২০২৫-এর পুজোয় কলকাতায় জল জমা সত্ত্বেও মমতা ডান্ডিয়া নেচেছিলেন!’ বিস্ফোরক দাবি রত্না দেবনাথের।

চোরবাগান দুর্গাপুজোর প্যান্ডেলে ভিড়ের চাপে প্রাণহানির ঘটনায় শোকস্তব্ধ পরিবারগুলির সঙ্গে দেখা করছেন রাজনৈতিক নেতারা। সেই আবহেই পানিহাটির বিজেপি বিধায়ক রত্না দেবনাথের একটি মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক চর্চা। নিহত কিশোর প্রঞ্জল সরকারের পরিবারের সঙ্গে দেখা করার পর ২০২৫ সালের পুজোর প্রসঙ্গ তুলে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করেন তিনি।

রত্না দেবনাথের দাবি, ২০২৫ সালের পুজোয় এক ঘণ্টার বৃষ্টিতে কলকাতার বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়েছিল। তাঁর বক্তব্য, সেই পরিস্থিতির মধ্যেও তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ডান্ডিয়া নেচেছিলেন। চোরবাগানের দুর্ঘটনার প্রসঙ্গেই পুরনো এই ঘটনার কথা তুলে বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করেন বিজেপি বিধায়ক।

চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজোর প্যান্ডেলে গত ১৭ অক্টোবর সপ্তমীর সন্ধ্যায় আচমকা বৃষ্টি শুরু হওয়ার পর ব্যাপক ভিড় জমে যায়। ভিড়ের চাপে তৈরি হয় বিশৃঙ্খলা। ভয়াবহ সেই ঘটনায় ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। মৃতদের মধ্যে ছিল ১৩ বছরের প্রঞ্জল সরকারও।

প্রঞ্জলের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন রত্না দেবনাথ। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন তিনি। বিধায়কের দাবি, সন্তানকে হারানোর ধাক্কা এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেনি পরিবার। এই পরিস্থিতিতে পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং তাঁদের প্রয়োজনীয় সাহায্য পৌঁছে দেওয়া জরুরি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এরপরই চোরবাগানের ঘটনা নিয়ে সরকারের ভূমিকার প্রসঙ্গ সামনে আনেন বিজেপি বিধায়ক। রত্নার দাবি, বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী দুর্ঘটনার পর আহতদের দেখতে হাসপাতালে গিয়েছেন এবং নিহতদের পরিবারের সঙ্গেও দেখা করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, নিহতদের পরিবারকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ এবং সরকারি চাকরি দেওয়ার ঘোষণাও করা হয়েছে। আহতদের জন্যও আর্থিক সাহায্যের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অন্যদিকে, চোরবাগানের দুর্ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। পুজো কমিটির কয়েকজন কর্মকর্তাসহ সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে প্যান্ডেলের প্রবেশ ও বেরোনোর পথ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণের বিষয়গুলি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

প্রাথমিকভাবে সরু রাস্তা, পর্যাপ্ত নিরাপত্তার অভাব এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণে সমস্যার মতো বিষয় সামনে এসেছে। বৃষ্টির সময় বহু মানুষ আশ্রয়ের জন্য প্যান্ডেলের দিকে এগিয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছিল বলে অভিযোগ। সংকীর্ণ জায়গায় একসঙ্গে বিপুল সংখ্যক মানুষ ঢোকার চেষ্টা করায় ভিড়ের চাপ দ্রুত বেড়ে যায়।

এই ঘটনায় পুজো কমিটি এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

রত্না দেবনাথের বক্তব্য, এই দুর্ঘটনার জন্য দায়ীদের চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। ভবিষ্যতে যাতে কোনও পুজোর মণ্ডপে এমন ঘটনা না ঘটে, তার জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

তবে চোরবাগানের শোকের আবহে তাঁর ২০২৫ সালের পুজোর প্রসঙ্গ টেনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ রাজনৈতিক বিতর্ক আরও বাড়িয়েছে। একদিকে দুর্ঘটনার তদন্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পাশে দাঁড়ানোর দাবি, অন্যদিকে সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। ফলে চোরবাগানের দুর্ঘটনার পর নিরাপত্তার প্রশ্নের পাশাপাশি রাজনৈতিক তরজাও এখন আলোচনার কেন্দ্রে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *