ফলতার জনকল্যাণ শিবির থেকে জাহাঙ্গীর-অনুগামীদের হুঁশিয়ারি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর ওপর হামলাকারীদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে নিলাম করবে ডাবল ইঞ্জিন সরকার। একেবারে পরিষ্কার করে বুঝিয়ে দিয়ে গেলেন। শুভেন্দু অধিকারীর এই বক্তব্যের মূল বার্তা হল, রাজ্যে আইন-শৃঙ্খলার প্রশ্নে সরকার কঠোর অবস্থান নিতে চায়। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, কোনও ব্যক্তি যতই প্রভাবশালী হোন না কেন, আইন ভাঙলে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ফলতার সভায় তিনি উন্নয়নমূলক বিভিন্ন প্রকল্পের কথাও তুলে ধরেন। সাধারণ মানুষের জন্য সরকারের কাজ এবং প্রশাসনিক পরিষেবা আরও দ্রুত পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি। এর মাধ্যমে উন্নয়ন ও আইন-শৃঙ্খলা দুই বিষয়কেই গুরুত্ব দিতে চেয়েছেন।
জাহাঙ্গীর খানকে কেন্দ্র করে থানা ঘেরাও এবং পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর ওপর হামলার প্রসঙ্গ তুলে মুখ্যমন্ত্রী কড়া বার্তা দেন। তাঁর মতে, কোনও দাবিদাওয়া থাকলে তা গণতান্ত্রিক উপায়ে জানানো উচিত, কিন্তু হিংসা বা হামলার পথ গ্রহণ করা উচিত নয়।রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই বক্তব্যের মাধ্যমে শুভেন্দু অধিকারী প্রশাসনের কড়া অবস্থান জনসমক্ষে তুলে ধরতে চেয়েছেন। পাশাপাশি বিরোধীদের উদ্দেশেও বার্তা দিয়েছেন যে, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করলে সরকার কঠোর পদক্ষেপ নেবে।
তিনি আরও বলেন, আমি আপনাদের কথা দিয়ে গেলাম – ফলতায় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হয়েছে। এখানে শাসকের আইন চলবে না। গুন্ডামি, জঙ্গিপনা, জমিলুট – আমরা কোনওটাই ভবিষ্যতে করতে দেব না। ভোটলুট তো অতীত হয়ে গিয়েছে। আপনারা নিশ্চিত থাকুন, যত মাফিয়া আর ডন হোক না কেন, তাকে সবক শেখানোর কাজ ভারতীয় জনতা পার্টি পরিচালিত রাজ্যের সরকার করবে। তারপর পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এখানে এসপি সাহেব আছেন। আমি বলে গেলাম, ভিডিয়ো বা ছবিতে যতগুলোকে দেখা গিয়েছে, কেউ যেন বাড়িতে না থাকে। তাদেরকে আইনের আওতায় আনতে হবে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার আওতায় রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপের ধারায় এমন শিক্ষা দিন, যাতে কোনওদিন পুলিশ, সরকারি কর্মচারী বা আধা-সামরিক বাহিনীকে আক্রমণ করার সাহস না রাখে। পুলিশমন্ত্রী হিসেবে আমি সেই নির্দেশ দিয়ে গেলাম। শুধু জেলের ভাত খাওয়ানো নয়, যারা হামলা করেছে, তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে তা নিলামে তোলার কাজও আপনাদের ডবল ইঞ্জিন সরকার করবে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করাই আমাদের লক্ষ্য।
ফলতায় সাম্প্রতিক অশান্তি, পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর উপর হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই কড়া বার্তা দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্যের মূল উদ্দেশ্য ছিল আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সরকারের ‘জিরো টলারেন্স নীতি তুলে ধরা এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দেওয়া।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রশাসনের উপর হামলা বা রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের বার্তা দিয়ে সরকার একদিকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের কাছেও কঠোর অবস্থানের বার্তা পৌঁছে দিতে চাইছে। সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ও নিলামের প্রসঙ্গ তুলে মুখ্যমন্ত্রী বোঝাতে চেয়েছেন যে, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রুখতে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির পথেই হাঁটবে সরকার।
নতুন সরকারের বক্তব্য ও পদক্ষেপ দেখে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের ধারণা, তারা প্রশাসনের কর্তৃত্ব ও আইনের শাসনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে চাইছে। পুলিশ বা সরকারি বাহিনীর উপর হামলার মতো ঘটনাকে শুধু আইনশৃঙ্খলার সমস্যা হিসেবে নয়, রাষ্ট্রের কর্তৃত্বের প্রতি চ্যালেঞ্জ হিসেবেও দেখা হচ্ছে। তাই কঠোর গ্রেফতার, সম্পত্তি বাজেয়াপ্তকরণ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির কথা বলে সরকার বার্তা দিতে চাইছে যে আইন ভাঙলে কোনও রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব কাজ করবে না। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ তৈরি করতে চাইছে সরকার।
