অহংকার, বড় বড় ভাষণ আর ধর্মীয় মেরুকরণের ফাঁপা নীতিতে ভর করে যারা এতদিন নিজেদের ‘অজেয়’ দাবি করত, সেই বিজেপি সরকারের মাথার ওপর থেকে এবার জনগণ যে হাত তুলে নিতে শুরু করেছে—তার জ্যান্ত প্রমাণ পাওয়া গেল বিহার, মধ্যপ্রদেশ ও গুজরাটের সাম্প্রতিক বিধানসভা উপনির্বাচনের ফলাফলে। অসীম ক্ষমতার দাপট দেখানো গেরুয়া শিবিরকে এই তিন রাজ্য এক চরম রাজনৈতিক শিক্ষা দিয়েছে। উপনির্বাচনের ফলাফলের অঙ্ক স্পষ্ট বুঝিয়ে দিচ্ছে, বিজেপি এখন ভারতের রাজনীতিতে ক্রমশ ব্যাকফুটে ঠেলে যাচ্ছে এবং তাদের পতন কেবল সময়ের অপেক্ষা।
সবচেয়ে বড় এবং লজ্জাজনক চড়টি বিজেপি খেয়েছে বিহারের বিখ্যাত বাঁকিপুর আসনটিতে। এই বাঁকিপুর ছিল বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীনের খাস রাজনৈতিক ঘাঁটি। গত ২০২৫ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও নীতিন নবীন এই আসন থেকে প্রায় ৫২ হাজার ভোটে জিতেছিলেন। আর মাত্র এক বছরের ব্যবধানে, সেই শক্ত ঘাঁটিতে বিজেপির গর্ব চুরমার হয়ে গেছে। প্রায় ১৯,৩২৪ ভোটের ব্যবধানে বিজেপি প্রার্থীকে হারিয়ে দিয়েছে জন সুরাজ পার্টির প্রধান প্রশান্ত কিশোরের দল। অর্থাৎ এক ধাক্কায় প্রায় ৭১ হাজার ভোটের বিশাল সুইং! এর থেকে বড় রাজনৈতিক বিপর্যয় বিজেপির জন্য আর কী হতে পারে? বিহারের মানুষ মোদী-নীতিকে যে আস্তাকুঁড়ে ছুঁড়ে ফেলছে, তা পানির মতো পরিষ্কার।
মধ্যপ্রদেশের দাতিয়া আসনেও রামরাজ্যের ঢাক পেটানো বিজেপি মুখ থুবড়ে পড়েছে। সমস্ত সরকারি ক্ষমতা ও এজেন্সির ভয় দেখিয়েও কংগ্রেসের থেকে এই আসন ছিনিয়ে আনতে ব্যর্থ হয়েছে বিজেপি। কংগ্রেস এখানে নিজের দখল বজায় রেখে বিজেপির তথাকথিত ‘হাওয়ায়’ জল ঢেলে দিয়েছে।
তবে সবচেয়ে চমকপ্রদ ও ভীতিকর ছবি দেখা গেছে বিজেপির ‘ল্যাবরেটরি’ বলে পরিচিত গুজরাটের মঞ্জলপুর বিধানসভায়। ২০২২ সালের নির্বাচনে এই মঞ্জলপুরে বিজেপির জয়ের ব্যবধান ছিল আকাশছোঁয়া—প্রায় ১ লক্ষ ৭ শত ৫৪ ভোট! অথচ ২০২৬-এর উপনির্বাচনে সেই ব্যবধান নাটকীয়ভাবে কমে এসে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩০ হাজার ৬৩০ ভোটে! অর্থাৎ ল্যাবরেটরির নিজের মাটিতেই এক লহমায় প্রায় ৭০ হাজার ভোটের ধস নেমেছে।
প্রচারের চমক দিয়ে আর মিডিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে আর যে মানুষের ক্ষোভ ঢাকা যাবে না, তা এবার পরিষ্কার। বিহারে সর্বভারতীয় সভাপতির কেন্দ্র হারানো, মধ্যপ্রদেশে ছিটকে যাওয়া আর গুজরাটে মার্জিনের এই চরম পতন প্রমাণ করছে—মানুষ বিজেপিকে প্রত্যাখ্যান করতে শুরু করেছে। দিল্লির মসনদ রক্ষা করা তো দূর, আগামী দিনে বিহার, মধ্যপ্রদেশ ও গুজরাটের মতো রাজ্যগুলিও বিজেপির হাতছাড়া হওয়া এখন স্রেফ সময়ের অপেক্ষা!
গুজরাটের মাটি কাঁপছে, বিহারের দুর্গ ছারখার— মোদী-শাহের অহংকারের বেলুন ফুটো করে রাজপথ এখন পরিবর্তনের গানে মুখরিত!
