Finally, fearing arrest, the Trinamool’s ‘Crown Prince’ turns to the Calcutta High Court!

অবশেষে গ্রেফতারির আতঙ্কে এবার কলকাতা হাইকোর্টে তৃণমূলের ‘যুবরাজ’ !

পশ্চিমবঙ্গে ঘটে যাওয়া ঐতিহাসিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর, আইনের শাসন ও বিচার ব্যবস্থার কড়া চাবুকের মুখে পড়ে এবার কার্যতই দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড তথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্নেহের ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বিগত ১৫ বছর ধরে যে দাপুটে নেতা রাজকীয় অহংকারে বুক ফুলিয়ে চলতেন, আজ রাজ্যে নতুন বিজেপি সরকার ও প্রশাসনের আপোষহীন আইনি তৎপরতার সামনে তাঁর সেই চিরপরিচিত ঔদ্ধত্য ধুলোয় মিশে গিয়েছে।

একের পর এক দুর্নীতি ও অপরাধের অভিযোগে রাজ্যের বিভিন্ন কোণ থেকে হওয়া ভূরি ভূরি এফআইআর-এর ধাক্কায় এখন গভীর অন্ধকারে হাবুডুবু খাচ্ছেন তৃণমূলের এই হেভিওয়েট সাংসদ। প্রতিনিয়ত গ্রেফতারির চরম আতঙ্কে দিন কাটানো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবার কোনো উপায় না দেখে তড়িঘড়ি কলকাতা হাইকোর্টের দরজায় কড়া নেড়েছেন এক নতুন মামলা নিয়ে। তাঁর আইনজীবীর কাতর আর্জি, “আমি সম্পূর্ণ অন্ধকারে রয়েছি, প্রতিদিন আমার বিরুদ্ধে নতুন নতুন সব এফআইআর দায়ের করা হচ্ছে। দয়া করে রাজ্য পুলিশকে নির্দেশ দিন, যাতে তারা স্পষ্ট করে জানায় যে এখনও পর্যন্ত আমার বিরুদ্ধে ঠিক কতগুলো মামলা করা হয়েছে।”

কিন্তু কপাল এবারও সহায় হলো না তৃণমূলের এই তথাকথিত যুবরাজের। কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চ থেকে এই মামলায় কোনো অন্তর্বর্তীকালীন রক্ষা কবচ বা স্বস্তি মেলেনি। বিচারপতির এজলাসে মামলার সওয়াল জবাবের সময় নতুন বিজেপি সরকারের এডিশনাল অ্যাডভোকেট জেনারেল বিল্বদল ভট্টাচার্য অত্যন্ত কড়া ভাষায় আইনি অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছেন।

আগামী ২২ জুলাই বুধবার এই মামলার পরবর্তী মেগা শুনানি হতে চলেছে এবং সেই দিনই রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে পুলিশের ডিরেক্টর জেনারেল বা ডিজে-র পক্ষ থেকে একটি সবিস্তার রিপোর্ট পেশ করে জানানো হবে যে, অতীতে ও বর্তমানে ঠিক কতগুলো গুরুতর অপরাধের মামলায় জড়িয়ে রয়েছে এই বিতর্কিত সাংসদের নাম। দীর্ঘদিন ধরে নিজের দলের পুলিশ ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে কোটি কোটি টাকার কেলেঙ্কারি ঢাকা দেওয়ার যে চেনা ব্লু-প্রিন্ট তৃণমূল জমানায় তৈরি হয়েছিল, আজ স্বাধীন প্রশাসনের কড়া অ্যাকশনে সেই পুরো সিস্টেমটাই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে।

আইনের এই মহাজাল থেকে ভাইপো যে কোনোভাবেই আর পালাতে পারছেন না, তার সবচেয়ে বড় অকাট্য প্রমাণ মিলল বিতর্কিত ‘ডিজে হুমকি মামলা’-য়। দীর্ঘ টালবাহানা এবং আইনের চোখে ধুলো দেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টার পর, শেষ পর্যন্ত কলকাতা হাইকোর্টের চরম আল্টিমেটাম ও কড়া চাবুকের সামনে নতিস্বীকার করতে বাধ্য হলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, এবারও যদি অভিষেক তাঁর কণ্ঠস্বরের নমুনা বা ভয়েস টেস্ট দিতে অস্বীকার করেন, তবে তাঁর উপর থেকে আদালতের দেওয়া সমস্ত আইনি রক্ষা কবচ বা শিল্ড এক ধাক্কায় তুলে নেওয়া হবে।

আদালতের এই অবধারিত হুঁশিয়ারির পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে মাথা নোয়ানো ছাড়া আর কোনো পথ খোলা ছিল না। আর সেই ভয়েই আজ বুধবার বেলা ১২টা নাগাদ বিধাননগরের এসিজেএম আদালতে সিআইডি অফিসারদের সামনে নিজের কণ্ঠস্বরের নমুনা দিতে পৌঁছাতে বাধ্য হলেন অভিষেক। একসময় যিনি আইনের ঊর্ধ্বে নিজেকে ভাবতেন, আজ জেলের গরাদের ভয়ে কাঁপা সেই নেতার এই করুণ দশা স্পষ্ট বুঝিয়ে দিচ্ছে যে, নতুন জমানায় অপরাধী যতই ক্ষমতাশালী হোক না কেন, আইনের হাত থেকে তাঁর রেহাই মেলা অসম্ভব। তো তোষণ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের নোংরা সংস্কৃতি শেষ করে, বাংলায় সমতার শাসন ও আসল জাস্টিস প্রতিষ্ঠা করতে আদালত ও বর্তমান সরকারের এই আপোষহীন লড়াই সত্যিই এক আইনের অনুশাসনপূর্ণ উন্নত ও সুন্দর বাংলার অনন্য নজির সৃষ্টি করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *