শনিবার কলকাতায় পৌঁছেই ব্রিগেডের শপথ মঞ্চ থেকে বাংলার জনশক্তিকে প্রণাম জানালেন নরেন্দ্র মোদি। বিশ্লেষকরা বলছেন এই বার্তার মধ্যেই স্পষ্ট রাজনৈতিক কৌশল লুকিয়ে ।বাংলার মানুষের আবেগ, সংস্কৃতি এবং গণতান্ত্রিক শক্তিকে সামনে রেখেই বিজেপি নিজেদের নতুন রাজনৈতিক অধ্যায় শুরু করতে চাইছে। ২০১৪ সালে সংসদের সিঁড়িতে মাথা নত করার সেই প্রতীকী মুহূর্ত এবারও দেখা গেল ব্রিগেডের মঞ্চে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন মোদির এই ভঙ্গি শুধুই সৌজন্য নয়, বরং জনতার সঙ্গে আবেগের সংযোগ গড়ে তোলার বড় রাজনৈতিক বার্তা।
সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করা ভিডিওতেও উঠে এসেছে বিশাল জনসমাগম ও উচ্ছ্বাসের ছবি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই জনসমুদ্রকে সামনে রেখে বিজেপি বাংলায় নিজেদের শক্তির প্রদর্শন করতে চেয়েছে। জনশক্তির প্রতি প্রণাম জানিয়ে মোদি বোঝাতে চেয়েছেন, মানুষের সমর্থনই তাদের আসল শক্তি। একই সঙ্গে ব্রিগেডের মঞ্চকে ব্যবহার করে বাংলার রাজনীতিতে নতুন বার্তা ও আত্মবিশ্বাস তুলে ধরার চেষ্টা করেছে বিজেপি নেতৃত্ব।
২৯৪ আসনের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় ২০৭টি আসনে জয় পেয়ে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। এ রাজ্যে এর আগে কখনও বিজেপি সরকার গঠন করতে পারেনি। মোদীর প্রধানমন্ত্রিত্বকালে সর্বভারতীয় স্তরেই বিজেপি আলাদা উচ্চতায় পৌঁছেছে। তবে পশ্চিমবঙ্গ জয়ের তাৎপর্য আলাদা। বিশ্লেষকরা বলছেন বিজেপি বোঝাতে চাইছে, তারা বাংলাকে শুধুমাত্র একটি রাজ্য হিসেবে দেখছে না, বরং নিজেদের শিকড়ের জায়গা হিসেবেও তুলে ধরছে।
এখানে আরও গুরুত্বপূর্ণ হল, বাংলার রাজনীতি বহু দশক ধরে মূলত বাম ও তৃণমূলের প্রভাবের মধ্যে ঘুরপাক খেয়েছে। সেই জমিতে বিজেপির এই উত্থান দেশের জাতীয় রাজনীতিতেও বড় বার্তা বহন করে। মোদীর নেতৃত্বে বিজেপি উত্তর, পশ্চিম বা হিন্দি বলয়ের দল এই ধারণা ভেঙে পূর্ব ভারতে নিজেদের শক্ত জমি তৈরি করল। তাই পশ্চিমবঙ্গ জয় বিজেপির কাছে শুধু আরেকটি রাজ্য দখল নয়, বরং রাজনৈতিক বিস্তারের এক নতুন অধ্যায়। রবীন্দ্রজয়ন্তীর আবহে শপথ, বাঙালি সংস্কৃতির প্রতীকী ব্যবহার, আর বাংলার প্রতি প্রণাম সব মিলিয়ে বিজেপি স্পষ্টভাবে আবেগ ও সংস্কৃতিকে রাজনৈতিক বার্তার সঙ্গে জুড়ে দিতে চাইছে।
পশ্চিমবঙ্গে ভোটপ্রচারের শেষলগ্নে এসে প্রচার মঞ্চ থেকে নরেন্দ্র মোদি বলেছিলেন, বাংলার মেজাজ বলছে, এবার পদ্ম ফুটছেই। অঙ্গ, কলিঙ্গের পর এবার বঙ্গে পদ্ম ফোটার পালা। নিশ্চিন্তে থাকুন, ৪ মে-র পর বিজেপি সরকারের শপথে আমি আসবই। কথা দিয়ে গেলাম। কথা রেখেই রাজ্যে বিজেপির সরকারের শপথে এলেন নরেন্দ্র মোদি।