গ্রীষ্মকাল মানেই আমের ভরা মরশুম। এই সময়ে আম খেতে পছন্দ করেন না এমন লোক খুবই কম আছেন। সেই সঙ্গে যদি দুধ মিশে যায়, তাহলে তো সোনায় সোহাগা! এমনই তৃপ্তির খাবার পেল মালদহের একটি প্রাথমিক স্কুলের পড়ুয়ারা। আর স্কুলে এসে এমন খাবার পেয়ে বেজায় খুশি পড়ুয়ার দল। পড়ুয়াদের পড়াশোনার আগ্রহ বাড়াতে রাজ্য সরকার স্কুলে মিড ডে মিলের ব্যবস্থা করেছে।
পড়ুয়াদের মিড ডে মিলে হিমসাগর, লক্ষ্মণভোগ, ল্যাংড়া। মালদহের এই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নিজস্ব উদ্যোগে মিড ডে মিলে বাড়তি মেনু আম। একদিকে যেখানে রাজ্য বাজেটে মিড ডে মিলে বরাদ্দ বাড়িয়ে করা হয়েছে ১০ টাকা ১৭ পয়সা, যেখানে খিচুড়ি, ভাত, ডাল, রাজমা, সয়াবিন ইত্যাদি খাবার দেওয়া হবে পড়ুয়াদের। এরই মধ্যে এবারে এক অভিনব উদ্যোগের ছবি ধরা পড়ল মালদহের ইংরেজবাজার ব্লকের সেকেন্দরপুর ম্যানেজড প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।
শিক্ষক ও স্থানীয় অভিভাবকদের সহযোগিতায় আমের মরশুমে মিড ডে মিলে প্রতিদিন স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের জন্য আম খাওয়ানো হচ্ছে আম। নিয়মিত ভাত, ডাল, তারকারির সঙ্গে পড়ুয়াদের খাওয়ানো পাতে দেওয়া হচ্ছে আম। স্কুলের সহকারী ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক বিবেক বরন মণ্ডল জানান, এতদিন বিশেষ দিনে আম কিংবা অন্যান্য বিশেষ খাবার খাওয়ানো হত ছাত্রছাত্রীদের। এলাকায় ব্যাপক পরিমাণে আম বাগান রয়েছে।কখনও স্থানীয় অভিভাবক খুশি মনে আম দিয়ে যান আবার কখনও শিক্ষকরা নিজ উদ্যোগে আম কিনে এনে ছাত্রছাত্রীদের মিড ডে মিলে খাওয়ায়। হিমসাগর, লক্ষ্মণভোগ, ল্যাংড়া-সহ বিভিন্ন প্রজাতির আম আনা হয়। আম মরশুম যতদিন রয়েছে খাওয়ানো হবে। শুধু তাই নয় গত প্রায় তিন বছর ধরে আম উৎসব করা হয় স্কুলে।
রাজ্যের সরকারি স্কুলগুলির মিড-ডে মিলের দায়িত্বে বড়সড় বদল এনেছে রাজ্য সরকার। এবার থেকে কলকাতা পুরনিগম এলাকার সরকারি স্কুলগুলিতে মিড-ডে মিলের খাবার তৈরির ও পরিবেশনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ বা ইসকনকে। সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, আপাতত পরীক্ষামূলকভাবে বা পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে কলকাতার স্কুলগুলিতে এই ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। তারই মধ্যে আম দুধের প্রয়াস, সত্যি প্রশংসনীয়।