সংগঠনের ভিতর কাজ করা থেকে শুরু করে গুজরাটের রাজনীতি কীভাবে সেই ধাক্কা পেরিয়ে আবারও নিজের জায়গা তৈরি করেছিলেন নরেন্দ্র মোদী?

১৯৭০-এর দশকে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের প্রচারক হিসেবে কাজ শুরু করা থেকে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী এবং পরবর্তীতে দেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়া, প্রতিটি পর্যায়েই তাঁকে নানা রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছে।১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ ৭৬ বছরে পা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। একই সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক জীবনে যোগ হল আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক, শীর্ষ পদে তাঁর ২৫ বছর। ২০০১ সালের ৭ অক্টোবর গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে টানা ২৫ বছর ধরে কোনও না কোনও সরকারের শীর্ষে রয়েছেন তিনি।

২০০১ সালে গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার আগে BJP-র সাংগঠনিক রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন মোদী। গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রায় ১৩ বছর দায়িত্ব পালনের পর ২০১৪ সালে জাতীয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। সেই বছরই দেশের প্রধানমন্ত্রী হন তিনি। ২০১৯ সালে দ্বিতীয়বার এবং ২০২৪ সালে তৃতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। মোদির ২৫ বছরের জনজীবনকে সামনে রেখে ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত মাসব্যাপী ‘সেবা সংকল্প অভিযান’ পালন করছে BJP। মোদীর জন্মস্থান গুজরাতের ভাদনগরের সঙ্গে তাঁর লোকসভা কেন্দ্র বারাণসীকে যুক্ত করে একাধিক কর্মসূচির পরিকল্পনাও রয়েছে।

জীবনের পথে বাধা এসেছে বারবার, উঠেছে নানা প্রশ্ন, তাঁর বিরুদ্ধে কথা বলার মানুষও কম ছিল না। কিন্তু কোনও বাধাই তাঁকে থামিয়ে দিতে পারেনি। সমালোচনা, প্রতিকূলতা সবকিছুকে পিছনে ফেলে মানুষের জন্য কাজ করে যাওয়াকেই তিনি বেছে নিয়েছেন। দিন-রাতের হিসেব না করে মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন, মানুষের সমস্যা ও দেশের উন্নয়নকে সামনে রেখে এগিয়ে গিয়েছেন। পথ যত কঠিন হয়েছে, তাঁর লড়াইও যেন তত দৃঢ় হয়েছে। সেই কারণেই আজও তাঁর জীবনের গল্পে বারবার ফিরে আসে একটাই কথা বাধা যতই আসুক, থেমে না গিয়ে নিজের লক্ষ্যে এগিয়ে চলার গল্প।

 

১৯৫০ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর গুজরাটের ভাদনগরে জন্ম নরেন্দ্র মোদীর। শৈশবে পরিবারের চায়ের দোকানে সাহায্য করার পাশাপাশি ১৯৭০-এর দশকের গোড়ায় আরএসএস-এর সঙ্গে যুক্ত হন তিনি। পরে পূর্ণ সময়ের প্রচারক হিসেবে সাংগঠনিক কাজে যুক্ত হন। আরএসএসের কার্যালয়ে চা-ব্রেকফাস্ট তৈরি করা থেকে শুরু করে দৈনন্দিন নানা দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে তাঁকে। এমন তথ্য বিভিন্ন জীবনী ও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

 

তাই ৭৬ বছর বয়সেও তাঁর পথচলায় ক্লান্তির ছাপ নেই। জীবনে যত বাধা এসেছে, যত প্রতিকূলতা সামনে দাঁড়িয়েছে, কোনও কিছুই তাঁকে থামিয়ে দিতে পারেনি। সময়ের সঙ্গে বয়স বেড়েছে ঠিকই, কিন্তু মানুষের জন্য কাজ করে যাওয়ার সেই জেদ আর অটল মনোবল আজও একই রয়ে গেছে। তাঁকে দমানো সহজ নয়, কারণ প্রতিটি ধাক্কার পর আরও দৃঢ় হয়ে ঘুরে দাঁড়ানোই যেন তাঁর জীবনের পরিচয়। হয়তো পথ এখনও কঠিন, সামনে আরও অনেক চ্যালেঞ্জ তবু তিনি অটুট, তিনি অটল। কারণ থেমে যাওয়া তাঁর নিয়মে নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *