সামনে-পিছনে ‘Escort Train’ মাঝখানে ছুটছে রাষ্ট্রপতির বিশেষ ট্রেন আর সেই ট্রেন ছুটতে শুরু করলেই কার্যত থমকে যায় গোটা রেলপথ!

সামনে-পিছনে ‘Escort Train’
মাঝখানে ছুটছে রাষ্ট্রপতির বিশেষ ট্রেন
আর সেই ট্রেন ছুটতে শুরু করলেই কার্যত থমকে যায় গোটা রেলপথ!
আকাশপথে ওড়া বন্ধ বিমান, স্টেশনে স্টেশনে কম্যান্ডো, বম্ব ডিসপোজ়াল স্কোয়াড, স্নিফার ডগ
ভারতের রাষ্ট্রপতি ট্রেনে সফর করলে ঠিক কতটা কড়া থাকে নিরাপত্তা?
কী কী ব্যবস্থা থাকে ট্রেনের ভিতর?

সম্প্রতি ওড়িশা সফরে এসে সাধারণ বিমানের বদলে ট্রেনে প্রায় ১৭০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়েছিলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। ভুবনেশ্বর থেকে ব্রহ্মপুর—এই সফরের জন্য ব্যবহার করা হয়েছিল বিশেষ ‘President Special’ ট্রেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় ইতিমধ্যেই ভাইরাল সেই ট্রেনের ছবি। বিলাসবহুল বেডরুম, ড্রয়িং রুম, ডাইনিং স্পেস থেকে অত্যাধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা—সব মিলিয়ে কোনও পাঁচতারা হোটেলের চেয়ে কম নয় রাষ্ট্রপতির এই বিশেষ ট্রেন। কিন্তু বিলাসিতা নয়, এই ট্রেনের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য তার নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

রাষ্ট্রপতির বিশেষ ট্রেন যখন রওনা দেয়, তখন সেটি আর পাঁচটা সাধারণ যাত্রিবাহী ট্রেনের মতো নয়। ট্রেনের আগে এবং পরে থাকে বিশেষ ‘Escort Train’। অর্থাৎ, রাষ্ট্রপতির ট্রেনকে কার্যত একটি নিরাপদ করিডরের মধ্যে দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। রাষ্ট্রপতির ট্রেন চলার সময়ে নির্দিষ্ট রুটে অন্য ট্রেনের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী রেললাইনও ব্লক করে রাখা হয়, যাতে রাষ্ট্রপতির ট্রেনের পথে কোনও ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি না হয়। শুধু রেলপথ নয়, নজর থাকে স্টেশন এবং আশপাশের এলাকাতেও।

ভুবনেশ্বর এবং ব্রহ্মপুর স্টেশনে মোতায়েন করা হয়েছিল বম্ব ডিসপোজ়াল স্কোয়াড, প্রশিক্ষিত স্নিফার ডগ, ব্যাগেজ স্ক্যানার এবং বিপুল সংখ্যক নিরাপত্তাকর্মী। GRP, RPF-এর পাশাপাশি মোতায়েন থাকে সশস্ত্র বাহিনী এবং বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কম্যান্ডো। রাষ্ট্রপতির সফরের আগে থেকেই স্টেশন, প্ল্যাটফর্ম, ট্রেনের যাত্রাপথ এবং আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলিতে শুরু হয় কড়া নজরদারি। এমনকি প্রশাসনের পক্ষ থেকে সফরের বিভিন্ন এলাকাকে ‘নো-ফ্লাইং জোন’ হিসেবেও ঘোষণা করা হয়েছিল। অর্থাৎ, রাষ্ট্রপতির ট্রেন যখন নির্দিষ্ট এলাকার উপর দিয়ে যাচ্ছে, তখন আকাশপথেও নিরাপত্তার বিশেষ ব্যবস্থা থাকে।

ভারতের রাষ্ট্রপতি দেশের সাংবিধানিক প্রধান। তাঁর যাতায়াতের নিরাপত্তা তাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর ট্রেনযাত্রার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা শুধু ট্রেনের ভিতরে সীমাবদ্ধ থাকে না—রেলপথ থেকে স্টেশন, রাস্তা থেকে আকাশপথ—পুরো যাত্রাপথকেই একটি সুরক্ষিত করিডরে পরিণত করা হয়। রাষ্ট্রপতির এই বিশেষ ট্রেন অবশ্য শুধু নিরাপত্তার জন্যই তৈরি নয়। দীর্ঘ সফরে যাতে রাষ্ট্রপতির দৈনন্দিন কাজকর্ম ব্যাহত না হয়, সেই ব্যবস্থাও থাকে। ট্রেনের ভিতরে রয়েছে বিলাসবহুল বেডরুম, ড্রয়িং রুম, ডাইনিং স্পেস এবং লাউঞ্জ। রয়েছে মিটিং করার জন্য বিশেষ জায়গা। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে থাকা আধিকারিক ও কর্মীদের জন্যও থাকে আলাদা থাকার ব্যবস্থা।

উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং প্রয়োজনীয় কাজ চালিয়ে যাওয়ার মতো পরিকাঠামো—সব মিলিয়ে ট্রেনটিকে তৈরি করা হয় একটি ‘চলন্ত অফিস’ হিসেবেও। এই বিশেষ ট্রেনকে অনেক সময় ‘মহারাজা এক্সপ্রেস’ নামেও উল্লেখ করা হয়। এতে রয়েছে Presidential Suite, Deluxe Cabin, Dining Car এবং Lounge-এর মতো বিশেষ ব্যবস্থা। একসময় দেশের রাষ্ট্রপতির যাতায়াতের অন্যতম প্রধান মাধ্যম ছিল রেল। দেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ থেকে শুরু করে পরবর্তী রাষ্ট্রপতিরাও বিভিন্ন সময়ে ট্রেনে সফর করেছেন। রাষ্ট্রপতির জন্য একসময় ব্যবহার করা হত বিশেষ ‘Twin Car Presidential Saloon’। এই বিশেষ স্যালুনে রাষ্ট্রপতির যাত্রাকে আরামদায়ক এবং নিরাপদ করার জন্য আলাদা ব্যবস্থা ছিল। ভারতীয় রেলের ২০২১-২২ সালের ইয়ারবুক অনুযায়ী, সেই ঐতিহাসিক কোচ বর্তমানে দিল্লির National Rail Museum-এ সংরক্ষিত রয়েছে। সেখানে এটি একটি ‘Star Exhibit’ হিসেবে রাখা হয়েছে।

Br

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *