আপনি কি চান নিজের এলাকার জল জমার সমস্যা, রাস্তার বেহাল দশা কিংবা নাগরিক পরিষেবা নিয়ে সরাসরি পুরসভায় কথা বলতে? তাহলে আপনার জন্য রয়েছে বড় খবর!

কলকাতা পুরসভার আগামী নির্বাচনে ২০৯টি ওয়ার্ডেই প্রার্থী দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে বিজেপি। রবিবার কলকাতায় সাংবাদিক বৈঠক করে এই কথা জানান কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা কলকাতা পুরভোটে বিজেপির দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা সুকান্ত মজুমদার। তাঁর বক্তব্য, কলকাতার উন্নয়নে যাঁরা ভূমিকা নিতে চান, তাঁদের জন্য নির্বাচনে অংশগ্রহণের দরজা খুলে দিতে চায় দল। শুধুমাত্র রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরাই নন, সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত মানুষদেরও সামনে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

সুকান্ত মজুমদার জানিয়েছেন, প্রার্থী হতে আগ্রহীদের আবেদন জমা দেওয়ার জন্য কলকাতার ৬, মুরলিধর সেন লেনে বিজেপির কেন্দ্রীয় নির্বাচনী কার্যালয়ে একটি ড্রপ বক্স রাখা হবে। তাই যাঁরা বিজেপির হয়ে কলকাতা পুরভোটে লড়তে চান, তাঁদের আবেদন জমা দেওয়ার বিষয়ে ওই কার্যালয়ের নির্দেশিকা জেনে নিতে হবে। প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে তিনটি বিষয়কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছে বিজেপি। প্রথমত, সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর জয়ের সম্ভাবনা কতটা। দ্বিতীয়ত, সাধারণ মানুষের কাছে তাঁর ভাবমূর্তি কেমন। এবং তৃতীয়ত, নিজের এলাকায় তিনি কতটা গ্রহণযোগ্য।

পাশাপাশি যুবসমাজকেও বিশেষ গুরুত্ব দিতে চাইছে বিজেপি। অর্থাৎ, শুধু দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা নয়, এলাকার মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ এবং জনসমর্থনও প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। প্রার্থী বাছাইয়ের পাশাপাশি কলকাতার উন্নয়ন নিয়েও একাধিক বিষয় তুলে ধরেছেন সুকান্ত মজুমদার। তাঁর বক্তব্য, বিজেপি ক্ষমতায় এলে কলকাতা পুরসভায় স্বচ্ছ প্রশাসন গড়ে তোলা হবে এবং ‘প্রোমোটার রাজ’-এর অবসান ঘটানোর চেষ্টা করা হবে। শহরের ঐতিহ্যবাহী বাড়ি ও স্থানগুলির পরিচিতি বজায় রাখা, আধুনিক পরিবহণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা, পরিকল্পিত নগরায়ণ, দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং পরিবেশ সংরক্ষণের উপরেও জোর দিয়েছেন তিনি।

কলকাতার যুবক-যুবতী এবং পড়ুয়াদেরও নির্বাচনী পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত করতে চায় বিজেপি। সুকান্ত মজুমদার জানিয়েছেন, প্রতিটি ওয়ার্ডে যুবসমাজের সঙ্গে আলোচনা করে স্টার্টআপ, দক্ষতা বৃদ্ধি, খেলাধুলা এবং গণপরিবহণের মতো বিষয় নিয়ে পরিকল্পনা তৈরির কথা ভাবা হচ্ছে। বিজেপির বক্তব্য, যুবকদের শুধু ভোটার হিসেবে নয়, শহরের ভবিষ্যৎ গঠনের অংশীদার হিসেবেও দেখতে চায় দল। সুকান্ত মজুমদারের বক্তব্য অনুযায়ী, নির্বাচনের দিনক্ষণ এখনও চূড়ান্ত হয়নি। রাজ্য নির্বাচন কমিশন কবে ভোটের দিন ঘোষণা করে, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *