তামিলনাড়ুর রাজনীতির গণ্ডি পেরিয়ে এবার পশ্চিমবঙ্গেও সাংগঠনিক পথচলা শুরু করল থালাপতি বিজয়ের দল TVK। পূর্ব বর্ধমানের ফাগুপুরে খুলে গেল তামিলাগা ভেত্রি কাজাঘমের প্রথম দলীয় কার্যালয়। আর এই কার্যালয় উদ্বোধনের সঙ্গে সঙ্গেই বাংলার মাটিতে সংগঠন বিস্তারের আনুষ্ঠানিক সূচনা হল বলে দাবি দলীয় নেতৃত্বের।
কিন্তু এখানেই প্রশ্ন—শুধু দলীয় কার্যালয় খোলা, নাকি এর পিছনে রয়েছে আরও বড় রাজনৈতিক পরিকল্পনা?
দেখুন, TVK-এর পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য কো-অর্ডিনেটর চৈতালি রায়-সহ বিভিন্ন জেলার নেতৃত্ব এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। অন্যান্য জেলা থেকেও সমর্থকদের উপস্থিতি ছিল। দলীয় নেতৃত্বের দাবি, বাংলায় তাঁদের প্রায় পাঁচ হাজার সমর্থক রয়েছেন।
তবে এখনই সরাসরি রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামতে চাইছে না TVK। বরং প্রথম ধাপে সামাজিক কাজের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করাকেই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এবার প্রশ্ন, কেন এই কৌশল?
দলীয় নেতৃত্বের বক্তব্য, তামিলনাড়ু থেকে নির্দেশ এসেছে—যে সমস্ত রাজ্যে TVK সংগঠন তৈরি করছে, সেখানে সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছতে হবে। সেই নির্দেশ মেনেই পশ্চিমবঙ্গেও সংগঠন বিস্তারের শুরুতে সামাজিক কাজকে সামনে রাখা হচ্ছে। বিভিন্ন সামাজিক কর্মসূচির মাধ্যমে মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে দলের।
অর্থাৎ, ভোটের আগে সরাসরি রাজনৈতিক প্রচারের বদলে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কাজকেই এখন সংগঠন তৈরির মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে TVK।
কিন্তু ভোটের ময়দানে নামার প্রশ্নটা কি একেবারেই নেই?
এখানেই গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন দলের রাজ্য কো-অর্ডিনেটর। তাঁরা চান TVK পশ্চিমবঙ্গেও নির্বাচনে লড়ুক। তবে কোন নির্বাচনে দল প্রার্থী দেবে, সেই সিদ্ধান্ত নেবে দলের উচ্চ নেতৃত্ব। অর্থাৎ, ভোটে লড়াইয়ের ইচ্ছার কথা রাজ্য নেতৃত্ব জানালেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের হাতেই।
শুধু ভোট নয়, সংগঠনের ভবিষ্যৎ কাজের ক্ষেত্র নিয়েও ইঙ্গিত দিয়েছে TVK। শিক্ষা এবং বেকারত্বের মতো বিষয় নিয়ে কাজ করার কথা জানিয়েছেন দলের রাজ্য নেতৃত্ব। পাশাপাশি আগামী দিনে জেলার বিভিন্ন প্রান্তে সংগঠন বিস্তার এবং সামাজিক কর্মসূচি চালানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।
আর এই জায়গাতেই বাংলার রাজনীতিতে নতুন একটি প্রশ্ন সামনে আসছে—দক্ষিণ ভারতের জনপ্রিয় অভিনেতা থেকে রাজনীতিক হয়ে ওঠা বিজয়ের দল কি এবার বাংলাতেও নিজেদের সংগঠন তৈরি করতে পারবে?
এই মুহূর্তে তার উত্তর নেই। কারণ, পশ্চিমবঙ্গে TVK-এর পথচলা সবে শুরু হয়েছে। প্রথম দলীয় কার্যালয় তৈরি হয়েছে পূর্ব বর্ধমানের ফাগুপুরে। আপাতত লক্ষ্য সামাজিক কাজের মাধ্যমে মানুষের কাছে পৌঁছনো এবং সংগঠনকে ধীরে ধীরে বিস্তৃত করা।
তবে দলের পক্ষ থেকে নির্বাচনে লড়ার আগ্রহের কথা প্রকাশ্যে আসায় ভবিষ্যতে বাংলার ভোটের রাজনীতিতে TVK-এর ভূমিকা কতটা তৈরি হয়, সেটাই এখন নজরে। ফাগুপুর থেকে বাংলায় TVK-এর প্রথম পদক্ষেপ—এখন সামাজিক কাজের মাধ্যমে জনসংযোগ কতটা বাড়ে, সংগঠন কতটা ছড়ায়, আর শেষ পর্যন্ত সেই পথ ভোটের ময়দানে পৌঁছয় কি না, নজর থাকবে পুরো ছবির দিকেই।