বিজেপির তৃণমূলী করণ নিয়ে দলের অন্দরে ধরতে পারে ফাটল ! বিজয়ের আবহেই বিজেপিকে চরম সতর্কবার্তা আরএসএস সংঘের !

রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর নবান্নের ক্ষমতায় আসার সাফল্য সত্ত্বেও বিজেপির অন্দরে বাড়ছে চরম অস্বস্তি ও আত্মসমীক্ষার চাপ! দলীয় সংগঠনের অভ্যন্তরে ‘তৃণমূলীকরণ’ এবং নিচুতলায় লাগামহীন ‘বেনোজল’ প্রবেশ করা নিয়ে বিজেপি নেতৃত্বকে এবার প্রকাশ্যে ও নজিরবিহীনভাবে সতর্ক করল রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের নিজস্ব মুখপত্র ‘স্বস্তিকা’।

তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়া তিন প্রাক্তন সাংসদ— সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইককে তড়িঘড়ি রাজ্যসভার টিকিট দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিচুতলার কর্মীদের মনে যে প্রশ্ন জেগেছিল, সেই প্রসঙ্গেই সোজাসুজি তোপ দাগা হয়েছে সংঘের সম্পাদকীয়তে। স্বস্তিকার তরফে সাফ বার্তা দিয়ে বলা হয়েছে— মানুষ বিশ্বস্ততা ও পরিবর্তনের আশায় বিজেপিকে ক্ষমতায় এনেছে। কিন্তু যদি মাত্র ২ শতাংশ ভোটারের মনেও এমন ধারণা তৈরি হয় যে, এই বিজেপি সরকার ১৫ বছর ধরে চলে আসা তস্কর রাজের অন্য পিঠ মাত্র— তবে ৯০ শতাংশ সমর্থক ও ভোটার বিজেপি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে এক মুহূর্তও দ্বিধা করবে না!

গত পাঁচ দশক ধরে সিপিএম ও পরবর্তী সরকারের আমল থেকে চলে আসা তোলাবাজি, সামাজিক অপরাধ এবং নেতা-অপরাধীদের মধ্যবর্তী সমঝোতার সংস্কৃতির কড়া সমালোচনা করা হয়েছে এই সম্পাদকীয়টিতে। ধানতলা, বানতলা, নেতাই, কিংবা সাম্প্রতিক কালের সন্দেশখালি ও আরজি করের মতো অপরাধে যেভাবে অপরাধীরা রেহাই পেয়ে এসেছে, বিজেপি শাসনে তার যেন কোনো পুনরাবৃত্তি না ঘটে, তার জন্য সতর্ক করা হয়েছে।

সংঘ মুখপত্রের স্পষ্ট পর্যবেক্ষণ— রাজনৈতিক ময়দানে বিদেশি ভাবধারার বাম কিংবা কংগ্রেস আজ পুরোপুরি নগণ্য, বিরোধীদের আর কোনো অস্তিত্বই নেই। কিন্তু বিজেপির আসল লড়াই কোনো রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে নয়, তাদের আসল চাপ হলো জাগ্রত জনরোষ ও আমজনতার প্রত্যাশা সামলানো! নিচুতলায় দল পরিবর্তনকারীদের মাধ্যমে যদি তোলাবাজি ও অপসংস্কৃতি বিজেপি সংগঠনে ঢুকে পড়ে, তবে তার পরিণতি হতে পারে মারাত্মক। আরএসএস-এর এই প্রকাশ্য হুঁশিয়ারির পর, এবার দলের উপর থেকে নিচ পর্যন্ত আমূল ছোঁটাই ও শুদ্ধিকরণের পথে হাঁটতে চলেছে গেরুয়া শিবির।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *