শুভেন্দু অধিকারীকে লক্ষ্য করে সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কা এবং বর্ধমান থেকে সন্দেহভাজন জইশ-যোগ থাকা এক ব্যক্তিকে গ্রেফতারের ঘটনাকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এই আবহেই শুভেন্দু অধিকারীর পিতা ও প্রাক্তন সাংসদ শিশির অধিকারীর বক্তব্য বিষয়টিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। সম্প্রতি এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি একদিকে পুলিশের ভূমিকাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন, অন্যদিকে ছেলের নিরাপত্তা নিয়ে প্রকাশ্যে উদ্বেগও প্রকাশ করেছেন।
শিশির অধিকারীর বক্তব্যে বারবার উঠে এসেছে, শুভেন্দুর উপর হামলার আশঙ্কা নতুন নয়। তাঁর দাবি, অতীতেও একাধিকবার হামলার চেষ্টা হয়েছে। সেই অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে, নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনওরকম ঢিলেমি করা উচিত নয়। তাঁর মতে, রাজনৈতিক জীবনে সক্রিয় থাকার কারণে শুভেন্দু সবসময়ই ঝুঁকির মধ্যে থাকেন।
তিনি আরও বলেন, নিরাপত্তারক্ষীরা সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করলেও শুভেন্দু সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশতে পছন্দ করেন। সেই কারণেই অনেক সময় নিরাপত্তা বলয়ের বাইরে চলে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। শিশির অধিকারীর আশঙ্কা, এই স্বভাবই ভবিষ্যতে বড় ঝুঁকির কারণ হয়ে উঠতে পারে। তাই নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার উপর তিনি জোর দিয়েছেন।
বর্ধমান থেকে সন্দেহভাজন জইশ-যোগ থাকা ব্যক্তিকে গ্রেফতারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিনি দাবি করেছেন, কেন্দ্রের তরফে আগেই সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সেই সতর্কতার বাস্তব প্রমাণই মিলেছে এই গ্রেফতারির মাধ্যমে। যদিও এই দাবিগুলি তদন্ত ও সরকারি সংস্থার আনুষ্ঠানিক তথ্যের ভিত্তিতেই শেষ পর্যন্ত স্পষ্ট হবে।
রাজনৈতিক শত্রুতার প্রসঙ্গও এদিন জোর দিয়ে তুলে ধরেন শিশির অধিকারী। তাঁর অভিযোগ, বিভিন্ন সময়ে তাঁদের পরিবারকে রাজনৈতিকভাবে চাপে ফেলতে একাধিক মামলা, প্রশাসনিক বাধা এবং নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হয়েছে। তাঁর মতে, রাজনৈতিক মতভেদের কারণে দীর্ঘদিন ধরেই তাঁদের পরিবারকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
তবে অভিযোগের পাশাপাশি তিনি পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের ভূমিকাও প্রকাশ্যে প্রশংসা করেছেন। সন্দেহভাজন জঙ্গিকে গ্রেফতার করার জন্য পুলিশকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, নিরাপত্তা বাহিনীই এখন তাঁদের সবচেয়ে বড় ভরসা। একইসঙ্গে তিনি আবেদন জানান, ভবিষ্যতেও যেন একইরকম সতর্কতা বজায় রাখা হয় এবং কোনওরকম নিরাপত্তা ফাঁক না থাকে।
সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে তাঁর আবেগঘন আবেদন বাংলার স্বার্থে ওকে রক্ষা করুন।এই বক্তব্যে শুধু একজন রাজনৈতিক নেতার নিরাপত্তার প্রশ্ন নয়, একজন বাবার উদ্বেগও স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। তিনি ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনার পাশাপাশি নিরাপত্তা বাহিনীর উপরও আস্থা প্রকাশ করেছেন এবং আশা ব্যক্ত করেছেন যে, যাঁরা কোনও ধরনের ষড়যন্ত্র করছেন, তাঁদের উদ্দেশ্য সফল হবে না।
সামগ্রিকভাবে এই ঘটনায় দুটি বিষয় সামনে এসেছে। প্রথমত, সন্ত্রাসবাদ ও ভিআইপি নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে সতর্কতার প্রয়োজনীয়তা। দ্বিতীয়ত, রাজনৈতিক উত্তেজনার আবহে নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠছে। তদন্ত এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে এই ঘটনায় নতুন তথ্য সামনে আসতে পারে। তাই সরকারি তদন্তের ফলাফলের দিকেই এখন নজর থাকবে রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের।