পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার ঐতিহাসিক পরিবর্তনের পর মাত্র ১১ সপ্তাহ পার হতে না হতেই— নির্বাচনে দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে শুরু করেছে নব্য রাজ্য সরকার। একের পর এক জনকল্যাণমুখী প্রকল্প চালুর পর, এবার ১লা আগস্ট তারিখে নিউটাউন কনভেনশন সেন্টার থেকে রাজ্যের হাজার হাজার মানুষের হাতে সিএএ বা নাগরিকত্ব আইনের অধীনে স্থায়ী নাগরিকত্বের শংসাপত্র তুলে দিয়ে এক নজিরবিহীন ইতিহাস গড়লেন মুখ্যমন্ত্রী শ্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিনের বিশেষ অনুষ্ঠানে উত্তর ২৪ পরগনার প্রায় ৩০০ জন মতুয়া পরিবারসহ মোট ৫,৯৬৬ জন যোগ্য নাগরিককে আনুষ্ঠানিকভাবে ভারত সরকারের বৈধ্য নাগরিকত্ব সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়।
নাগরিকত্ব প্রদান অনুষ্ঠানে নবান্নের এই মেগা উদ্যোগের পাশাপাশি বিগত জমানার অপপ্রচারের বিরুদ্ধেও কড়া বার্তা দেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে— সিএএ আইন কারও নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার জন্য নয়, বরং বহু বছর ধরে চলে আসা বঞ্চনা দূর করে সম্মানজনক অধিকার ফিরিয়ে দিতেই তৈরি করা হয়েছে। সিএএ কার্যকর হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ২ লক্ষ ৩০ হাজারেরও বেশি আবেদন জমা পড়েছে, যার মধ্যে নব্য সরকারের মাত্র ১১ সপ্তাহের মধ্যেই প্রায় ৬ হাজার মানুষের আবেদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করে তাঁদের হাতে নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র তুলে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।
শুধু তাই নয়, যাঁরা এখনও আবেদন করেননি তাঁদের প্রতি আশ্বস্ত করে মুখ্যমন্ত্রী কেন্দ্র সরকারের নতুন গাইডলাইনের কথা ঘোষণা করেন। তিনি জানান— ৩১শে ডিসেম্বর ২০২৪-এর আগে বাংলাদেশ, পাকিস্তান বা আফগানিস্তান থেকে নিজেদের প্রাণ ও ধর্ম বাঁচাতে ভারতে আশ্রয় নেওয়া কোনো মানুষের বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপ নেওয়া হবে না এবং রাজনৈতিক কারণে কেউ জেলে থাকলে তাঁদের মুক্ত করার ব্যবস্থা করবে সরকার। সিএএ সংক্রান্ত সমস্ত পেন্ডিং কাজ আগামী ৬ মাসের মধ্যে সম্পূর্ণ করে নতুন নাগরিকদের নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। তো দীর্ঘদিনের ভয় ও অনিশ্চয়তার ইতি টেনে, শরণার্থীদের সুরক্ষিত আশ্রয় ও নাগরিক অধিকার সুনিশ্চিত করার এই যুগান্তকারী পদক্ষেপ সত্যি এক সুশাসিত ও সদিচ্ছাপূর্ণ নতুন বাংলার অনন্য নজির স্থাপন করল।
