নতুন রাজ্য কমিটি ঘোষণার পাশাপাশি বিভিন্ন মোর্চার সভাপতিদের নামও ঘোষণা করেছে বিজেপি। দলীয় সূত্রের খবর, নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত মোর্চা সভাপতিদের ইতিমধ্যেই SIR-এর পক্ষে প্রচার এবং কর্মসূচি নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। দলীয় সূত্র অনুযায়ী, প্রত্যেক মোর্চা সভাপতিকে নিজেদের মতো করে SIR-এর পক্ষে প্রচার চালানোর জন্য কর্মসূচি নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। নতুন সভাপতিদের নেতৃত্বে দ্রুত সংশ্লিষ্ট মোর্চার কমিটিও তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে।
কমিটি তৈরি হয়ে গেলে রাজ্য নেতৃত্বকে তা জানানো হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট মোর্চার পক্ষ থেকে স্থানীয় স্তরে সভা, প্রচার এবং অন্যান্য রাজনৈতিক কর্মসূচি নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। বিজেপির বক্তব্য SIR নিয়ে বিরোধীরা যে বক্তব্য সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরছে, তার পাল্টা দলের বক্তব্যও মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া প্রয়োজন। কারণ, ভোটার তালিকা সংশোধন এবং ভোটারদের তথ্য যাচাইয়ের এই প্রক্রিয়াকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হয়েছে। বিরোধী দলগুলির একাংশের অভিযোগ, প্রক্রিয়াটির ফলে প্রকৃত ভোটারদের নাম বাদ পড়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
অন্যদিকে বিজেপির বক্তব্য, ভোটার তালিকায় প্রকৃত ভোটারদের নাম নিশ্চিত করার পাশাপাশি অনিয়ম বা অসঙ্গতি দূর করাও জরুরি। ফলে বিতর্কের মূল জায়গা দাঁড়াচ্ছে SIR-এর প্রয়োজনীয়তা নয় শুধু, বরং প্রক্রিয়াটি কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে এবং প্রকৃত ভোটারদের অধিকার কীভাবে সুরক্ষিত থাকবে। এই বিতর্কের মধ্যেই কেরল প্রসঙ্গ সামনে এনে কংগ্রেসের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্যের মূল প্রশ্ন, কেরলে SIR প্রক্রিয়াকে স্বাগত জানানো হলেও অন্য রাজ্যে একই প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করা হচ্ছে কেন?
বিরোধী দলগুলির একাংশের অবস্থান হল, ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আপত্তি নয়; বরং প্রক্রিয়াটি কীভাবে হচ্ছে, তার স্বচ্ছতা এবং সাধারণ ভোটারের উপর তার প্রভাব নিয়েই তাঁদের উদ্বেগ। অন্যদিকে দিল্লিতে INDIA জোটের বৈঠকেও SIR নিয়ে আলোচনা সামনে এসেছে। জাতীয় স্তরে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা, SIR-এর প্রক্রিয়া এবং এর পরবর্তী রাজনৈতিক পদক্ষেপ নিয়ে বিরোধী দলগুলি নিজেদের অবস্থান সমন্বয় করার চেষ্টা করছে। ফলে বিষয়টি এখন আর শুধুমাত্র প্রশাসনিক বা নির্বাচন সংক্রান্ত প্রক্রিয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই।এটি ক্রমেই বড় রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে চলে এসেছে।
