আহত হয়েও ১৮০ যাত্রীর প্রাণ বাঁচালেন ভারতীয় স্মিত!ভারতীয় পাইলটের প্রশংসায় পঞ্চমুখ গোটা বিশ্ব

ঘটনাটি ঘটে ফ্লাইদুবাইয়ের FZ1073 বিমানে।
বিমানটি দুবাই থেকে ইজরায়েলের তেল আভিভের দিকে যাচ্ছিল। বিমানের দায়িত্বে ছিলেন ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মছার। সবকিছু স্বাভাবিকভাবেই চলছিল। কিন্তু হঠাৎ ককপিটের পরিস্থিতি বদলে যায়। অভিযোগ, বিমানের কো-পাইলট ছুরি নিয়ে ক্যাপ্টেন স্মিতকে আক্রমণ করেন এবং বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন। ছুরির আঘাতে আহত হন স্মিত। তাঁর শরীর থেকে রক্ত বেরোতে শুরু করে। আহত অবস্থাতেও তিনি বিমানের নিয়ন্ত্রণ কো-পাইলটের হাতে তুলে দেননি।

অন্যদিকে ইজরায়েলি কর্তৃপক্ষের দাবি, কো-পাইলট বিমানটির সিস্টেমে হস্তক্ষেপ করে সেটিকে বিপজ্জনকভাবে নিচের দিকে নামানোর চেষ্টা করেছিলেন। ককপিটের ভিতরে তখন শুধু দুই পাইলটের মধ্যে লড়াই নয়, পুরো বিমানের নিরাপত্তাই ঝুঁকির মধ্যে পড়েছিল। এরপর বিমানের যাত্রীরা এমন একটি দৃশ্য দেখতে পান, যা তাঁরা সম্ভবত সারাজীবন ভুলতে পারবেন না। দুই পাইলটের মধ্যে ককপিটের ভিতরে লড়াই চলছে।পরিস্থিতি ক্রমশ ভয়াবহ হয়ে উঠছিল। ঠিক সেই সময় কয়েকজন যাত্রী এবং একজন ক্রু সদস্য ককপিটে ঢুকে পড়েন। তাঁরা কো-পাইলটকে নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন।

এই দ্রুত হস্তক্ষেপের পর পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব হয়। এরপর বিমানটির রুট পরিবর্তন করা হয়। তেল আভিভের দিকে না গিয়ে বিমানটিকে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করে। সবচেয়ে স্বস্তির খবর বিমানে থাকা যাত্রীরা নিরাপদে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। অবতরণের পর অভিযুক্ত কো-পাইলটকে গ্রেফতার করা হয়। এক ইজরায়েলি কর্মকর্তার দাবি, অভিযুক্ত ব্যক্তি ওমানের নাগরিক। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।

এবার আসা যাক সেই ভারতীয় পাইলটের কথায়, যাঁর হাতে সেই মুহূর্তে ছিল এত মানুষের জীবন। ক্যাপ্টেন স্মিত মছার গুজরাতের বাসিন্দা। ২০২২ সালের জুন মাসে তিনি ফ্লাইদুবাইয়ে ‘ডাইরেক্ট এন্ট্রি ক্যাপ্টেন’ হিসেবে যোগ দেন। তবে বিমান চালানোর অভিজ্ঞতা তারও অনেক আগে থেকে। প্রায় ১১ বছর স্পাইসজেটের সঙ্গে কাজ করেছেন স্মিত। ২০১১ সালের জুন থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত তিনি স্পাইসজেটে কর্মরত ছিলেন। বিশেষ করে বোয়িং ৭৩৭ ফ্লিটে তাঁর অভিজ্ঞতা ছিল। সহকর্মীদের কাছে বিমান নিরাপত্তা এবং নিয়ম মেনে চলার বিষয়েও তিনি গুরুত্ব দিতেন বলে জানা যাচ্ছে। শুধু নিজের দায়িত্ব পালন করাই নয়, অন্য পাইলটদেরও গাইড করেছেন তিনি।

স্মিতের শিক্ষাগত যোগ্যতার মধ্যেও রয়েছে ম্যানেজমেন্টের ডিগ্রি। তিনি ওয়েলিংকর ইনস্টিটিউট অফ ম্যানেজমেন্ট থেকে বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তবে এই ভয়ঙ্কর ঘটনার পর ক্যাপ্টেন স্মিত নিজেও গুরুতরভাবে আহত হন। তাঁকে তাবুকের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সেখানেই তাঁর চিকিৎসা চলছে।অন্যদিকে গ্রেফতার হওয়া কো-পাইলটকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ঠিক কী কারণে তিনি ক্যাপ্টেনকে আক্রমণ করেছিলেন? কেন তিনি বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন?আর বিমানটি কীভাবে বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে চলে গিয়েছিল? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর এখনও তদন্তের বিষয়।

ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুতর নিরাপত্তা ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বিমানটি যখন নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে নিচের দিকে নামতে শুরু করে, তখন যাত্রী এবং ক্রু সদস্যরা ককপিটে প্রবেশ করেন। তাঁরা দেখতে পান, কো-পাইলট বিমানের সিস্টেমে হস্তক্ষেপ করার চেষ্টা করছেন। দ্রুত হস্তক্ষেপের কারণেই বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে নেতানিয়াহু জানিয়েছেন। ভারতীয় এই ক্যাপ্টেনকে হিরোর তকমা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *