Enraged locals besieged the Pradhan's residence, demanding the return of 'cut money'.

ক্ষমতা হারাতেই তৃণমূল নেতাদের দোরগোড়ায় গণ – আদালত ! কাটমানি ফেরানোর দাবিতে প্রধানের বাড়ি ঘেরাও করল ক্ষুব্ধ জনতা !

 

কোচবিহারের কান্ড দেখলে বুঝতে পারবেন যে দুর্নীতি জাল কতটা জড়িয়েছে , আর কতটা নির্লজ্জ হতে পারে একটা দলের নেতারা …..

পাপের ঘড়া পূর্ণ হলে যা হয়, বাংলায় আজ ঠিক সেটাই ঘটছে। যে নেতারা এতদিন ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে গরিব মানুষের হকের টাকা লুটেছেন, আজ নবান্নে বিজেপি সরকার আসতেই তাঁদের অহংকার ধুলোয় মিশে গেছে। কোচবিহারের বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে এখন শুরু হয়েছে ‘কাটমানি’ ফেরতের মহাযজ্ঞ। দেওয়ানহাট গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান কাকলি বর্মন রায়ের বাড়ির সামনে রবিবার সকাল থেকে যা ঘটল, তা বিদায়ী শাসকদলের নেতাদের রাতের ঘুম কেড়ে নেওয়ার জন্য যথেষ্ট। অভিযোগ অত্যন্ত মারাত্মক। মোদীজির দেওয়া গরিবের আবাস যোজনার ঘর পাইয়ে দেওয়ার নাম করে এই তৃণমূল প্রধানের নেতৃত্বে চলেছে লক্ষ লক্ষ টাকার লুণ্ঠন। গ্রামের সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কোথাও ১০ হাজার, কোথাও ২০ হাজার, আবার কোথাও ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত কাটমানি খাওয়া হয়েছে। দেওয়ানহাটের বাসিন্দা বিশ্বনাথ বর্মনের মতো মানুষরা আজ বুক চিতিয়ে প্রধানের বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে বলছেন— “আমাদের টাকা ফেরত দাও।” কায়ক্লেশে ৩০ হাজার টাকা ঘুষ দিয়েও যিনি শেষ পর্যন্ত মাথার ওপর একটা পাকা ছাদ পাননি, তাঁর এই দীর্ঘশ্বাস আজ তৃণমূলের কফিনে শেষ পেরেক পুঁতে দিচ্ছে।

জনরোষের এই আগুন কেবল দেওয়ানহাটেই সীমাবদ্ধ নেই। তুফানগঞ্জ-২ ব্লকের মহিষকুচি-২ গ্রাম পঞ্চায়েতেও ছড়িয়েছে তীব্র উত্তেজনা। ক্ষমতার হাতবদল হতেই এলাকা জুড়ে কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন তোলাবাজ নেতাকর্মীরা। যদিও এই অশান্তির দায় রাজনৈতিকভাবে বিজেপির ওপর চাপানোর এক মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে তৃণমূল। তাদের দাবি, যুব তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি আমিনুর মিয়া কিংবা সিভিক ভলান্টিয়ার সাইমা খাতুনের বাড়িতে নাকি হামলা চালানো হয়েছে। কিন্তু রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি আসলে তৃণমূলের দীর্ঘদিনের চেনা রোগ। তৃণমূলের এই সাজানো অভিযোগকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়েছে গেরুয়া শিবির। বিজেপির জেলা সহ-সভাপতি উজ্জ্বল কান্তি বসাক স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এই হামলার সঙ্গে বিজেপির কোনো স্তরের কর্মী যুক্ত নয়। তুফানগঞ্জে তৃণমূলের ভেতরের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বই এখন প্রকাশ্যে চলে এসেছে। ক্ষমতা চলে যাওয়ায় ভাগ-বাঁটোয়ারা নিয়ে নিজেদের দলের লোকেরাই নিজেদের বাড়ি ভাঙচুর করছে, যাতে সুশাসনে ব্রতী বিজেপি সরকারকে কোনোভাবে কালিমালিপ্ত করা যায়। কিন্তু বাংলার মানুষ আর বোকা নন, তাঁরা ভালো করেই জানেন চোর কারা আর সাধু কারা।

শনিবারই দিনহাটার পুঁটিমারি গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান প্রিয়ঙ্কর রায় বর্মনের বাড়ির সামনে ফেটে পড়েছিল ক্ষুব্ধ জনতার বিক্ষোভ। আর রবিবার দেওয়ানহাটে। একের পর এক জনপ্রতিনিধির বাড়ির সামনে এই দৃশ্য প্রমাণ করে দিচ্ছে যে, তৃণমূল জমানার সেই অপশাসনের অবসান ঘটিয়ে মানুষ এখন মুক্ত বাতাসে শ্বাস নিচ্ছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বক্সিরহাট থানার পুলিশ এলাকায় টহল দিচ্ছে ঠিকই, তবে সুশাসনের প্রতীক বিজেপি সরকার স্পষ্ট করে দিয়েছে—আইন নিজের পথেই চলবে এবং কোনো দুর্নীতিবাজকে রেয়াত করা হবে না। বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর নবান্ন থেকে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে—জনগণের টাকা যারা লুটেছে, তাদের সেই টাকা ফেরত দিতেই হবে। তোষণ আর সিন্ডিকেটের দিন শেষ, বাংলায় এখন শুধুই ন্যায়ের রাজত্ব। কাটমানি খোরদের এই পতনই প্রমাণ করে যে, বাংলায় আসলেও এক নতুন ভোরের সূচনা হয়েছে।

আপনার কী মনে হয়? তৃণমূল নেতাদের কাছ থেকে কাটমানির টাকা আদায়ের এই গণবিক্ষোভ কি আসলেও গরিব মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার পথে বড় পদক্ষেপ? কমেন্টে আপনার রায় জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *