পুজোর মরশুমে রেশন গ্রাহকদের জন্য বড় ঘোষণা। দুর্গাপুজো থেকে কালীপুজো—উৎসবের এই সময় রেশন ব্যবস্থার মাধ্যমে বিনামূল্যে চিনি ও ময়দা দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া। অর্থাৎ, নিয়মিত খাদ্যশস্যের পাশাপাশি উৎসব উপলক্ষে এই দুই সামগ্রী দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
তবে এখানেই রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কোন ধরনের রেশন কার্ডে কতটা চিনি এবং কতটা ময়দা দেওয়া হবে, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। খাদ্য দফতরের আগামী সপ্তাহের বৈঠকের পরেই সেই পরিমাণ এবং কার্ডভিত্তিক বণ্টনের নিয়ম স্পষ্ট হবে।
খাদ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, উৎসবের মরশুমে চিনি ও ময়দার ব্যবহার স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যায়। দুর্গাপুজোর সময় নবরাত্রি চলায় বিভিন্ন পরিবারে নিরামিষ খাবারের আয়োজন হয়। আবার বাংলার ঘরে ঘরে তৈরি হয় নাড়ু, নিমকি-সহ নানা ধরনের পুজোর খাবার। ফলে এই সময় এই দুই সামগ্রীর চাহিদা বাড়ে। সেই বাড়তি চাহিদার কথা মাথায় রেখেই রেশন ব্যবস্থায় বিশেষ সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এবার প্রশ্ন, কতদিন পর্যন্ত মিলবে এই সুবিধা?
জানা যাচ্ছে, শুধু দুর্গাপুজোর কয়েকদিন নয়, কালীপুজো পর্যন্ত এই বিশেষ রেশন সুবিধা চালু রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে দুর্গাপুজো, লক্ষ্মীপুজো থেকে দীপাবলি—উৎসবের দীর্ঘ সময়জুড়েই উপভোক্তারা এর আওতায় আসতে পারেন।
তবে এখনও কোনও উপভোক্তারই ধরে নেওয়া উচিত নয় যে নির্দিষ্ট পরিমাণ চিনি বা ময়দা তিনি নিশ্চিতভাবে পাবেন। কারণ কার্ডের ধরন অনুযায়ী বরাদ্দের পরিমাণ এখনও ঠিক হয়নি। আগামী সপ্তাহের বৈঠকে খাদ্য দফতর সেই বিষয়টি চূড়ান্ত করবে। তারপরই জানা যাবে কোন কার্ডে কতটা করে চিনি ও ময়দা দেওয়া হবে।
অর্থাৎ, আপাতত সবচেয়ে বড় ঘোষণা হল—উৎসবের মরশুমে রেশন ব্যবস্থায় বিনামূল্যে চিনি ও ময়দা দেওয়ার সিদ্ধান্ত। কিন্তু আপনার কার্ডে ঠিক কতটা মিলবে, সেই তথ্যের জন্য অপেক্ষা করতে হবে খাদ্য দফতরের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে।
এর পাশাপাশি রেশনে দেওয়া চিনির মান নিয়েও উন্নতির কথা জানানো হয়েছে। অর্থাৎ শুধু অতিরিক্ত সামগ্রী দেওয়াই নয়, চিনির গুণমানের বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে বলে খাদ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে এসেছে।
পুজোর আগে বাজারে যখন নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর খরচ বাড়তে থাকে, তখন রেশন ব্যবস্থার এই ঘোষণাকে ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই উপভোক্তাদের নজর এখন পরবর্তী নির্দেশিকার দিকে। কার্ডের ধরন অনুযায়ী কতটা চিনি, কতটা ময়দা—সেই হিসেব পরিষ্কার হলেই জানা যাবে, আপনার পরিবারের রেশন কার্ডে উৎসবের এই সুবিধা ঠিক কতটা পৌঁছতে চলেছে। পুজোর মরশুমে রেশন গ্রাহকদের জন্য তাই বড় স্বস্তির ঘোষণা—বিনামূল্যে চিনি ও ময়দা দেওয়ার সিদ্ধান্ত ইতিমধ্যেই সামনে এসেছে।
তবে আপনার রেশন কার্ডে ঠিক কতটা চিনি ও ময়দা মিলবে, সেই হিসেব এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
আগামী সপ্তাহের খাদ্য দফতরের বৈঠকের পরই পরিষ্কার হবে, কোন কার্ডে কতটা বরাদ্দ এবং কবে থেকে এই সুবিধা মিলবে।