আরও কড়া পদক্ষেপের তোড়জোড়! সরকারি স্বীকৃত পরিকাঠামোহীন বেসরকারি মাদ্রাসাগুলি বন্ধ করার পরিকল্পনা শুভেন্দু সরকারের।

রাজ্যের মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থায় আরও কড়া পদক্ষেপের পথে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। সরকারি স্বীকৃতি থাকলেও প্রয়োজনীয় পরিকাঠামোর অভাব, পড়ুয়ার সংখ্যা অত্যন্ত কম কিংবা কার্যত পড়ুয়াশূন্য—এমন প্রায় ২৫০টি বেসরকারি মাদ্রাসাকে চিহ্নিত করে বন্ধ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তবে সেখানে বর্তমানে যে অল্পসংখ্যক পড়ুয়া রয়েছেন, তাঁদের পড়াশোনায় যাতে মাঝপথে কোনও সমস্যা না হয়, সেই বিষয়টিও মাথায় রাখা হচ্ছে। তাই চলতি শিক্ষাবর্ষ শেষ হওয়ার আগে প্রতিষ্ঠানগুলি বন্ধ করার ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো করতে চাইছে না প্রশাসন।

রাজ্যজুড়ে মাদ্রাসাগুলির পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছিল বিস্তারিত সমীক্ষা। সেখানে দেখা হয়েছে প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন, পরিকাঠামো, পড়ুয়ার সংখ্যা, শিক্ষক-শিক্ষিকার সংখ্যা, পরিচালন ব্যবস্থা থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক নথিপত্র। সেই যাচাইয়ের ভিত্তিতেই এবার আরও এক দফা পদক্ষেপের প্রস্তুতি চলছে।

এর আগেই ন্যূনতম পরিকাঠামোর ঘাটতি-সহ বিভিন্ন কারণে ২৫২টি মাদ্রাসাকে বন্ধের নোটিস দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আরও প্রায় ১০০টি প্রতিষ্ঠানকে শো-কজ নোটিস পাঠানো হয়েছে। তাদের জবাব খতিয়ে দেখার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। অর্থাৎ, নোটিস পাওয়া মানেই সঙ্গে সঙ্গে সমস্ত প্রতিষ্ঠানে তালা পড়ছে—বিষয়টি তেমন নয়। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য এবং নথিও প্রশাসনিকভাবে যাচাই করা হচ্ছে।

এবার নতুন করে নজরে এসেছে আরও প্রায় ২৫০টি সরকারি স্বীকৃত বেসরকারি মাদ্রাসা। মূলত যেখানে প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো নেই, পড়ুয়ার সংখ্যা অত্যন্ত কম অথবা প্রতিষ্ঠান কার্যত অচল অবস্থায় রয়েছে, সেগুলিকেই চিহ্নিত করা হচ্ছে।

তবে এখানেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—মাদ্রাসা বন্ধ হলে সেখানে বর্তমানে পড়াশোনা করা পড়ুয়াদের কী হবে?

প্রশাসনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, পড়ুয়াদের শিক্ষা মাঝপথে বন্ধ করে দেওয়া হবে না। যে সমস্ত প্রতিষ্ঠানে অল্পসংখ্যক পড়ুয়া এখনও রয়েছেন, তাঁদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে। প্রয়োজনে তাঁদের অন্য উপযুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তরের ব্যবস্থাও করা হতে পারে। সরকারের লক্ষ্য, প্রতিষ্ঠান বন্ধের সিদ্ধান্তে কোনও পড়ুয়ার শিক্ষাজীবন যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

মাদ্রাসা শিক্ষা দফতরের মন্ত্রী খুদিরাম টুডু জানিয়েছেন, ডিসেম্বর মাসে চূড়ান্ত পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তাঁর বক্তব্য, বর্তমানে হাতে গোনা যে পড়ুয়ারা এই প্রতিষ্ঠানগুলিতে রয়েছেন, তাঁদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটিয়ে এখনই প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হবে না।

রাজ্যের সমীক্ষায় আরও একটি বড় তথ্য সামনে এসেছে। সরকারি হিসেব অনুযায়ী, ২,১৩২টি মাদ্রাসা প্রয়োজনীয় অনুমোদন বা স্বীকৃতি নিয়ে চলছে। অন্যদিকে ২,৩৯৬টি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় রেজিস্ট্রেশন বা সরকারি বোর্ডের অনুমোদন না থাকার বিষয়টি চিহ্নিত হয়েছে। সেই কারণেই যাচাই প্রক্রিয়া আরও কড়া করা হয়েছে।

অর্থাৎ, মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঘিরে প্রশাসনিক যাচাই এখানেই থামছে না। ২৫২টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই পদক্ষেপ, প্রায় ১০০টির জবাবের অপেক্ষা এবং এবার আরও প্রায় ২৫০টি মাদ্রাসা নজরে—শিক্ষাবর্ষ শেষ হলেই রাজ্যের মাদ্রাসা ব্যবস্থায় বড়সড় প্রশাসনিক পরিবর্তনের ছবি সামনে আসতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *