বিমানটির নাম—ফ্লাইদুবাইয়ের FZ1073।
দুবাই থেকে তেল আভিভের উদ্দেশে উড়েছিল বিমানটি। বিমানে ছিলেন মোট ১৭৪ জন।
সবকিছুই চলছিল স্বাভাবিকভাবে। কিন্তু মাঝ আকাশে আচমকাই পরিস্থিতি বদলে যায়।সহ-পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারের ওপর ছুরি নিয়ে হামলা করেন। ভাবুন, সেই সময় বিমানটি মাটির কয়েক হাজার ফুট ওপরে। ককপিটের ভেতরে একজন পাইলট গুরুতর আহত। বাইরে কেবিনে শতাধিক যাত্রী তাঁদের অধিকাংশই হয়তো জানেনই না, বিমানের ককপিটে কী ভয়াবহ ঘটনা ঘটে চলেছে। এরপর বিমান থেকে পাঠানো হয় জরুরি এবং বেআইনি হস্তক্ষেপের সংকেত।
বিমানের উচ্চতাও আচমকা কমে যায়। কিন্তু এখানেই শুরু হয় ক্যাপ্টেন মাচ্ছারের আসল লড়াই। একদিকে শরীরে ছুরির আঘাত এবং অসহ্য যন্ত্রণা। অন্যদিকে মাথায় একটাই চিন্তা বিমানটিকে নিরাপদে নামাতে হবে। কারণ তাঁর পেছনে রয়েছেন শতাধিক যাত্রী। এই অবস্থায় পাইলট হিসেবে তাঁর সিদ্ধান্ত এবং উপস্থিত বুদ্ধিই হয়ে ওঠে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। শেষ পর্যন্ত বিমানটি সৌদি আরবের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের তাবুক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করে। কিন্তু এই ঘটনার পর ক্যাপ্টেন মাচ্ছারের শারীরিক অবস্থা ছিল গুরুতর। আর তাঁর সেই অভিজ্ঞতার কথা সামনে আসতেই গোটা ঘটনাটি আরও গভীরভাবে আলোচনায় আসে।
এই ঘটনার পর শুক্রবার ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কথোপকথনে ক্যাপ্টেন মাচ্ছার সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন।প্রধানমন্ত্রী তাঁর সাহস এবং কঠিন পরিস্থিতিতে উপস্থিত বুদ্ধির প্রশংসা করেন এবং দ্রুত সুস্থতার জন্য শুভেচ্ছা জানান। আর প্রধানমন্ত্রীকে নিজের জীবনের আদর্শ বলেও উল্লেখ করেন ক্যাপ্টেন মাচ্ছার। আর প্রধানমন্ত্রীকে নিজের জীবনের আদর্শ বলেও উল্লেখ করেন ক্যাপ্টেন মাচ্ছার। তিনি জানান, যখন তাঁর কষ্ট হয়, তখন তিনি হনুমান চালিশা পাঠ করেন।
ছুরির আঘাতে যখন প্রচণ্ড ব্যথা হচ্ছিল, তখনও তিনি হনুমান চালিশা পড়ছিলেন। শুধু নিজের জন্য নয় তাঁর ন’বছরের ছেলেকেও তিনি প্রতিদিন পুজোর সময় হনুমান চালিশা পাঠ করে শোনান। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, দেশ থেকে দূরে থাকলেও দেশের সংস্কৃতি থেকে তিনি দূরে নন। তিনি বলেন, ক্ষত নিয়ে তিনি ভাবছেন না। বরং পুরো ঘটনাটিকে একটি যাত্রার মতো দেখছেন এবং তিনি আত্মবিশ্বাসী যে সুস্থ হয়ে উঠবেন।
