Degrees in hand, but no jobs

ডিগ্রি আছে, চাকরি নেই! যুবকদের তীব্র হতাশা থেকেই কি জন্ম নিচ্ছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’-র আন্দোলন

 

দেশে উচ্চশিক্ষার প্রসার যত বাড়ছে, ততই বাড়ছে শিক্ষিত বেকারত্বের সংকট। ভালো ডিগ্রি অর্জনের পরও কাঙ্ক্ষিত চাকরি না পাওয়ায় হতাশা বাড়ছে লক্ষ লক্ষ তরুণ-তরুণীর মধ্যে। সেই ক্ষোভই সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে শুরু হওয়া ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা CJP আন্দোলনকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। প্রথমে ব্যঙ্গাত্মক প্রচার হিসেবে শুরু হলেও পরে তা বেকারত্ব, প্রশ্নপত্র ফাঁস, মূল্যবৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানের অভাবের বিরুদ্ধে যুব আন্দোলনের রূপ নিয়েছে।

অর্থনীতিবিদ এবং জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন অধ্যাপক অরুণ কুমারের মতে, বর্তমান সময়ে তরুণদের প্রত্যাশা ও বাস্তবতার মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান তৈরি হয়েছে। বহু শিক্ষার্থী বছরের পর বছর সরকারি বা সংগঠিত ক্ষেত্রের চাকরির জন্য প্রস্তুতি নিলেও সেই সংখ্যার তুলনায় নিয়োগ অত্যন্ত সীমিত।

Azim Premji University-এর State of Working India 2026 রিপোর্টে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক পরিসংখ্যান। রিপোর্ট অনুযায়ী, ১৯৮৩ সালে দেশে তরুণ স্নাতকের সংখ্যা ছিল প্রায় ৫০ লক্ষ। ২০২৩ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬ কোটি ৩০ লক্ষ। কিন্তু কর্মসংস্থান সেই হারে বাড়েনি। ২৫ বছরের কম বয়সি স্নাতকদের মধ্যে বেকারত্বের হার প্রায় ৪০ শতাংশ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ২০২৩ সালে দেশের মোট বেকারদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই ছিলেন স্নাতক।

সরকারের Periodic Labour Force Survey (PLFS)-এর তথ্যও একই ছবি তুলে ধরছে। ২০২৬ সালের জুন মাসে ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সি যুবকদের বেকারত্বের হার বেড়ে ১৬.২ শতাংশে পৌঁছেছে। পাশাপাশি শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণের হারও কমেছে। অর্থাৎ, অনেক তরুণ দীর্ঘদিন চাকরি না পেয়ে কর্মসংস্থানের খোঁজ করাই ছেড়ে দিচ্ছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সমস্যাটি শুধু চাকরির সংখ্যা নয়, চাকরির মান নিয়েও। দেশে এখনও প্রায় ৯৪ শতাংশ মানুষ অসংগঠিত ক্ষেত্রে কর্মরত, যেখানে চাকরির নিরাপত্তা, সামাজিক সুরক্ষা ও নিয়মিত আয়ের নিশ্চয়তা সীমিত। অন্যদিকে সংগঠিত ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের সুযোগ মাত্র ৬ শতাংশের মতো। ফলে সরকারি ও স্থায়ী চাকরির জন্য প্রতিযোগিতা দিন দিন আরও তীব্র হচ্ছে।

PLFS-এর বিশ্লেষণে দেখা গিয়েছে, প্রতি ১০০ জন স্নাতকের মধ্যে মাত্র ৫০ জন কর্মরত। প্রায় ১৫ জনja সক্রিয়ভাবে চাকরি খুঁজছেন, কিন্তু কাজ পাচ্ছেন না। বাকি ৩৫ জন শ্রমবাজারের বাইরেই রয়েছেন। আরও উদ্বেগের বিষয়, মাত্র ২৬ জন নিয়মিত বেতনের চাকরি পান এবং খুব অল্প সংখ্যক কর্মীই লিখিত চুক্তি, বেতনসহ ছুটি ও সামাজিক নিরাপত্তার সুবিধা পান।
এদিকে শিক্ষার ব্যয়ও দ্রুত বাড়ছে। উচ্চশিক্ষা এবং প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য পরিবারগুলিকে আগের তুলনায় অনেক বেশি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। কোচিংয়ের খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একই সঙ্গে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মতো পেশাগত শিক্ষায় আসনের তুলনায় প্রতিযোগীর সংখ্যা বহুগুণ বেশি হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে চাপও বাড়ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের তরুণ জনসংখ্যা ভারতের অন্যতম বড় শক্তি। তবে এই বিপুল মানবসম্পদের জন্য পর্যাপ্ত, নিরাপদ ও দক্ষতাভিত্তিক কর্মসংস্থান তৈরি না হলে আগামী দিনে তা দেশের অর্থনীতি ও সমাজ—উভয়ের কাছেই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *