জ্ঞানেশ কুমারকে দেশের সর্বোচ্চ পদ্ম সম্মান দেওয়া উচিত!বিরোধীদের কোণঠাসা করে সুর চড়ালেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি !

নির্বাচন কমিশনের ঐতিহাসিক সংস্কার এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন অর্থাৎ ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ ঘিরে দেশজুড়ে রাজনৈতিক তোলপাড় শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনার যে প্রক্রিয়া নির্বাচন কমিশন কঠোর হাতে এগিয়ে নিয়ে চলেছে, তাতেই যেন সবচেয়ে বেশি অস্বস্তিতে পড়েছে দেশের তথাকথিত বিরোধী শিবির। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা থেকে শুরু করে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়— সবাই যখন একযোগে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের নিরপেক্ষ প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক নিশানা করতে মাঠে নেমেছেন, ঠিক তখনই ময়দানে নেমে সেই সমস্ত অপপ্রচারের কড়া জবাব দিলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য!

সংবাদমাধ্যমের সামনে বিরোধীদের একহাত নিয়ে শমীক ভট্টাচার্য এক চাঞ্চল্যকর ও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ দাবি তুলে ধরেন। তিনি সাফ জানান— “মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এমন একজন ব্যক্তিত্ব, যিনি দীর্ঘ কয়েক দশকের রাজনৈতিক সন্ত্রাস, ছাপ্পা ভোট আর কারচুপির অন্ধকারের অবসান ঘটিয়ে বাংলার সাধারণ মানুষকে নির্ভয়ে, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করার সাংবিধানিক অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছেন। ভারতীয় গণতন্ত্রকে সুরক্ষিত করতে তাঁর এই ঐতিহাসিক ও সাহসী ভূমিকার জন্য তাঁকে দেশের সর্বোচ্চ ‘পদ্ম সম্মান’ দেওয়া উচিত!”

এদিকে বিরোধী শিবিরের মিথ্যা ন্যারেটিভের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র সম্বিত পাত্রও। রাহুল গান্ধীর সাম্প্রতিক ভিত্তিহীন অভিযোগের জবাব দিয়ে তিনি স্পষ্ট প্রশ্ন তোলেন— যখনই দেশের কোনো প্রান্তে বিরোধীরা পর্যুদস্ত হয়, তখনই কেন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে কাঠগড়ায় তোলা শুরু হয়? যেখানে বিরোধী দল জয়ী হয়, সেখানে কি তবে কমিশন নিরপেক্ষ থাকে, আর হারলেই কমিশন পক্ষপাতদুষ্ট? বিদেশে গিয়ে এবং দেশের ভেতরে দাঁড়িয়ে ভারতীয় নির্বাচন কমিশনকে কালিমালিপ্ত করে দেশের সার্বভৌম ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার এই মরিয়া অপচেষ্টাকে তীব্র ভাষায় ধিক্কার জানান তিনি।

অন্যদিকে, বিদেশ সফর শেষে বিমানবন্দরে নেমেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যখন জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে লুকআউট সার্কুলার ও গ্রেফতারির মতো উগ্র রাজনৈতিক দাবি তুলছেন, কিংবা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফেসবুক লাইভে এসে পুরনো ভোটার তালিকায় পুনর্নির্বাচনের অবাস্তব দাবি তুলছেন, তখন স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে— ভুয়ো ভোটার বাদ দিয়ে প্রকৃত ও স্বচ্ছ ভোটার তালিকা তৈরির যে বলিষ্ঠ পদক্ষেপ কমিশন গ্রহণ করেছে, তাতেই বিরোধীদের সাজানো ঘুঁটি সম্পূর্ণ উল্টে গিয়েছে।

নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে— যেকোনো অভ্যন্তরীণ সাংবিধানিক আলোচনা বা প্রযুক্তিগত পর্যবেক্ষণ হলো গণতান্ত্রিক প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ারই একটি স্বাভাবিক ও সুস্থ অঙ্গ। এই নিয়ে বাইরে যে বিভাজনের ভুয়ো তত্ত্ব খাড়া করার চেষ্টা চলছে, তার কোনো বাস্তবিক ভিত্তি নেই। এসআইআর সহ ভোটার তালিকার সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত তিন নির্বাচন কমিশনারের সর্বসম্মত অনুমোদন ও পূর্ণ সমঝোতার মাধ্যমেই স্বচ্ছতার সাথে বাস্তবায়িত হয়েছে। জ্ঞানেশ কুমারের দক্ষ পরিচালনায় নির্বাচন কমিশন আজ যে কোনো রাজনৈতিক চাপের কাছে মাথা নত না করে দেশের কোটি কোটি সাধারণ নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকারের প্রকৃত পাহারাদার হিসেবে কাজ করে চলেছে, রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বের এই জোরালো সমর্থন তারই এক জ্বলন্ত প্রমাণ!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *