পার্টি যদি সুযোগ দেয়, আমি ডায়মন্ড হারবারেই দাঁড়াব! শুভেন্দুর চ্যালেঞ্জের পাল্টা জবাব অভিষেকের, ২০২৯-এর লড়াই নিয়ে বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ।

২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচন এখনও অনেকটা দূরে। কিন্তু তার আগেই ডায়মন্ড হারবারকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়ে গেল বড় রাজনৈতিক তরজা। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর চ্যালেঞ্জের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পাল্টা জবাব দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। জানিয়ে দিলেন, দল সুযোগ দিলে তিনি ডায়মন্ড হারবার থেকেই ফের লোকসভা নির্বাচনে লড়বেন।

শুক্রবার বারুইপুরের সভা থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি দাবি করেন, ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে অভিষেক ডায়মন্ড হারবার থেকে দাঁড়ালে তাঁকে হারাবেন। শুধু হারানো নয়, আগের ব্যবধানের থেকেও অন্তত একটি ভোট বেশি নিয়ে জেতার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন তিনি।

শুভেন্দুর এই বক্তব্যের পরেই পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেন অভিষেক। তাঁর বক্তব্য, দল যদি তাঁকে সুযোগ দেয়, তাহলে তিনি ডায়মন্ড হারবার থেকেই লড়বেন। অর্থাৎ, শুভেন্দুর ছুড়ে দেওয়া চ্যালেঞ্জ সরাসরি গ্রহণ করেই নিজের পুরনো কেন্দ্র থেকে ফের লড়ার বার্তা দিলেন অভিষেক।

এই প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন অভিষেক। পাশাপাশি ডায়মন্ড হারবারে যাওয়ার প্রসঙ্গেও পাল্টা জবাব দেন তিনি। অভিষেক জানান, তিনি ডায়মন্ড হারবার যাবেন, কাঁথিতেও যাবেন। তাঁর দাবি, তিনি এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যাননি।

এদিনের বক্তব্যে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সংঘাতের প্রসঙ্গও উঠে আসে। বিজেপি নেতা অর্জুন সিং অভিষেকের বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রীকে হত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেছিলেন। সেই অভিযোগ প্রসঙ্গে অভিষেক বলেন, শুধু কথা বলে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ানোর কোনও অর্থ নেই। তাঁর দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে কোনও প্রমাণ থাকলে ইডি বা সিবিআই দিয়ে তদন্ত করা হোক এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

অভিষেক আরও বলেন, গত কয়েক মাসে তাঁর উপর দিয়ে অনেক ঝড় গিয়েছে। কিন্তু তিনি আত্মসমর্পণ করেননি। রাজনৈতিক চাপ বা ভয় দেখিয়ে তাঁকে দমানো যাবে না বলেও বার্তা দেন তিনি।

এই প্রসঙ্গে আরও কড়া সুরে অভিষেক বলেন, রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের মতো বেঁচে থাকা তাঁর কাছে বেশি সম্মানের। প্রয়োজনে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতেও তিনি প্রস্তুত। তাঁর বক্তব্য, জেলে পাঠানো বা ভয় দেখিয়ে রাজনৈতিকভাবে তাঁকে দমানো সম্ভব নয়।

অন্যদিকে, এই রাজনৈতিক সংঘাতের সূত্রপাত আরও একদিন আগে। বৃহস্পতিবার পুলিশকে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন অভিষেক। তিনি জানিয়েছিলেন, বিভিন্ন আধিকারিকের ভূমিকা নজরে রাখা হচ্ছে এবং তাঁদের নামও চিহ্নিত করা হচ্ছে। সেই বক্তব্যের পাল্টা জবাব দিয়েছিলেন শুভেন্দু।

শুভেন্দু তখন অভিষেককে নিশানা করে তাঁর বক্তব্যের সমালোচনা করেন। এমনকী অভিষেকের বিদেশযাত্রা নিয়েও কটাক্ষ করেন তিনি। দুই নেতার এই পাল্টাপাল্টি আক্রমণের মধ্যেই এবার সামনে চলে এল ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচন এবং ডায়মন্ড হারবারের লড়াই।

অর্থাৎ, নির্বাচন এখনও কয়েক বছর দূরে থাকলেও রাজনৈতিক মঞ্চে শুরু হয়ে গেল সম্ভাব্য লড়াইয়ের আগাম বার্তা। শুভেন্দুর চ্যালেঞ্জের জবাবে অভিষেকের সরাসরি অবস্থান স্পষ্ট করে দিল, ডায়মন্ড হারবারকে ঘিরে আগামী দিনেও দুই শিবিরের রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *