Complete the digital census in just 10 minutes from the comfort of your home!

ঘরে বসেই মাত্র ১০ মিনিটে শেষ করুন ডিজিটাল জনগণনা!

জাতীয় রাজনীতিতে নাগরিকত্ব ও তথ্য সংশোধন নিয়ে দীর্ঘ বিতর্কের মাঝে— এবার ভারতীয়দের জন্য এক যুগান্তকারী ও ডিজিটাল উপহার নিয়ে এল কেন্দ্রীয় প্রশাসন। দেশের জনসংখ্যাতত্ত্বের নির্ভুল চিত্র তুলে ধরতে এবং নাগরিকদের সমস্ত জটিলতা থেকে মুক্ত রাখতে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়ে গেল ডিজিটাল জনগণনা বা সেল্ফ এনুমারেশন প্রক্রিয়া। এবার আর ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাগজপত্রের জটিলতায় ভুগতে হবে না। যেকোনো সাধারণ নাগরিক নিজের মোবাইল বা কম্পিউটারের মাধ্যমে se.census.gov.in পোর্টালে লগ ইন করে মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে ৩৪টি সহজ প্রশ্নের উত্তর দিয়ে নিজের পরিবারের নাম নথিবদ্ধ করে নিতে পারবেন।

কীভাবে সম্পন্ন করবেন এই অনলাইন প্রক্রিয়া? পোর্টালে গিয়ে মোট সাতটি সহজ ধাপে পরিবার সম্পর্কিত তথ্য প্রদান করতে হবে। আপনার বাড়িটি নিজস্ব না ভাড়া, পরিবারে কতজন সদস্য থাকেন, ঘরে বিদ্যুৎ, পানীয় জল ও শৌচাগারের ব্যবস্থা কী রকম, রান্নার গ্যাসের কানেকশন এবং সাইকেল, বাইক বা গাড়ি রয়েছে কিনা— তার পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য প্রদান করতে হবে। একই বাড়িতে যদি একাধিক ভাই বা বাবা-ছেলের রান্না ও সংসার পৃথক হয়, তবে তাঁদের আলাদা আলাদা পরিবার হিসেবেই পরিগণিত করা হবে। সমস্ত ফর্ম ফিল-আপ শেষে ‘ফাইনাল সাবমিট’ বাটনে ক্লিক করলেই আপনার ফোনে চলে আসবে ১১ সংখ্যার একটি বিশেষ সেল্ফ-এনুমারেশন বা SE আইডি, এবং প্রযুক্তির সাহায্যে আপনার বাড়ির স্যাটেলাইট ভৌগোলিক অবস্থানও মানচিত্রে জিও-ট্যাগ হয়ে যাবে।

প্রশাসনের তরফে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে, এই অনলাইন প্রক্রিয়াটি নাগরিকদের সুবিধার্থেই তৈরি করা হয়েছে, এটি বাধ্যতামূলক নয়। আগামী ১৫ই আগস্টের মধ্যে যাঁরা অনলাইনে এই ফর্ম পূরণ করবেন না, তাঁদের ভয়ের কোনো কারণ নেই; ১৬ই আগস্ট থেকে ১৪ই সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গণনাকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ম্যানুয়ালি তথ্য সংগ্রহ করবেন। তবে যাঁরা অনলাইনে ফর্ম পূরণ করে ১১ সংখ্যার এসই আইডি পেয়ে যাবেন, তাঁরা গণনাকর্মীদের কেবল সেই আইডিটি দেখালেই তথ্য দ্রুত যাচাই সম্পন্ন হয়ে যাবে।

তবে সতর্কবার্তা দিয়ে জানানো হয়েছে যে, ভুল বা অসত্য তথ্য প্রদান করলে প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। কলকাতার পুরকমিশনার স্মিতা পান্ডের নেতৃত্বে ৮,১১২টি ব্লকে হাজার হাজার গণনাকর্মী এই প্রক্রিয়ার সার্বিক তদারকি করছেন। আর সবচেয়ে ঐতিহাসিক বিষয় হলো, ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হতে যাওয়া দ্বিতীয় ধাপের গণনায় ভারতের ইতিহাসে এই প্রথমবার রূপান্তরকামী বা ট্রান্সজেন্ডার সম্প্রদায়কে পৃথক বিভাগ হিসেবে তালিকায় স্থান দেওয়া হচ্ছে। তো প্রযুক্তির ব্যবহারে স্বচ্ছ ও ডিজিটাল ভারতের এই সময়োপযোগী পদক্ষেপ সত্যি এক উন্নত ও প্রগতিশীল রাষ্ট্রের অনন্য নজির স্থাপন করল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *