পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা। বসিরহাট মহকুমার হিঙ্গলগঞ্জ। আর এই হিঙ্গলগঞ্জেই এক বিদেশিকে ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক। অভিযোগ, সুদূর আর্জেন্টিনা থেকে আসা এক ব্যক্তি হিন্দু অধ্যুষিত এলাকায় গিয়ে খ্রিস্টান ধর্ম প্রচার করছিলেন। শুধু ধর্মপ্রচারই নয়, স্থানীয়দের দাবি—হিন্দুদের খ্রিস্টান ধর্মে ধর্মান্তরিত করার চেষ্টাও চলছিল। ঘটনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে একটি ভিডিও। আর সেই ভিডিও সামনে আসতেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক ও সামাজিক চাপানউতোর।
ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, একটি বাড়ির ভিতর বেশ কয়েকজন মহিলা রয়েছেন। এমন সময় সেখানে হাজির হন স্থানীয় কয়েকজন যুবক এবং বঙ্গীয় হিন্দু জাগরণ মঞ্চের সদস্যরা। এরপরই বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসতে দেখা যায় সবুজ গেঞ্জি পরা এক বিদেশি নাগরিককে। স্থানীয়দের দাবি, ওই ব্যক্তি আর্জেন্টিনার বাসিন্দা। অর্থাৎ, ফুটবল তারকা লিওনেল মেসির দেশের মানুষ! কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, কী কারণে তিনি হিঙ্গলগঞ্জের একটি হিন্দু পাড়ায় এসেছিলেন?
ভিডিওতে তাঁকে প্রশ্ন করা হলে ওই বিদেশি ব্যক্তি দাবি করেন, ওই বাড়িতে থাকা মানুষরা খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণ করেছেন। তাঁর বক্তব্যের মূল কথা ছিল—প্রত্যেক মানুষের নিজের ধর্ম বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা রয়েছে। কেউ হিন্দু ধর্ম পালন করবেন, আবার কেউ চাইলে যীশু খ্রিস্টের উপাসনাও করতে পারেন। অন্যদিকে, স্থানীয়দের অভিযোগ ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাঁদের দাবি, এটি হিন্দু অধ্যুষিত এলাকা এবং সেখানে এসে হিন্দুদের খ্রিস্টান ধর্মে প্রভাবিত বা ধর্মান্তরিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। দুই পক্ষের কথার মাঝে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
ভিডিওতে স্থানীয় কয়েকজনকে বলতে শোনা যায়, এটি হিন্দু পাড়া, এখানে হিন্দুদের খ্রিস্টান ধর্মে ধর্মান্তরিত করা যাবে না। এর পাল্টা ওই বিদেশি নাগরিককে প্রশ্ন তুলতে শোনা যায়, তাহলে কি খ্রিস্টানদের এই এলাকা থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হবে? এই মন্তব্যের পরই দু’পক্ষের মধ্যে শুরু হয় তর্ক-বিতর্ক। ভিডিওতে বাড়ির ভিতরে বেশ কয়েকজন মহিলাকেও দেখা যায়। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, তাঁরা ইতিমধ্যেই খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণ করেছেন। স্থানীয় হিন্দু সংগঠনগুলির অভিযোগ, হিঙ্গলগঞ্জের একাধিক হিন্দু পাড়ায় ওই বিদেশি নাগরিককে ঘুরে ঘুরে ধর্মপ্রচার করতে দেখা গিয়েছে। তাঁদের আরও দাবি, বিষয়টি নিয়ে তাঁরা স্থানীয় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন।
