The BJP will undertake a new pledge to

মানুষের মনের আশা ভরসা আর স্বপ্ন পূরণের নতুন অঙ্গীকার নেবে বিজেপি ! কিন্তু প্রশ্ন হল কথা থেকে বাংলার মানুষের কথা শুনবে বিজেপির নতুন মন্ত্রিসভা !

স্বপ্ন নয়, এটাই আজ বাংলার কঠোর বাস্তব! ২০১১-র পর ২০২৬—দীর্ঘ ১৫ বছরের অপশাসন, দুর্নীতি আর তোষণের রাজনীতির অবসান ঘটিয়ে বাংলার পবিত্র মাটিতে আছড়ে পড়েছে গেরুয়া ঝড়। ওড়িশা আর বিহারের পর এবার বাংলার মসনদেও উড়ছে বিজয় নিশান। দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বাংলায় প্রথমবার ক্ষমতায় এল ভারতীয় জনতা পার্টি। হেভিওয়েট মন্ত্রীদের পতন আর তৃণমূলের দম্ভ চূর্ণ করে মানুষ বুঝিয়ে দিল—তারা প্রত্যাবর্তন নয়, চেয়েছিলেন প্রকৃত পরিবর্তন। আর সেই পরিবর্তনের কেন্দ্রবিন্দুতে এখন এক বিশাল প্রশ্ন—নবান্ন না রাইটার্স? কোথা থেকে চলবে বাংলার নতুন সরকার?

৪ মে-র সকাল থেকেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল যে বাংলার মানুষের হৃদয়ে এবার কেবল পদ্ম ফুটেছে। ২৯৩টি কেন্দ্রের গণনায় একের পর এক তৃণমূলের দুর্গ ধূলিসাৎ হতে শুরু করে। তৃণমূলের অন্তত ২০ জন মন্ত্রী আজ পরাজিত। কিন্তু সবচেয়ে বড় ধামাকাটি ঘটিয়েছেন নন্দীগ্রামের ভূমিপুত্র শুভেন্দু অধিকারী। কেবল নন্দীগ্রাম নয়, খোদ মুখ্যমন্ত্রীর গড়ে গিয়ে ভবানীপুরেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ১৫ হাজারেরও বেশি ভোটে পরাজিত করেছেন তিনি। এই পরাজয় কেবল একজন প্রার্থীর নয়, এই পরাজয় তৃণমূলের অহংকারের। বাংলার মানুষ প্রমাণ করে দিয়েছে যে, লুঠতরাজ আর চুরির রাজত্ব এবার শেষ। এখন আলোচনার তুঙ্গে নতুন সরকারের সচিবালয়। শোনা যাচ্ছে, নবান্নের সেই নীল-সাদা শাসন আর থাকছে না। বিজেপি সরকার নাকি ফিরে যেতে চায় ঐতিহ্যবাহী রাইটার্স বিল্ডিংয়ে। মনে পড়ে সেই কথা? গত বছর বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বুক ঠুকে বলেছিলেন—”২০২৬-এ আমাদের মুখ্যমন্ত্রী রাইটার্স থেকেই সরকার পরিচালনা করবেন।” নবান্ন থেকে সরিয়ে আবার কলকাতার হৃদপিণ্ড লালদিঘির পাড়ে প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড ফিরিয়ে আনা হবে কি না, তা নিয়ে জল্পনা এখন তুঙ্গে। বিজেপি মানেই ঐতিহ্যের সুরক্ষা, আর রাইটার্স মানেই বাংলার সেই পুরনো গৌরব। মোদীজির সরকার কি তবে নবান্নের তোষণ-সংস্কৃতি ঝেড়ে ফেলে রাইটার্স থেকেই সোনার বাংলা গড়ার কাজ শুরু করবে?
পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচনের জন্য আজ বাংলায় আসছেন অমিত শাহ অথবা রাজনাথ সিং। আর সেখানেই চূড়ান্ত হবে বাংলার ভাগ্যবিধাতার নাম। শুভেন্দু অধিকারী যেভাবে জোড়া আসনে জিতে দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, তাতে তাঁর নাম সবচেয়ে আগে ঘোরাফেরা করছে। তবে বিজেপি মানেই চমক! ওড়িশা বা ছত্তিশগড়ের মতো বিজেপি কি বাংলায় এমন কাউকে সামনে আনবে যা কেউ কল্পনাও করেনি? কোনো সৎ, নিষ্ঠাবান এবং বাংলার মাটির ভূমিপুত্রই কি বসবেন সেই পবিত্র আসনে? জল্পনা যাই হোক, আদর্শ যেখানে ‘অন্ত্যোদয়’ আর লক্ষ্য যেখানে ‘সোনার বাংলা’, সেখানে ব্যক্তি নয়, কাজই হবে শেষ কথা।১৫ বছরের অপশাসনের জঞ্জাল সরিয়ে এবার ঘর গোছানোর পালা। বিজেপি সরকার আসা মানেই কাটমানি বন্ধ, কর্মসংস্থান শুরু এবং মা-বোনেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়া। ৪ মে-র এই জনজোয়ার প্রমাণ করল যে সত্যের জয় সবসময় হয়। বাংলার নতুন মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন এবং নবান্ন না কি রাইটার্স থেকে সরকার চলবে—তা জানতে চোখ রাখুন আমাদের চ্যানেলে। বিজেপির এই মহাবিজয় নিয়ে আপনার প্রতিক্রিয়া কী? আপনি কাকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান? কমেন্টে আমাদের জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *