সুপ্রিম কোর্টের প্রখ্যাত আইনজীবী, তিন তালাক বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম প্রধান আইনি মুখ এবং বিজেপি সংখ্যালঘু মোর্চার প্রভাবশালী নেত্রী নাজিয়া এলাহি খানের একটি ঐতিহাসিক ঘোষণা ঘিরে তোলপাড় শুরু হয়েছে দেশজুড়ে! নিজের শিকড় ও সনাতন ঐতিহ্যের প্রতি আস্থা প্রকাশ করে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে সনাতন ধর্মে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে তাঁর এই সাহসী ‘ঘরওয়াপসি’র সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসতেই সীমান্ত পেরিয়ে ওপার বাংলা নয়, সরাসরি পাকিস্তান থেকে একের পর এক প্রাণনাশের হুমকি ও সাইবার সন্ত্রাসের শিকার হতে হচ্ছে তাঁকে। শুধু তাঁকেই নয়— এই ঘটনার সূত্র ধরে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ এবং বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নামেও চরম হুমকি বার্তা পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিজেপি নেত্রী।
ঘটনার সূত্রপাত সম্প্রতি মধ্যপ্রদেশের পুণ্যভূমি রামঘাটে। সেখানে পিতৃপক্ষের পুণ্যলগ্নে নিজের পূর্বপুরুষদের উদ্দেশে রীতিমাফিক তর্পণ ও শ্রাদ্ধানুষ্ঠান সম্পন্ন করেন নাজিয়া এলাহি খান। এরপরই সংবাদমাধ্যমের সামনে অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে তিনি ঘোষণা করেন— “আমি আমার পূর্বপুরুষদের আসল সত্য ও আত্মপরিচয়কে গ্রহণ করতে চলেছি। খুব শীঘ্রই বৈদিক নিয়ম ও আচার মেনে আনুষ্ঠানিকভাবে সনাতন ধর্মে প্রত্যাবর্তন করব।” এই কঠিন ও সংবেদনশীল সিদ্ধান্তের মুহূর্তে তাঁর পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদের লোনি বিধানসভার বিজেপি বিধায়ক নন্দকিশোর গুর্জর। বিধায়ক নন্দকিশোর গুর্জরকে নিজের পিতার আসনে বসিয়ে নাজিয়া কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে জানিয়েছেন— এই ধর্মীয় প্রত্যাবর্তনে বিধায়ক তাঁকে সম্পূর্ণ অভিভাবকত্ব দিয়েছেন এবং নিজের কুল ও গোত্র প্রদান করে কন্যা হিসেবে বরণ করে নিয়েছেন।
উল্লেখ্য, নাজিয়া এলাহি খানের আদি বাসস্থান এই বাংলাতেই। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মেধার সাথে এলএলবি এবং এলএলএম ডিগ্রি অর্জন করার পর দেশের শীর্ষ আদালত সুপ্রিম কোর্টে আইন পেশায় দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন তিনি। ঐতিহাসিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ তিন তালাক বিরোধী মামলায় মূল আবেদনকারী ইশরাত জাহানের প্রধান আইনি উপদেষ্টা হিসেবে সারা দেশে পরিচিতি পেয়েছিলেন নাজিয়া। পরবর্তীতে ২০১৮ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগ দিয়ে সংখ্যালঘু মোর্চার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলাচ্ছেন তিনি।
কিন্তু সনাতন ধর্মে ফেরার এই ব্যক্তিগত ও স্বাধীন সিদ্ধান্ত ঘোষণা করার পরই আন্তর্জাতিক স্তরের কট্টরপন্থী চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। নাজিয়া এলাহি খানের অভিযোগ— পাকিস্তান থেকে সরাসরি তাঁকে এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের লক্ষ্য করে লাগাতার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এমনকি পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর কুখ্যাত হ্যান্ডলার শেহজাদ ভাট্টি এবং তার কম্যান্ডো হুনাইন রানার পক্ষ থেকে অত্যন্ত কুরুচিকর, অশ্লীল ভিডিও ও বার্তা পাঠিয়ে তাঁকে মানসিকভাবে হেনস্থা ও প্রাণে মারার হুঁশিয়ারি দেওয়া হচ্ছে। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, সেই সমস্ত উস্কানিমূলক বার্তায় উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকেও নিশানা করার হুমকি দেওয়া হয়েছে।
ইতিমধ্যেই এই আন্তর্জাতিক হুমকি ও সাইবার হামলার সমস্ত তথ্যপ্রমাণ সহ কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা সংস্থা ও পুলিশের সাইবার ক্রাইম শাখার কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছেন নাজিয়া এলাহি খান।
এক মুসলিম বিদ্বান আইনজীবীর নিজের ইচ্ছায় সনাতন শিকড়ে ফেরা এবং তার বিপরীতে পাকিস্তানি চক্রের এই বিষাক্ত হুমকি— জাতীয় নিরাপত্তা ও ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রশ্নে গোটা দেশে এক চরম রাজনৈতিক ও আইনি আলোড়ন সৃষ্টি করেছে!
