নিজের বিধানসভা কেন্দ্র ভবানীপুরে এবার এক হাই-ভোল্টেজ রাজনৈতিক কর্মসূচির সূচনা করতে চলেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা স্থানীয় বিধায়ক শ্রী শুভেন্দু অধিকারী। দক্ষিণ কলকাতার এই হাই-প্রোফাইল কেন্দ্রটি দীর্ঘকাল ধরে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত হলেও, নব্য সরকারের শপথগ্রহণের পর থেকেই সেখানে নিজেদের সংগঠন জোরদার করতে মরিয়া শাসকদল বিজেপি। জানা গিয়েছে, আগামী শুক্রবার বিকেলে ভবানীপুর বিধানসভা এলাকার বিস্তীর্ণ অংশ জুড়ে এক সুবিশাল ‘তেরঙ্গা যাত্রা’ বা জাতীয় পতাকা মিছিলের আয়োজন করা হয়েছে। এ রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর ভবানীপুরে শুভেন্দু অধিকারীর এটিই প্রথম বড় কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি, যার ফলে স্বাভাবিকভাবেই রাজনীতির পারদ চড়তে শুরু করেছে।
হঠাৎ কেন ভবানীপুরে এই মেগা মিছিলে নামছেন মুখ্যমন্ত্রী? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সম্প্রতি দিল্লিতে নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ধর্মতলার রাজপথে যে তুমুল হইচই ও বিক্ষোভ প্রদর্শিত হয়েছিল, তারই পাল্টা রাজনৈতিক বার্তা দিতে এই কৌশলী চাল। ধর্মতলার কর্মসূচিতে বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্বকে নিশানা করা ও সাংবাদিকদের ওপর নিগ্রহের অভিযোগে সরব হয়েছিল পদ্ম শিবির। সেই ঘটনার প্রতিবাদেই গত সপ্তাহে কলকাতা জুড়ে জাতীয় পতাকা হাতে পথে নেমেছিলেন বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা। আর এবার নিজের সংসদীয় ও রাজনৈতিক এলাকা ভবানীপুরে একই সুর বজায় রেখে তেরঙ্গা মিছিলে নেতৃত্ব দিতে চলেছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
নির্বাচনী ফলাফলের পর ভবানীপুরের রাস্তায় বিজয় মিছিল ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন সভা করলেও, প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কর্মসূচির মেলবন্ধনে এই প্রথম বড় আকারে জনসংযোগে নামছেন তিনি। নিট আন্দোলনে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর সমর্থন জানানো ও কেন্দ্রকে কোণঠাসা করার চেষ্টার বিপরীতে গিয়ে, ভবানীপুরের রাজপথ থেকেই শুভেন্দু অধিকারী কী কড়া বার্তা দেন, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের। তো মমতার গড়ে রাজনৈতিক আধিপত্য ধরে রাখতে এবং সাধারণ কর্মী-সমর্থকদের চাঙ্গা করতেই নব্য মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই তেরঙ্গা যাত্রা রাজ্য রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করল।
