শারদোৎসবের দিনগুলিতে বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসবের আনন্দকে দ্বিগুণ করতে এবার খাস দুর্গাপুজোর মূল পর্বেই বঙ্গে পা রাখতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী! তবে মহালয়ার দিন নয়— সফরসূচিতে তাৎপর্যপূর্ণ রদবদল ঘটিয়ে মহা সপ্তমীর পুণ্যলগ্নে কলকাতায় পৌঁছাতে পারেন তিনি। আর তার থেকেও বড় খবর হলো— মহাষ্টমীর মহালগ্নে শ্রীরামকৃষ্ণের স্মৃতিবিজড়িত পুণ্যভূমি বেলুড় মঠে স্বশরীরে উপস্থিত থাকতে পারেন দেশের প্রধানমন্ত্রী। সেখানে মঠের ঐতিহ্যবাহী কুমারী পুজো স্বচক্ষে প্রত্যক্ষ করার পাশাপাশি মায়ের চরণে ভক্তিভরে পুষ্পাঞ্জলিও প্রদান করতে পারেন নরেন্দ্র মোদী!
যদিও প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয় বা পিএমও-র তরফে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক সিলমোহর দেওয়া হয়নি, তবে নবান্ন ও প্রশাসনিক সূত্রে এই মেগা সফরের জোরালো প্রস্তুতির ইঙ্গিত মিলেছে। পূর্বে পরিকল্পনা ছিল— আগামী ১০ই অক্টোবর মহালয়ার পুণ্যপ্রভাতে দেবীপক্ষের সূচনালগ্নে কলকাতার ঐতিহাসিক ইডেন গার্ডেন্সে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য মেগা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। আলোকসজ্জায় সেজে ওঠা রেড রোড ধরে বাংলার ২৩টি জেলার নিজস্ব ২৩ ধরনের লোকনৃত্যকলা ও সংস্কৃতির সুবিশাল শোভাযাত্রা পৌঁছে যাওয়ার কথা ছিল ইডেনে। সেখানে এক হাজার মহিলার সমবেত উলুধ্বনি এবং একসঙ্গে বেজে ওঠা ১০ হাজার ঢাকের গর্জন— যা বিশ্বরেকর্ড বা গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম তুলতে চলেছে— সেই ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর হাত দিয়ে মা দুর্গার প্রতীকী চক্ষুদান সম্পন্ন হওয়ার কথা ভাবা হয়েছিল। এমনকি বিশেষ সুসজ্জিত গাড়িতে চেপে গোটা স্টেডিয়াম পরিক্রমা করার সময় শ্রেয়া ঘোষালের কণ্ঠে পুজোর আবাহন গীত শোনার কথা ছিল তাঁর।
কিন্তু বৃহস্পতিবার রাজ্য সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সিএবি আধিকারিকদের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পরই সামনে আসে এক চাঞ্চল্যকর খবর। প্রশাসনিক সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে— মহালয়ার দিন ইডেনের সেই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে সম্ভবত থাকছেন না প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাঁর পরিবর্তে মহালয়ার সেই ঐতিহাসিক মঞ্চ কাঁপাতে কলকাতায় আসতে পারেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ!
আর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আসছেন ঠিক দুর্গাপুজোর মূল দিনগুলিতে। সূত্রের খবর— সপ্তমীর দিন কলকাতা বিমানবন্দরে অবতরণ করে সরাসরি বঙ্গ সংস্কৃতির উৎসবে শামিল হবেন তিনি। এরপর মহাষ্টমীর সকালে হাওড়ার বেলুড় মঠে স্বামী বিবেকানন্দের প্রতিষ্ঠিত রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের কুমারী পুজোয় ভক্তের শ্রদ্ধায় শামিল হবেন প্রধানমন্ত্রী। উল্লেখ্য, বেলুড় মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশনের সন্ন্যাসীদের সঙ্গে নরেন্দ্র মোদীর আত্মিক ও আধ্যাত্মিক সম্পর্ক সুদীর্ঘকালের। বহুবার জীবনের কঠিনতম মুহূর্তে শান্তির খোঁজে তিনি ছুটে গিয়েছেন বেলুড় মঠের গর্ভগৃহে। এবার মহাষ্টমীর মতো পবিত্র দিনে দেবী দুর্গার সাক্ষাৎ মাতৃস্বরূপা কুমারীর চরণে তাঁর ভক্তিার্ঘ্য অর্পণ এক অভাবনীয় ও ভাবগম্ভীর মুহূর্ত তৈরি করতে চলেছে।
১০ই অক্টোবরের মেগা ইডেন শো থেকে শুরু করে মহাষ্টমীর বেলুড় মঠ— ২০২৬-এর শারদোৎসবে বাংলার আকাশ-বাতাস যে শুধু ঢাকের কাঠি আর কাশফুলের দোলাতেই মাতবে না, বরং জাতীয় রাজনীতির শীর্ষ নেতৃত্বের উপস্থিতিতে এক অভূতপূর্ব জাতীয় মর্যাদায় উন্নীত হতে চলেছে, তা স্পষ্ট বুঝিয়ে দিচ্ছে এই মেগা প্রস্তুতি!
