৭ মে, ২০২৬। পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব দিন। সরকারিভাবে শেষ হয়েছে পূর্বতন সরকারের মেয়াদ। রাজ্যপাল আর. এন. রবি বিজ্ঞপ্তি জারি করে ভেঙে দিয়েছেন সপ্তদশ বিধানসভা। নিয়ম অনুযায়ী, এখন মন্ত্রিসভার কোনো অস্তিত্ব নেই, অস্তিত্ব নেই কোনো বিধায়কেরও। কিন্তু বাংলার বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেন এক সমান্তরাল মহাবিশ্বে বাস করছেন। বিধানসভা ভেঙে গেলেও, জনাদেশ ধুলোয় মিশে গেলেও—নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইলে আজও তিনি ‘পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী’। নামের আগে ‘প্রাক্তন’ শব্দটা বসাতেও কি এত ভয়? কুর্সির এই মোহ কি তবে সংবিধানের চেয়েও বড় হয়ে দাঁড়াল?
২৯৪টি আসনের মধ্যে ২০৭টি আসন জিতে বিজেপি এখন বাংলার নতুন ভাগ্যবিধাতা। তৃণমূল মাত্র ৮০টি আসনে সংকুচিত। নিজের খাসতালুক ভবানীপুরেও শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ১৫ হাজার ভোটে হেরেছেন মমতা। গণতান্ত্রিক রীতিনীতি অনুযায়ী, পরাজয় মেনে নিয়ে রাজভবনে গিয়ে ইস্তফা দেওয়াই ছিল দস্তুর। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হাঁটছেন সম্পূর্ণ উল্টো পথে। পরাজয়কে তিনি বলছেন ‘ভোট লুট’। ১০০টি কেন্দ্রে কারচুপির এক অদ্ভুত দাবি তুলে তিনি মানুষের রায়কে অপমান করছেন। যে মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে ভোট দিল, তাঁদের সিদ্ধান্তকে অস্বীকার করা কি একজন জননেত্রীর সাজে? আসলে পরাজয় মেনে নেওয়ার মতো রাজনৈতিক সৌজন্য বোধহয় তৃণমূলের অভিধানে নেই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই জেদ বাংলাকে ঠেলে দিয়েছে এক অদ্ভুত প্রশাসনিক সংকটে। বৃহস্পতিবার রাত থেকে শনিবার নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ পর্যন্ত—বাংলার শাসনভার কার হাতে? রাজ্যপাল তাঁকে ‘তদারকি মুখ্যমন্ত্রী’ হিসেবে থাকার অনুরোধ জানাননি, আবার মমতাও নিজে থেকে সরেননি। সংবিধান বিশেষজ্ঞরা একে বলছেন এক ‘ফ্রিকিশ ইনসিডেন্ট’ বা খামখেয়ালিপনা। যখন কোনো মন্ত্রিপরিষদ নেই, তখন সেই দেড় দিন বাংলার মানুষের সুরক্ষা কে দেবে? মমতা চাচ্ছেন তাঁকে বরখাস্ত করা হোক, যাতে তিনি ‘শহিদ’ সাজতে পারেন। কিন্তু বাংলার মানুষ আজ সব বোঝে। নিজের ইগো চরিতার্থ করতে গিয়ে গোটা রাজ্যকে অরাজকতার দিকে ঠেলে দেওয়া কি রাজধর্ম? একদিকে মমতার অসাংবিধানিক গোঁয়ার্তুমি, অন্যদিকে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিজেপির ঐতিহাসিক জয়। বাংলার মানুষ প্রমাণ করে দিয়েছে যে তারা তোলাবাজি, সিন্ডিকেট আর তোষণের রাজনীতি থেকে মুক্তি চায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজেকে মুখ্যমন্ত্রী লিখে রাখতেই পারেন, কিন্তু বাংলার মানুষের মন থেকে তিনি আজ ব্রাত্য। আগামী শনিবার ব্রিগেডের ময়দানে যখন নতুন সরকার শপথ নেবে, তখনই অবসান ঘটবে এই দেড় দিনের নাটকীয় সংকটের। ডিজিটাল স্ক্রিনে ‘মুখ্যমন্ত্রী’ লিখে রেখে বাস্তবকে কি আড়াল করা যায়? সত্য আজ দিনের আলোর মতো পরিষ্কার। ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়, কিন্তু মানুষের ভালোবাসা আর সম্মান পেতে গেলে পরাজয়কেও সম্মানের সাথে গ্রহণ করতে হয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই আচরণ কি ইতিহাসের পাতায় এক কালো অধ্যায় হয়ে থাকবে না? আপনার কী মনে হয়? কমেন্টে আপনার মতামত জানান।
বাংলার এই উত্তাল পরিস্থিতির প্রতিটি খবরের জন্য আমাদের সাথেই থাকুন।
