রেজিনগরে কত ভোট পাবে বিজেপি? নন্দীগ্রামে এবার কতটা বাড়বে মার্জিন? ভোট শেষেই হিসাব দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।

ভোট শেষ। এবার ফলের অপেক্ষা। আর তার আগেই নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর—দুই উপনির্বাচন নিয়ে বড় পূর্বাভাস দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, দুই কেন্দ্রেই জয় পাবে বিজেপি। শুধু জয় নয়, নন্দীগ্রামে আগের বিধানসভা নির্বাচনের তুলনায় এবার জয়ের ব্যবধান আরও অনেকটাই বাড়বে বলেও দাবি করেছেন তিনি।

নন্দীগ্রামে বিজেপির প্রার্থী হাসিরানি রথ কত ভোটের ব্যবধানে জিতবেন, তারও হিসাব দিয়েছেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামে বিজেপির যে মার্জিন ছিল, এবার তার থেকেও প্রায় পাঁচ থেকে ছয় গুণ বেশি ব্যবধানে জয় আসতে পারে। অর্থাৎ, ফল ঘোষণার আগেই নন্দীগ্রাম নিয়ে অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী বিজেপি নেতৃত্ব।

অন্যদিকে রেজিনগর নিয়েও একই রকম আশাবাদী শুভেন্দু। তাঁর দাবি, বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকার এক লক্ষ কুড়ি হাজারেরও বেশি ভোট পেতে পারেন। পাশাপাশি সন্তোষজনক ব্যবধানে রেজিনগরেও বিজেপি জয়ী হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছেন তিনি।

কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, কীসের ভিত্তিতে এমন হিসাব? ভোট শেষ হওয়ার পর রেজিনগরের ভোটের সমীকরণ নিয়েও নিজের ব্যাখ্যা দিয়েছেন শুভেন্দু।

তাঁর দাবি, রেজিনগরে সংখ্যালঘু মহিলা এবং যুবকদের একটা বড় অংশ বিজেপিকে ভোট দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, সংখ্যালঘু প্রবীণ ভোটারদের মধ্যে কংগ্রেস এবং আম জনতা উন্নয়ন পার্টির দিকে সমর্থন গিয়েছে।

শুভেন্দুর আরও দাবি, বিজেপি ক্ষমতায় এলে মুসলিমদের বঞ্চিত করা হবে—এমন প্রচার করা হয়েছিল। কিন্তু সেই প্রচারের প্রভাব ভোটে পড়েনি। অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধাভোগীদের প্রসঙ্গও টেনে আনেন তিনি।

শুভেন্দুর বক্তব্য অনুযায়ী, রাজ্যে অন্নপূর্ণা যোজনার মোট ১ কোটি ৫৮ লক্ষ উপভোক্তার মধ্যে প্রায় ২৪ লক্ষ মুসলিম রয়েছেন। তাঁর দাবি, নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগরের অন্নপূর্ণা যোজনার উপভোক্তাদের মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশ মুসলিম মহিলা বিজেপিকে ভোট দিয়েছেন। আবাস যোজনার সংখ্যালঘু উপভোক্তারাও বিজেপির পাশে ছিলেন বলে দাবি করেছেন তিনি।

তবে ভোটের ফল এখনও প্রকাশ হয়নি। ফলে শুভেন্দুর এই হিসাব শেষ পর্যন্ত কতটা মেলে, তার উত্তর মিলবে গণনার দিন।

এদিকে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের ভোট ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোরও কম হয়নি। ভোটের দিন বিরোধীদের তরফে বিভিন্ন জায়গায় রিগিং, এজেন্টকে বাধা এবং ভোটে অনিয়মের অভিযোগ তোলা হয়েছিল। বিজেপি অবশ্য সেই অভিযোগ পুরোপুরি খারিজ করেছে।

ভোটের হারও নজর কেড়েছে। বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর—দুই কেন্দ্রেই ভোটদানের হার প্রায় ৮০ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছেছিল। ফলে বিপুল ভোটদানের পর শেষ পর্যন্ত কার পক্ষে কতটা ভোট পড়ল, তা নিয়েই এখন জোর চর্চা।

শুভেন্দু অবশ্য শুধু বিজেপির জয়ের দাবি করেই থামেননি। তাঁর বক্তব্য, দুই কেন্দ্রেই তৃণমূল এবং বামেদের কার্যত কোনও প্রভাব ছিল না। নন্দীগ্রামে সিপিআই খুব কম ভোট পেতে পারে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। রেজিনগরে সিপিএমের ভোট নোটার থেকেও কম হতে পারে—এমন দাবিও করেছেন।

অর্থাৎ, ফল প্রকাশের আগেই দুই কেন্দ্রের ভোটের অঙ্ক নিজের মতো করে বুঝিয়ে দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। নন্দীগ্রামে বিশাল মার্জিন এবং রেজিনগরে এক লক্ষ কুড়ি হাজারের বেশি ভোট—এই পূর্বাভাস শেষ পর্যন্ত কতটা সত্যি হয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *