ডাবল ইঞ্জিনের বাংলায় সিনেমা হলও আর নিরাপদ নয়! মহিলাদের শ্লীলতাহানি করে রাতারাতি পার পেয়ে যাচ্ছে বিজেপির গুন্ডারা!

ভোটের প্রচারমঞ্চে উঠে বিজেপি নেতাদের ভয় আউট—ভরসা ইন’-এর চটকদার স্লোগান উড়িয়ে সাধারণ মানুষকে সুশাসনের মিথ্যা স্বপ্ন দেখানো হলেও বাস্তবে চিত্রটা একেবারেই বিপরীত। বিজেপির হাত ধরে বাংলায় কোনো ভরসা তো আসেইনি, বরং সাধারণ মানুষের প্রাত্যহিক জীবনে চেপে বসেছে এক চরম আতঙ্কের পরিবেশ। যে বাংলায় নারীরা স্বাধীনভাবে ঘুরে বেড়াতেন, সেখানে এখন জনবহুল ও অভিজাত শপিং মল কিংবা সিনেমার হলের ভিতরেও মহিলারা নিরাপদ নন। কসবার অ্যাক্রোপোলিস মলে ঘটে যাওয়া ন্যক্কারজনক ঘটনা এবং পরবর্তী আইনি প্রহসন বিজেপির মুখোশ টেনে খুলে দিয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে সরাসরি তোপ দাগা হয়েছে—বিজেপির সুশাসনের আড়ালে বাংলায় আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে এবং প্রশাসন অপরাধীদের ঢাল হিসেবে কাজ করছে।

ঘটনার সূত্রপাত কসবার বিখ্যাত অ্যাক্রোপোলিস মলের একটি সিনেমা হলে। এক দম্পতি সান্ধ্য শো-তে সিনেমা দেখতে গিয়েছিলেন। সেখানেই মদ্যপ অবস্থায় থাকা ছয়জন যুবক ওই মহিলার পথ আটকে দাঁড়িয়ে অসভ্যতা শুরু করে। একের পর এক অশ্লীল মন্তব্য, কুরুচিকর টোন-টিটকিরি এবং প্রকাশ্যে ওই মহিলার শ্লীলতাহানি করা হয়। প্রতিবাদ করতে গেলে ওই যুবকেরা রীতিমতো তাণ্ডব চালায়। খবর পেয়ে কসবা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যায়। কিন্তু আসল নাটক শুরু হয় পরদিন আদালতে তোলার পর। সোমবার আলিপুর কোর্টে অভিযুক্তদের পেশ করতেই তারা রাতারাতি জামিন পেয়ে অনায়াসে বাইরে বেরিয়ে আসে। গুরুতর অপরাধে যুক্ত থাকা দুষ্কৃতীরা কীভাবে ২৪ ঘণ্টাও কাটানোর আগে জামিন পেয়ে যায়, তা নিয়ে এখন তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে তৃণমূল।

আইনশৃঙ্খলার এই চরম অবনতি এবং পুলিশের বিতর্কিত ভূমিকা নিয়ে গর্জে উঠেছে জোড়াফুল শিবির। তৃণমূলের স্পষ্ট অভিযোগ, অপরাধীদের পিছনে রাজনৈতিক ছত্রছায়াই তাদের এত সাহস যোগাচ্ছ। যে মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচনের আগে বাংলার মা-বোনেদের সুরক্ষার বড় বড় কথা বলেছিলেন, তিনি এখন প্রশাসনিক দায়িত্ব শিকেয় তুলে নিজের আখের গোছাতে ব্যস্ত। বিজেপি নেতারা রাজপথে ও বিজ্ঞাপনে নিজেদের সফল শাসক হিসেবে তুলে ধরলেও বাস্তবে রাজ্যজুড়ে নারীদের নিরাপত্তা এখন তলানিতে এসে ঠেকেছে। একের পর এক শ্লীলতাহানি, হেনস্থা ও নির্যাতনের ঘটনায় অভিযুক্তরা ছাড় পেয়ে যাওয়ায় বিজেপির কুশাসনের নগ্ন রূপটাই স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

কসবার ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। প্রতিদিন রাজ্যের নানা প্রান্ত থেকে চুরি, ডাকাতি, পথঘাট ও গণমাধ্যমে নারীদের হেনস্থার খবর সামনে আসছে। যেখানে সিনেমা হলের ভেতরের সুরক্ষাই নিশ্চিত করা যাচ্ছে না, সেখানে সাধারণ মানুষ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কোথায় নিশ্চিন্তে যাবেন, সেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। নির্বাচনী প্রচারের ঝুলিতে সাজিয়ে রাখা বিজেপির ‘ভরসা’র দাবিগুলো এখন বাংলার মানুষের কাছে নিছক উপহাস ছাড়া আর কিছুই নয়। সাধারণ মানুষ এখন হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন, বিজেপির মিথ্যা আশ্বাসের ফানুস আসলে নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দিতে আসেনি, এসেছে আতঙ্ক ছড়াতে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *