“অপমান নয়, জ্ঞানেশ কুমারকে ‘ভারতরত্ন’ দেওয়া হোক!”দিল্লির রাজপথে বিরোধীদের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে হিন্দু সংগঠনের বিরাট দাবী!

ভোটার তালিকা থেকে লাখ লাখ অবৈধ বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারীর নাম ছেঁটে ফেলে ভারতীয় গণতন্ত্রকে সুরক্ষিত করার ঐতিহাসিক পদক্ষেপের পাশে এবার বুক চিতিয়ে দাঁড়াল দিল্লির রাজপথ! মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে রাহুল গান্ধী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অখিলেশ যাদবদের তথাকথিত চক্রান্ত ও মিডিয়া ট্রায়ালের বিরুদ্ধে গর্জে উঠল দেশের জাতীয়তাবাদী সমাজ। সোমবার দিল্লির বুকে ইউনাইটেড হিন্দু ফ্রন্ট, গ্লোবাল বৈশ্য ফেডারেশন এবং দেশের শীর্ষ সাধু-সন্ত ও সনাতনী সমাজের প্রতিনিধিরা এক বিশাল অবস্থান-বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ মিছিলে শামিল হলেন। সেখান থেকে স্পষ্ট আওয়াজ উঠল— বছরের পর বছর ধরে দেশের অভ্যন্তরীণ সুরক্ষাকে ধ্বংস করে চলা ভুয়ো ভোটব্যাংকের কারবারিদের কোমর ভেঙে দেওয়ার কারণেই আজ জ্ঞানেশ কুমারকে নিশানা করছে দিশাহারা বিরোধী দলগুলি!

বিক্ষোভ সমাবেশের মঞ্চ থেকে সাধু ও জাতীয়তাবাদী নেতৃত্ব একের পর এক বিস্ফোরক সত্য তুলে ধরেন। তাঁরা স্পষ্ট বলেন— জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বে পরিচালিত ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ বা এসআইআর অভিযানের মাধ্যমেই ভারতের নির্বাচন ব্যবস্থা থেকে সেই বিষাক্ত আগাছা পরিষ্কার করা সম্ভব হয়েছে। যে অবৈধ বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গাদের বেআইনি ভোটার কার্ড বানিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল টানা ১৫ বছর বাংলায় ক্ষমতায় টিকে ছিল এবং গুন্ডামি, তোলাবাজি ও সিন্ডিকেট রাজ কায়েম করেছিল— এসআইআর-এর কড়া পদক্ষেপে সেই লাখ লাখ অনুপ্রবেশকারীকে চিহ্নিত করে ভোটার তালিকা থেকে মুছে ফেলা হয়েছে। আর তার অনিবার্য পরিণতিতেই বাংলায় তৃণমূলের শোচনীয় পরাজয় ঘটেছে এবং নির্বাচনের পরপরই সীমান্ত দিয়ে দলে দলে অনুপ্রবেশকারীদের বাংলাদেশে পালানোর ছবি গোটা দেশ দেখেছে!

বিক্ষোভকারীদের দাবি— ভোটব্যাংকের সেই স্থায়ী শক্তি ধূলিসাৎ হয়ে যাওয়াতেই চরম আতঙ্কে ভুগছে রাহুল গান্ধী ও ইন্ডি জোটের নেতারা। জনগণের দ্বারা বারবার প্রত্যাখ্যাত হয়ে এবার তারা সাংবিধানিক কাঠামোর ওপর সরাসরি আক্রমণ শুরু করেছে। কমিশনের অভ্যন্তরীণ গণতান্ত্রিক মতামতকে বিকৃত করে একটি সংবাদপত্রের মাধ্যমে ক্যাবিনেট সচিবের কাছে অভিযোগ ফাঁসের যে খবর ছড়ানো হচ্ছে, তা আসলে পরিকল্পিত চক্রান্তের অংশ। কারণ ভারতের সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন দেশের প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কিংবা ক্যাবিনেট সচিব— কারও কাছে দায়বদ্ধ নয়; কমিশন সরাসরি মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে রিপোর্ট করে। এমনকি মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের ছুটি পর্যন্ত মঞ্জুর করেন রাষ্ট্রপতি। সেই বাস্তবতাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ক্যাবিনেট সচিবের কাছে চিঠি পাঠানোর নাটক সাজিয়ে আসলে জ্ঞানেশ কুমারের চরিত্রহনন করার ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করা হয়েছে।

মঞ্চ থেকে বিরোধীদের হুমকির কড়া জবাব দিয়ে নেতৃবৃন্দ বলেন— “যাঁরা আজ জ্ঞানেশ কুমারকে ইমপিচমেন্ট আর পদত্যাগের আল্টিমেটাম দিচ্ছেন, তাঁরা আসলে ভারতের ১৪০ কোটি প্রকৃত নাগরিকের ভোটাধিকারের শত্রু! দেশের অন্ন, চাকরি ও জমি দখল করে বসে থাকা উইপোকা রূপী অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে বিতাড়নের পথ প্রশস্ত করেছেন এই সাহসী সিইসি। তিনি কোনো অন্যায় করেননি, বরং ভারতীয় সংবিধানের মর্যাদা রক্ষা করেছেন।”

সমাবেশ শেষে ইউনাইটেড হিন্দু ফ্রন্ট ও সাধু সমাজের পক্ষ থেকে মহামান্য রাষ্ট্রপতি, দেশের প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে স্মারকলিপি দিয়ে জোরালো দাবি জানানো হয়— মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে কোনোভাবেই রাজনৈতিক অপশক্তির কাছে নতিস্বীকার করতে দেওয়া হবে না। উল্টে দেশের গণতন্ত্র ও ভৌগোলিক সুরক্ষায় তাঁর এই নিঃস্বার্থ ও ঐতিহাসিক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে দেশের সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মান ‘ভারতরত্ন’-এ ভূষিত করার জোরদার দাবি তুলে স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে গোটা দিল্লি! তোষণের রাজনীতি নিপাত যাক, সুরক্ষিত থাকুক ভারতের সার্বভৌমত্ব— দিল্লির এই জমায়েত থেকেই সেই স্পষ্ট বার্তা পৌঁছে গেল গোটা দেশে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *