পুজো শেষ হতেই রাজ্যজুড়ে শুরু হয়ে গিয়েছে পুরসভা নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক প্রস্তুতি। আর তার মাঝেই তমলুকে দাঁড়িয়ে তৃণমূল ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে বড়সড় মন্তব্য করলেন বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বের অন্যতম মুখ শুভেন্দু অধিকারী। হলদিয়া পুরভোটে তৃণমূলকে একটি আসনও জিততে দেওয়া হবে না বলে দাবি করেছেন তিনি। একইসঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘বাটি হাতে’ কলকাতায় পাঠানোর মন্তব্যও করেন শুভেন্দু।
সোমবার হলদিয়া-মেচেদা ১১৬ নম্বর জাতীয় সড়কের কাকগাছিয়ায় তমলুক সাংগঠনিক জেলার স্থায়ী বিজেপি কার্যালয় নির্মাণের ভূমিপুজো অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছিলেন শুভেন্দু। সেখানেই আসন্ন হলদিয়া পুরভোটের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী হাসিরানি রথ বিপুল ভোটে জয় পেয়েছেন। এবার সামনে হলদিয়া পুরসভার নির্বাচন। তাঁর দাবি, ৩০টি আসনেই বিজেপি বিপুল ভোটে জয়লাভ করবে এবং তৃণমূলকে খাতা খুলতে দেওয়া হবে না।
শুভেন্দুর বক্তব্যে উঠে আসে দলের সংগঠন আরও শক্তিশালী করার প্রসঙ্গও। তিনি জানান, কয়েক দিনের মধ্যে জেলা সভাধিপতি এবং দলিত নেতৃত্বকে নিয়ে বৈঠক করা হবে। সেই বৈঠকে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি বিরোধীদের রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করার পরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা হবে বলে জানান তিনি।
তবে শুধু পুরভোটের সমীকরণ নয়, এদিনের অনুষ্ঠানে বিজেপির দলীয় কার্যালয় নিয়েও বক্তব্য রাখেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, আগের সরকার বিজেপিকে দলীয় কার্যালয় তৈরি করার অনুমতি দিত না। বর্তমানে সরকারের পরিবর্তন হয়েছে এবং নিয়ম মেনেই দলীয় কার্যালয় তৈরি করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
নতুন কার্যালয়কে শুধুমাত্র সাংগঠনিক কাজের জায়গা হিসেবে দেখতে চাইছে না বিজেপি নেতৃত্ব। শুভেন্দু জানান, পূর্ব মেদিনীপুরের স্বাধীনতা সংগ্রামীদের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার জন্যও বিশেষ ব্যবস্থা করা হবে। তাঁর অভিযোগ, আগের সরকার স্বাধীনতা সংগ্রামীদের যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়নি। বিজেপি সরকার তাঁদের সম্মান দিয়ে তাঁদের জীবন ও কর্মকাণ্ড নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরবে বলেও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে শুভেন্দু ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের দুই মন্ত্রী হরেকৃষ্ণ বেরা ও অশোক দিন্দা। ছিলেন বিধায়ক প্রদীপ বিজলী, সুভাষচন্দ্র পাঁজা, নির্মাণ খাড়া, হাসিরানি রথ, সুব্রত মাইতি এবং তমলুক সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সভাপতি মলয় সিনহা-সহ দলের একাধিক নেতা। উপস্থিত ছিলেন পূর্ব মেদিনীপুরের জেলা সভাধিপতি বামদেব গুছাইতও।
এদিন তমলুক সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সভাপতি মলয় সিনহাও তৃণমূলকে কটাক্ষ করেন। তাঁর দাবি, নন্দীগ্রামে তৃণমূল প্রার্থী দিতে পারেনি এবং দলের সাংগঠনিক অস্তিত্বও কার্যত নেই। তাই হলদিয়া পুরভোটে তৃণমূল কীভাবে খাতা খুলবে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
সব মিলিয়ে পুজোর পর পুরভোটের প্রস্তুতি শুরু হওয়ার আগেই হলদিয়াকে ঘিরে শুরু হয়ে গেল তীব্র রাজনৈতিক তরজা। শুভেন্দুর এই মন্তব্যের পর এখন নজর থাকবে ভোটের ময়দানে তৃণমূল ও বিজেপির সংগঠন কতটা শক্তিশালী হয়ে ওঠে, আর শেষ পর্যন্ত হলদিয়ার পুরভোটে কোন দল কতটা সাফল্য পায়।
হলদিয়া পুরভোটের আগেই শুভেন্দু অধিকারীর এই হুঙ্কারে রাজনৈতিক লড়াই যে আরও তীব্র হতে চলেছে, তার ইঙ্গিত তো মিলেছে, তবে সভামঞ্চের দাবির বাইরে ভোটারদের মন কোন দিকে যায়, সেটাই শেষ পর্যন্ত ঠিক করবে পুরসভার ক্ষমতার অঙ্ক।