Commission goes into 'action mode' as irregularities are detected at polling stations.

ভোটকেন্দ্রে অনিয়ম ধরা পড়তেই অ্যাকশন মুডে কমিশন ! ফলতা থেকে মগরাহাট—কমিশনের রেডারে এখন একাধিক বুথ !

বাংলার দ্বিতীয় দফার নির্বাচন মিটলেও উত্তাপ একবিন্দু কমেনি। বরং ভোট পরবর্তী স্ক্রুটিনিতে উঠে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। ডায়মন্ড হারবারের মতো হাই-ভোল্টেজ কেন্দ্রে অনিয়ম ধরা পড়তেই কড়া অবস্থান নিল কমিশন। ৪টি বুথে পুনর্নির্বাচনের সুপারিশ দিয়ে কমিশন বুঝিয়ে দিল—গণতন্ত্রের উৎসবে কোনো রকম কারচুপি বা জালিয়াতি সহ্য করা হবে না।

দ্বিতীয় দফার ভোটের পর যখন সবাই ফলাফলের অপেক্ষায়, ঠিক তখনই ডায়মন্ড হারবার বিধানসভা থেকে এল বড় খবর। রিটার্নিং অফিসার এবং পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ৪টি বুথে পুনরায় ভোটগ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে। স্ক্রুটিনির সময় দেখা গেছে, ওই বুথগুলিতে স্বচ্ছতার অভাব ছিল। নির্বাচন কমিশনের এই পদক্ষেপ আসলে কারচুপিকারীদের মুখে এক সপাটে চড়। ভোটকেন্দ্রে কোনো অশান্তি হয়ে থাকুক বা যান্ত্রিক গোলযোগ—কমিশন কোনো ঝুঁকি নিতে রাজি নয়। ভোটারদের পবিত্র রায় যেন বিন্দুমাত্র কলঙ্কিত না হয়, তার জন্য রাত জেগে কাজ করছেন কমিশনের আধিকারিকরা। এই রিপোলের সুপারিশই প্রমাণ করে যে, এবারের নির্বাচনে কমিশন কোনো প্রভাবশালী শক্তির কাছে মাথা নত করেনি। তবে নজর শুধু ডায়মন্ড হারবারে নয়, কমিশনের রেডারের তলায় রয়েছে ফলতা এবং মগরাহাট পশ্চিমের মতো সংবেদনশীল এলাকাও। স্ক্রুটিনির নথিপত্রে সামান্যতম অসঙ্গতি ধরা পড়তেই পর্যবেক্ষক দল সক্রিয় হয়ে উঠেছে। আমরা দেখেছি, ভোটের দিন অনেক জায়গায় অশান্তির চেষ্টা করা হয়েছিল, কিন্তু কমিশনের কড়া নজরদারি এবং তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা সেই চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে। রিপোর্ট বলছে, এই কেন্দ্রগুলোর বেশ কিছু বুথের তথ্য খতিয়ে দেখছে কমিশন। যেখানেই সামান্য সন্দেহের অবকাশ থাকছে, সেখানেই কমিশন তার নিরপেক্ষতা বজায় রেখে রিপোর্ট তৈরি করছে। এটাই হলো প্রকৃত গণতন্ত্রের শক্তি, যেখানে একটি প্রতিষ্ঠানের সততা সাধারণ মানুষের হাজারো ভয়ের ঊর্ধ্বে থাকে। পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত জানিয়েছেন, বল এখন জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কোর্টে। রিটার্নিং অফিসারদের পাঠানো রিপোর্ট দিল্লিতে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কমিশন যদি মনে করে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ায় বিন্দুমাত্র ফাঁক ছিল, তবে রিপোলের দিনক্ষণ ঘোষণা হতে কেবল সময়ের অপেক্ষা।

জাতীয় নির্বাচন কমিশন সবসময়ই চেয়েছে বাংলার ভোট হোক সম্পূর্ণ ভয়মুক্ত এবং অবাধ। যে ৪টি বুথে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে, সেখানে সাধারণ মানুষ যাতে আবার নিঃশঙ্ক চিত্তে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, তার জন্য কমিশন বদ্ধপরিকর। প্রশাসনিক স্বচ্ছতার এই নজির এবারের বিধানসভা নির্বাচনকে অন্য মাত্রা দিচ্ছে।
কমিশনের এই কড়া পদক্ষেপে আপনি কতটা আশাবাদী? আমাদের কমেন্ট বক্সে জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *