাকা মঞ্জুর করা হয়েছে বলে তাঁর দাবি। এই অর্থ চা-বাগান এলাকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিকাঠামোর উন্নয়নে কাজে লাগানো হবে।
চা-বাগানের সবুজ পাতার আড়ালে যে হাজার হাজার মানুষের জীবন, তাঁদের কাছে উন্নয়নের অর্থ শুধু নতুন রাস্তা বা সেতু নয়। উন্নত স্কুল, চিকিৎসার সুযোগ, মাথার উপর নিজের ঘরের নিশ্চয়তা আর উৎসবের আগে হাতে বোনাস এই ছোট ছোট প্রাপ্তিই বদলে দিতে পারে একটি পরিবারের জীবন। তাই মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণাগুলির বাস্তবায়নের দিকেই এখন তাকিয়ে ডুয়ার্সের চা-বলয়।