‘আরশোলা’ জনতা পার্টির বিক্ষোভ ঘিরে যখন দিল্লির রাজনীতি উত্তপ্ত, তখন সেই আন্দোলনের আঁচ বাংলায় কোনওভাবেই পড়তে দেওয়া হবে না বলে কড়া বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পঞ্চমীতে পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়ায় দুর্গাপুজোর উদ্বোধনে গিয়ে দেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে মুখ খোলেন তিনি। সেখান থেকেই অশান্তি এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে আন্দোলন নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন।
পাঁশকুড়ার মেচোগ্রাম সমাজশিক্ষা কেন্দ্র ও ব্যবসায়ী সমিতির দুর্গাপুজোর সূচনা করেন শুভেন্দু। অনুষ্ঠান শেষে দেশের পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, অশান্তি তৈরি করে দেশকে দুর্বল করার চেষ্টা চলছে। দেশের মানুষ এই ধরনের পরিস্থিতি মেনে নেবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শুভেন্দুর বক্তব্য, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে আক্রমণ করার চেষ্টা চলছে। এই ধরনের পরিস্থিতির মোকাবিলা আরও শক্ত হাতে করা প্রয়োজন। একইসঙ্গে বাংলার ক্ষেত্রে তাঁর স্পষ্ট বার্তা, রাজ্যে কোনওভাবেই এমন ঘটনা করতে দেওয়া হবে না।
মূলত দিল্লিতে চলা ‘আরশোলা’ জনতা পার্টির আন্দোলন এবং নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের প্রেক্ষিতেই তাঁর এই মন্তব্য। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ এবং তাঁর সিদ্ধান্ত নিয়ে জাতীয় স্তরে রাজনৈতিক বিতর্ক চলছে। এর মধ্যেই নির্বাচন কমিশনের দুই কমিশনারের বক্তব্য উপেক্ষা করে জ্ঞানেশ কুমার একের পর এক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন—এমন একটি রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়েছে।
এই আবহেই জ্ঞানেশ কুমারকে নিশানা করে পথে নেমেছিল ‘আরশোলা’ জনতা পার্টি। দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে-সহ আন্দোলনকারীরা বিক্ষোভে অংশ নেন। সেই কর্মসূচিকে ঘিরে দিল্লিতে পুলিশের ধরপাকড়ও হয়েছে। আন্দোলনকারীদের আটক করা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক চাপানউতোর তৈরি হয়েছে।
শুভেন্দুর বক্তব্যে উঠে আসে দেশের অশান্তির প্রসঙ্গও। তাঁর দাবি, দেশের ভিতরে অশান্তি তৈরি করে দেশকে দুর্বল করার চেষ্টা চলছে। এই ধরনের প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে দেশকে আরও শক্ত হাতে এগোতে হবে। পাশাপাশি তিনি বলেন, বাংলার মাটিতে কোনওভাবেই এই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে দেওয়া হবে না।
অর্থাৎ, দিল্লির আন্দোলনকে ঘিরে যে রাজনৈতিক উত্তাপ তৈরি হয়েছে, তার প্রভাব বাংলায় ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা নিয়েও সতর্ক অবস্থান নিলেন শুভেন্দু। পুজোর আবহে দাঁড়িয়ে তাঁর বক্তব্যে একইসঙ্গে উঠে এল আইনশৃঙ্খলা, দেশের নিরাপত্তা এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে চলা বিতর্ক।
তবে এদিনের অনুষ্ঠানে শুধু রাজনৈতিক পরিস্থিতি নয়, পাঁশকুড়ার উন্নয়ন নিয়েও বক্তব্য রাখেন তিনি। এলাকার উন্নয়ন কোনওভাবেই থেমে থাকবে না বলে আশ্বাস দেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, স্থানীয় বিধায়ক সিন্টু সেনাপতির হাত ধরে এলাকার উন্নয়নের কাজ এগিয়ে যাবে। উন্নয়নের ক্ষেত্রে অর্থ কোনও বাধা হবে না বলেও জানান তিনি।
ফলে একদিকে দিল্লির ‘আরশোলা’ আন্দোলন নিয়ে কড়া অবস্থান, অন্যদিকে নিজের এলাকার উন্নয়ন নিয়ে বার্তা—পুজোর মঞ্চ থেকে একইসঙ্গে রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক দুই দিকই সামনে রাখলেন শুভেন্দু। এখন দেখার, দিল্লির এই আন্দোলনকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ বাংলার রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলে।