Jinping Modi_

‘আস্থা ও সম্মান চাই’—শি জিনপিংকে মোদীর স্পষ্ট বার্তা

৭ বছর পর চিনের মাটিতে পা রেখেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। যদিও সফরে যাওয়ার আগে থেকেই চিন ও ভারত একের ওপরের প্রতি বেশ নরম হয়েছিল। ফলে চিন-ভারতের যে আবারও বন্ধুত্ব হতে চলেছে, এমনটা অনেকেই আঁচ করেছিল। আর তারপরই সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন সামিটের বৈঠকে যোগ দিতে চিনে পৌঁছলেন নমো। আর সেখানেই চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক সারলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। জানা গেছে, প্রায় ১ ঘণ্টা ধরে বৈঠক চলে তাদের এবং শুধু বৈঠক নয়, তাদের এই বার্তালাপে গোটা বিশ্বের মঙ্গল হবে বলেও উল্লেখ করেন মোদী।

জানা গিয়েছে, রবিবার নির্ধারিত সময়ের কিছুটা আগেই এই বৈঠক শুরু হয় এবং তা ঘণ্টাখানেক চলে। ওই বৈঠকে নরেন্দ্র মোদী দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস, ভরসা, সংবেদনশীলতা এবং সম্মানের কথা বলে শি জিনপিং দুই দেশের বন্ধুত্ব দৃঢ় হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলে জানিয়েছেন। এদিন সেই বৈঠকের একটি ২ মিনিট ৫ সেকেন্ডের একটি ক্লিপ নিজের এক্স হ্যান্ডেলে শেয়ার করেন নরেন্দ্র মোদী। যেখানে দেখা যাচ্ছে, জিনপিং এর ঠিক উল্টো দিকে মুখোমুখি বসে আছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি চিনা প্রেসিডেন্টের সামনে নিজের বক্তব্য হিন্দিতে পড়ে শোনাচ্ছেন। আর সেই বক্তব্য বেশ মনোযোগ সহকারে শুনছেন জিনপিং।

https://x.com/narendramodi/status/1962012857748570565

বৈঠকের শুরুতেই এদিন নরেন্দ্র মোদী বলেন, ‘গত বছর কাজানেও আমাদের অত্যন্ত যুক্তিপূর্ণ এবং স্বার্থক আলোচনা হয়েছিল। সেখানে দুই দেশের সম্পর্ক ইতিবাচক দিশা পেয়েছে। সীমান্তে সেনা সরানোর পর এখনও সেখানে শান্তি এবং স্থিতাবস্থা বজায় রয়েছে। আমাদের প্রতিনিধিরাও সীমান্তের বোঝা-পড়া নিয়ে একমত। আবারও নতুন করে কৈলাস মানসসরোবর যাত্রা শুরু হয়েছে।’ পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে সরাসরি বিমান পরিষেবা শুরু হতে চলেছে বলেও জানিয়েছেন নরেন্দ্র মোদী। নমো বলেন, ‘চিন এবং ভারতের বন্ধুত্বে সমগ্র মানবজাতির কল্যাণ হবে। সেই সঙ্গে এই সম্পর্কের ওপর দুই দেশের ২৮০ কোটি মানুষের স্বার্থ নির্ভর করছে।’ যদিও নরেন্দ্র মোদীর এই বক্তব্য শেষ হওয়ার পর, তা স্থানীয় ভাষায় অনুবাদ করে শি জিনপিং-কে জানানো হয়।

এর উত্তরে চিনের প্রেসিডেন্ট বলেন, বিশ্বে নানা রকম বদল ঘটছে প্রতিনিয়ত। তবে, চিন এবং ভারত খুবই সভ্য দেশ। তাছাড়া, এই দুটি দেশ-ই বিশ্বে জনপ্রিয় এবং গ্লোবাল সাউথের অন্তর্গত, তাই চিন ও ভারতের মধ্যে বন্ধুত্ব থাকা প্রয়োজন এবং ভাল প্রতিবেশী হয়ে থাকা জরুরি। এরপরই তিনি বলেন, ড্রাগন এবং এলিফ্যান্টের এবার একে অপরের কাছাকাছি আসার সময় হয়ে গিয়েছে। ট্রাম্পের অতিরিক্ত শুল্কবাণের মধ্যেই নরেন্দ্র মোদীর এমন চিন সফরকে অনেকেই অবশ্য ভালো চোখে দেখছেন না। তবে, আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে চিন-ভারতের এই বৈঠক বেশ ফলপ্রদ হবে বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *