No more reliance on retired or contractual staff! Strict directives issued for a radical overhaul of state government departments!

অবসরপ্রাপ্ত আর চুক্তিভিত্তিক কর্মী দিয়ে আর কাজ নয় ! রাজ্যের সরকারি দপ্তরে আমূল পরিবর্তনের কড়া নির্দেশিকা!

পশ্চিমবঙ্গে ঐতিহাসিক পটপরিবর্তনের পর রাজ্যের সমস্ত সরকারি দপ্তরে স্বচ্ছতা ফেরাতে, আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং শিক্ষিত যুবসমাজের জন্য স্থায়ী সরকারি চাকরির সুযোগ সুনিশ্চিত করতে এবার এক যুগান্তকারী ও কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করল নব্য রাজ্য সরকার।

বিগত সরকারের জমানায় বছর ধরে সরকারি দপ্তরে অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের পুনরায় নিয়োগ করা এবং ম্যানপাওয়ার এজেন্সির মাধ্যমে চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়িয়ে যাওয়ার যে একটা অসুস্থ ব্যাকডোর সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল, সেই নিয়মে এবার পুরোপুরি রাশ টানার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে মুখ্যসচিব মনোজকুমার আগরওয়াল একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কড়া নির্দেশিকা জারি করে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, আগামী দিনে কোনো সরকারি দপ্তরেই অবসরপ্রাপ্ত বা চুক্তিভিত্তিক কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে অনিয়ম সহ্য করা হবে না।

প্রশাসনিক সূত্রের খবর, দীর্ঘদিন ধরে দেখা যাচ্ছিল যে একাধিক সরকারি দপ্তর এবং তাদের অধীনস্থ শাখাগুলো প্রায় নিয়মমাফিক অর্থ দপ্তর এবং কর্মীবর্গ ও প্রশাসনিক সংস্কার দপ্তরের কোনো তোয়াক্কা না করেই রি-এমপ্লয়মেন্ট বা ব্যাকডোর এজেন্সির মাধ্যমে চুক্তির মেয়াদ বাড়িয়ে চলাই অভ্যাসে পরিণত করেছিল। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে অর্থ দপ্তরের কোনো আগাম অনুমোদন ছাড়া বেআইনিভাবে মেয়াদের এক্সটেনশন পর্যন্ত দেওয়া হচ্ছিল। প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরণের চরম অব্যবস্থার কারণে একদিকে যেমন সাধারণ ছাত্র ও যুবসমাজ সরকারি চাকরি পাওয়ার সমান সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছিল, অন্যদিকে দপ্তরের অধস্তন ও নিয়মিত কর্মীদের পদোন্নতি আটকে গিয়ে গোটা প্রশাসনিক পরিকাঠামো ভেঙে পড়েছিল।

তাই প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে মুখ্যসচিব তাঁর নির্দেশিকায় স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের পুনর্নিয়োগ করা বা ম্যানপাওয়ার এজেন্সির চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো কোনো সাধারণ বা নিয়মিত প্রশাসনিক প্রথা হতে পারে না। যদি কোনো দপ্তর নিয়ম ভঙ্গ করে অর্থ দপ্তরের অনুমোদন ছাড়া এমন কাজ করে, তবে খতিয়ে দেখে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক এমনকি কঠোর পুলিশি ব্যবস্থা নেওয়ারও স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

প্রশাসনিক কাজে যাতে কোনো শূন্যতা তৈরি না হয়, তার জন্য এই নতুন নির্দেশিকায় এক দারুণ সুনির্দিষ্ট ও আধুনিক বিকল্প রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। নির্দেশিকায় সাফ বলা হয়েছে, কোনো সরকারি কর্মী অবসরে যাওয়ার ঠিক ৩ মাস আগে থেকেই সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে সেই পদটি পূরণের জন্য নতুন ও স্থায়ী কর্মী নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। এর ফলে নতুন যারা স্থায়ী চাকরি নিয়ে আসবেন, তাঁরা অবসর নিতে চলা অভিজ্ঞ কর্মীদের কাছ থেকে কাজ শিখে নেওয়ার পর্যালোচনামূলক সময় ও সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি প্রতি মাসে কোন দপ্তরে কতগুলো শূন্যপদ তৈরি হচ্ছে, তা বাধ্যতামূলকভাবে পোর্টালে পর্যালোচনা করতে হবে। তো তোষণ, দুর্নীতি ও ব্যাকডোর এন্ট্রির পুরনো প্রশাসনিক নীতিকে বিদায় জানিয়ে, রাজ্যের যোগ্য যুবকদের হাতে স্থায়ী সরকারি চাকরি তুলে দিতে এবং সরকারি দপ্তরে গতিশীলতা ও স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে রাজ্য সরকারের এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সত্যিই এক প্রগতিশীল, সুশাসিত ও উন্নত বাংলার অনন্য নজির সৃষ্টি করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *