একতা দিবসে মোদির মুখে দিমাগি নকশাল! দেশবিরোধী শক্তিকে কড়া বার্তা প্রধানমন্ত্রীর, নিশানায় বিরোধীরাও।

সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে দেশজুড়ে পালিত হল রাষ্ট্রীয় একতা দিবস। শনিবার গুজরাটের একতা নগরে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেখান থেকেই দেশের ঐক্য, সামাজিক সংহতি এবং বিরোধী রাজনীতি নিয়ে একাধিক কড়া বার্তা দেন তিনি। ভাষণে উঠে আসে দিমাগি নকশাল প্রসঙ্গও। প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগ, এই ধরনের শক্তি দেশের মধ্যে অস্থিরতা তৈরি করার চেষ্টা করছে।

সর্দার প্যাটেলের ভূমিকার কথা তুলে ধরে মোদি বলেন, স্বাধীনতার পর দেশকে ঐক্যবদ্ধ করার ক্ষেত্রে তাঁর অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য, সর্দার প্যাটেল শুধু দেশের ভৌগোলিক সীমাকে একত্রিত করেননি, বরং দেশের মানুষকেও ঐক্যের বন্ধনে যুক্ত করেছিলেন। দেশভাগের পর নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও ভারতকে একসঙ্গে ধরে রাখার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা স্মরণ করেন মোদি।

এরপরই দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সতর্কবার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর দাবি, দিমাগি নকশালরা সমাজে অস্থিরতা তৈরি করার চেষ্টা করছে। শুধু তাই নয়, গুজব ছড়ানো এবং দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য সমাজমাধ্যমকে ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

মোদির বক্তব্য, এই ধরনের প্রবণতার বিরুদ্ধে দেশের মানুষকে একসঙ্গে দাঁড়াতে হবে। তাঁর মতে, সংবিধান দেশের নাগরিকদের প্রতি দায়িত্বশীল থাকার কথা বলে। তাই দেশের ঐক্য এবং সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষা করাও প্রত্যেকের দায়িত্ব।

তবে শুধু সমাজমাধ্যমে ছড়ানো গুজব বা অস্থিরতার অভিযোগেই থামেননি প্রধানমন্ত্রী। বিরোধী দলগুলির ভূমিকা নিয়েও সরাসরি প্রশ্ন তোলেন তিনি।

 

মোদির অভিযোগ, বিরোধীরা তাদের দায়িত্বশীল ভূমিকা থেকে সরে গিয়ে এমন অবস্থান নিচ্ছে, যা দেশের মধ্যে বিভাজন তৈরি করতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, সুস্থ গণতন্ত্রে বিরোধীদের কাজ সরকারের ভুলত্রুটি তুলে ধরা এবং বিকল্প নীতি সামনে রাখা। কিন্তু তাঁর অভিযোগ, বিরোধীরা এখন শুধুমাত্র বাধা তৈরির রাজনীতিতে জোর দিচ্ছে। এমনকি সংবিধান নিয়েও বিরোধীদের অবস্থানকে আক্রমণ করেন তিনি।

দেশের মানুষের মধ্যে বিভাজন তৈরি এবং সংঘাত উসকে দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন মোদি। তাঁর বক্তব্য, ভারতকে দুর্বল করার যে কোনও প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

এদিন কংগ্রেস-সহ বিরোধীদেরও নিশানা করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর দাবি, দীর্ঘ সময় ক্ষমতার বাইরে থাকার হতাশা থেকেই বিরোধীদের মধ্যে এই ধরনের আচরণ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি বিদেশে গিয়ে কার সঙ্গে বৈঠক হচ্ছে এবং কোন ভারতবিরোধী শক্তি তাদের সমর্থন করছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তবে এই অভিযোগগুলির নির্দিষ্ট প্রমাণ বা কোনও ব্যক্তির নাম ভাষণে জানাননি প্রধানমন্ত্রী।

রাষ্ট্রীয় একতা দিবসের মঞ্চ থেকে তাই সর্দার প্যাটেলের ঐক্যের বার্তার পাশাপাশি বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও সরব হলেন মোদি। দেশকে বিভাজনের যে কোনও প্রচেষ্টা রুখতে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বানই ছিল তাঁর বক্তব্যের অন্যতম মূল বার্তা।

দিমাগি নকশাল থেকে বিরোধীদের ভূমিকা—একতা দিবসের মঞ্চে প্রধানমন্ত্রীর একাধিক কড়া মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক যে আরও বাড়বে, তা বলাই যায়। এবার এই বক্তব্যের পাল্টা প্রতিক্রিয়া বিরোধীদের তরফে কী আসে, নজর থাকবে সেদিকেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *