Following the Saffron Storm in Bengal the one

বাংলায় গেরুয়া ঝড়ের পর প্রশ্ন একটাই নতুন মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন ? অনেকে মনে করছেন পরবর্তী মূখ্যমন্ত্রী কী শুভেন্দু অধিকারী ?

বাংলার আকাশে আজ এক নতুন সূর্যোদয়। যে লড়াই শুরু হয়েছিল নন্দীগ্রামের মাটি থেকে, আজ তা ভবানীপুর জয় করে গোটা বাংলায় ছড়িয়ে পড়েছে। নন্দীগ্রামের পাশাপাশি ভবানীপুরেও ঐতিহাসিক জয় পেয়েছেন বাংলার মেজোপুত্র শুভেন্দু অধিকারী। চারদিকে এখন একটাই গুঞ্জন— তবে কি শুভেন্দুই হচ্ছেন বাংলার পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী? এই মাহেন্দ্রক্ষণে কী বলছেন তাঁর পিতা, বর্ষীয়ান রাজনীতিক শিশির অধিকারী? আজ আমরা ফিরে দেখব শুভেন্দুর সেই অক্লান্ত সংগ্রামের গল্প এবং শিশির অধিকারীর সেই বিস্ফোরক সত্য, যা তৃণমূলের কফিনে শেষ পেরেক পুঁতে দিয়েছে।
শুভেন্দু কি মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন? এই প্রশ্নের উত্তরে শিশির অধিকারী অত্যন্ত বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, বিজেপি একটি নিয়মতান্ত্রিক এবং দিল্লি-ভিত্তিক দল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহ এবং সর্বভারতীয় সভাপতিরাই বসে ঠিক করবেন বাংলার দায়িত্ব কার হাতে যাবে।

তবে বাবা হিসেবে শুভেন্দুর লড়াইকে কুর্নিশ জানিয়েছেন শিশিরবাবু। তিনি স্পষ্ট বলেছেন, শুভেন্দু অনেক আগেই বুঝে ফেলেছিলেন যে তৃণমূল নেত্রী এবং তাঁর পরিবার আসলে কী! আর সেই উপলব্ধি থেকেই গত ৫ বছর ধরে রাত-দিন এক করে দিয়েছেন শুভেন্দু। উত্তর থেকে দক্ষিণ— বাংলার প্রতিটি প্রান্তে ছুটে বেড়িয়েছেন তিনি। মানুষকে সংগঠিত করেছেন, মানুষের চোখের জল মুছেছেন। আজকের এই জয় আসলে সেই ৫ বছরের ত্যাগের ফল। এই সাক্ষাৎকারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও তীব্র নিশানা করেছেন শিশির অধিকারী। তিনি অভিযোগ করেছেন— অহংকার, পাহাড়প্রমাণ টাকা আর মানুষকে ‘গরু-ছাগলের’ মতো তুচ্ছ ভাবাই ছিল তৃণমূলের সংস্কৃতি। শিশিরবাবুর কথায়, “ওরা মানুষকে মানুষ বলে মনে করে না, ওরা চেনে শুধু টাকা।” ছাব্বিশ হাজার যোগ্য চাকরিপ্রার্থীর কান্না আজ তৃণমূলকে সিংহাসনচ্যুত করেছে। নিয়োগ কেলেঙ্কারি থেকে শুরু করে দুর্নীতির যে পাহাড় তৈরি হয়েছিল, শুভেন্দু একাই সেই পাহাড় সরিয়ে বাংলার মানুষের জন্য ন্যায়ের পথ তৈরি করেছেন। শিশির অধিকারী আজ সগর্বে বলছেন যে, শুভেন্দু চট করে চক্রান্তকারীদের চিনে নিয়েছিলেন বলেই আজ বাংলা এই কুশাসন থেকে মুক্তি পেল। অনেকে ভেবেছিলেন নন্দীগ্রামই হয়তো শেষ, কিন্তু শুভেন্দু প্রমাণ করে দিলেন তিনি আক্ষরিক অর্থেই ‘বাংলার ঘরের ছেলে’। একদিকে নিজের গড় রক্ষা করা, অন্যদিকে খোদ মুখ্যমন্ত্রীর গড়ে গিয়ে তাঁকে পরাজিত করা— এই অসাধ্য সাধন কেবল শুভেন্দু অধিকারীর পক্ষেই সম্ভব। মোদীজির আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে শুভেন্দু আজ বাংলার মানুষের শেষ ভরসা হয়ে উঠেছেন। শিশির অধিকারীর প্রতিটি কথা আজ বাংলার মানুষের মনের কথা। দুর্নীতিবাজদের হাত থেকে বাংলাকে উদ্ধার করতে শুভেন্দু যেভাবে নিজের জীবন বাজি রেখে লড়াই করেছেন, তার পুরস্কার আজ বাংলার মানুষ তাঁকে দু-হাত ভরে দিয়েছে।
বিজেপি হাইকম্যান্ড কী সিদ্ধান্ত নেবে তা হয়তো সময়ই বলবে, কিন্তু বাংলার মানুষের হৃদয়ে শুভেন্দু আজ মুখ্যমন্ত্রী হিসেবেই আসীন। শিশির অধিকারীর চোখের জল আর দাপুটে বক্তব্য আজ প্রমাণ করে দিল— পিসি-ভাইপোর রাজত্বের অবসান হয়েছে।

আপনার কী মনে হয়? শুভেন্দু অধিকারীই কি বাংলার যোগ্যতম মুখ্যমন্ত্রী? শিশির অধিকারীর বক্তব্যের সাথে আপনি কি একমত? কমেন্টে আমাদের জানান। বাংলার এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের প্রতিটি আপডেট পেতে আমাদের সাথেই থাকুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *