পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর রাজ্যের প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থার আমূল সংস্কার ঘটিয়ে, বিগত জমানার প্রাতিষ্ঠানিক মহাদুর্নীতির বিরুদ্ধে এবার এক ঐতিহাসিক ও প্রলয়ঙ্করী যুদ্ধের ডাক দিলেন মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শ্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিধানসভার অধিবেশনে দাঁড়িয়ে ভারতের নিয়ামক ও মহাহিসাব নিরীক্ষক অর্থাৎ ক্যাগ এবং লোকায়ুক্তের রিপোর্ট নিয়ে নজিরবিহীন আক্রমণাত্মক অবস্থান গ্রহণ করেছেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু অধিকারী সভার ভেতরে অত্যন্ত বলিষ্ঠ কণ্ঠে অভিযোগ করেন যে, বিগত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের আমলে ক্ষমতার চরম অপব্যবহার করে বছরের পর বছর ধরে এই সাংবিধানিক রিপোর্টগুলিকে বিধানসভায় পেশ করতেই দেওয়া হয়নি। শুধুমাত্র নিজেদের দলীয় নেতা ও মন্ত্রীদের আর্থিক দুর্নীতি এবং কাটমানি খাওয়ার আসল সত্য গোপন রাখার রাজনৈতিক স্বার্থেই এই অতি গুরুত্বপূর্ণ নথিগুলি ধামাচাপা দিয়ে রাখা হয়েছিল।
বুধবার বিধানসভার মঞ্চ থেকে এক কড়া ও অল-আউট হুঁশিয়ারি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, ক্যাগের রিপোর্টে যদি অর্থ তছরূপ ও দুর্নীতির কোনো সুস্পষ্ট প্রমাণ মেলে, তবে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী থেকে শুরু করে তৎকালীন ক্যাবিনেট মন্ত্রীদের কাউকেই একবিন্দুও রেয়াত বা ছাড় দেওয়া হবে না। অপরাধী যতই প্রভাবশালী হোক না কেন, প্রয়োজন হলে সরাসরি রাজ্যপালের কাছে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করার এবং কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার জোরালো প্রশাসনিক সুপারিশ পাঠাবে বর্তমান সরকার। শুভেন্দু অধিকারী ক্ষোভ প্রকাশ করে স্মরণ করিয়ে দেন যে, সংবিধান ও সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রতি বছর ক্যাগ ও লোকায়ুক্তের রিপোর্ট বিধানসভার টেবিলে রাখা বাধ্যতামূলক হলেও পূর্বতন সরকার তা এড়িয়ে গিয়ে আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়েছিল। তবে আগামী ২৫ জুলাই বিধানসভায় ক্যাগের নতুন রিপোর্ট আনুষ্ঠানিকভাবে পেশ হতে চলেছে এবং পরবর্তী অধিবেশনেই এই রিপোর্টগুলির ওপর পুঙ্খানুপুঙ্খ আলোচনা করে আইনি সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হবে।
বিগত জমানার বঞ্চনার উদাহরণ টেনে বিশেষ করে ২০২০ সালের আমফান ঘূর্ণিঝড়ের সময় সাধারণ গরিব মানুষের ত্রাণ বণ্টন ঘিরে হওয়া ব্যাপক আর্থিক কেলেঙ্কারির প্রসঙ্গ তুলে ধরে পূর্বতন সরকারের কঙ্কালসার রূপ জনসমক্ষে উন্মোচিত করেছেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মানবিক উদ্যোগের কথা স্মরণ করিয়ে তিনি জানান যে, আমফানের ক্ষয়ক্ষতি সামলাতে ও বাংলার মানুষকে বাঁচাতে কেন্দ্র থেকে প্রধানমন্ত্রী দু’দফায় মোট ৩,৭৫০ কোটি টাকা আর্থিক সাহায্য পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু সেই হাজার হাজার কোটি টাকার ত্রাণ তহবিলে ব্যাপক চুরি ও দুর্নীতি সংঘটিত হয়, যা নিয়ে পরবর্তীতে কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলাও দায়ের হয়েছিল। হাইকোর্টের স্পষ্ট নির্দেশে সেই সময় যে বিশেষ ক্যাগ তদন্ত হয়েছিল, তৎকালীন সরকার তার রিপোর্ট চেপে রেখেছিল এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। তো তোষণ ও সাধারণ মানুষের টাকা লুঠের নোংরা অধ্যায়ের বিসর্জন ঘটিয়ে, ক্যাগের ফাইল খুলে দুর্নীতির শিকড় উপড়ে ফেলতে এবং দোষীদের সঠিক বিচার সুনিশ্চিত করতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই সময়োপযোগী, কঠোর ও স্বচ্ছ সিদ্ধান্ত সত্যিই এক উন্নত, ন্যায়পরায়ণ ও স্বনির্ভর বাংলার অনন্য নজির সৃষ্টি করেছে।