উপনির্বাচন মানেই কি শাসকদলের বাড়তি সুবিধা? রাজনীতির প্রচলিত হিসেব বলছে, বহু ক্ষেত্রেই উপনির্বাচনে শাসকদলের প্রভাব কাজ করে। কিন্তু নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগরের ক্ষেত্রে অঙ্কটা একেবারেই সরল নয়। একদিকে নন্দীগ্রাম শুভেন্দু অধিকারীর গড়। বিজেপির শক্ত ঘাঁটি। অন্যদিকে রেজিনগর যেখানে ভোটের অঙ্কে সবচেয়ে বড় ফ্যাক্টর সংখ্যালঘু ভোট। দুটি কেন্দ্র। দুটি সম্পূর্ণ আলাদা রাজনৈতিক সমীকরণ। নন্দীগ্রামে প্রথম স্থানের লড়াই নিয়ে রাজনৈতিক মহলে খুব একটা সংশয় নেই। বিজেপি অনেকটাই এগিয়ে। কিন্তু আসল প্রশ্ন দ্বিতীয় কে?
মাত্র পাঁচ মাস আগে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামে তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছিল ৪৬.৫৫ শতাংশ ভোট। আর কংগ্রেস মাত্র ০.৩২ শতাংশ। সংখ্যার হিসেবে মাত্র ৭৯৪ ভোট। কিন্তু রাজনীতিতে পাঁচ মাস অনেকটা সময়। এই পাঁচ মাসে বদলে গিয়েছে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ। তৃণমূল কংগ্রেসের ভাঙনের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনপ্রিয়তার ভোটের একটা অংশ এবার কংগ্রেসের দিকে যেতে পারে এমনই সম্ভাবনা দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ। আর সেই কারণেই নন্দীগ্রামে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন চর্চা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক শুভময় মৈত্রের মতে, নন্দীগ্রামে দ্বিতীয় স্থানে থাকার সম্ভাবনা কংগ্রেসেরই বেশি। তাঁর যুক্তি নন্দীগ্রামে বিজেপি শক্তিশালী। আগের নির্বাচনের ফলও বিজেপির পক্ষে। কিন্তু দ্বিতীয় স্থানের লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে আগের তৃণমূল ভোট। সেই ভোট যদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরের সমর্থনে কংগ্রেসের দিকে যায়, তাহলে মাত্র পাঁচ মাসের ব্যবধানে ০.৩২ শতাংশ থেকে দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসা অসম্ভব নয়। এটি আগামী দিনের বিরোধী রাজনীতির সমীকরণেও বড় বার্তা দিতে পারে।
কিন্তু নন্দীগ্রামের তুলনায় রেজিনগরের অঙ্ক অনেক বেশি জটিল। এখানে শুধু দল বনাম দল নয়। এখানে কাজ করছে সংখ্যালঘু ভোট, ব্যক্তিগত প্রভাব এবং আগের নির্বাচনের ফল। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রেজিনগরে প্রায় ৫২ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন হুমায়ুন কবীর। অন্যদিকে বিজেপির ভোট ছিল প্রায় ২৭ শতাংশ। আর তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছিল মাত্র ১৭.৪৩ শতাংশ ভোট। এবার সেই আসনেই উপনির্বাচন। আর ভোটগ্রহণের দিনেই উত্তেজনা আরও বাড়ল। পুলিশের সঙ্গে বচসা ও ধস্তাধস্তির পর গ্রেফতার করা হয়েছে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির বিধায়ক ও প্রধান হুমায়ুন কবীরকে।
শুভময় মৈত্রের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, রেজিনগরে প্রথম দুইয়ের লড়াই মূলত আম জনতা উন্নয়ন পার্টি এবং বিজেপির মধ্যে। কারণ আগের নির্বাচনে একদিকে জয়ী হয়েছিল হুমায়ুন কবীরের দল, অন্যদিকে দ্বিতীয় স্থানে ছিল বিজেপি। কিন্তু এবার পরিস্থিতি বদলেছে। শাসকদল বিজেপি। আর রেজিনগরের সংখ্যালঘু ভোট কোন দিকে যাবে সেটাই হতে পারে ফল নির্ধারণের সবচেয়ে বড় ফ্যাক্টর। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও রেজিনগরে সংখ্যালঘু ভোটারদের কাছে পৌঁছনোর চেষ্টা করেছেন। ফলে প্রশ্ন উঠছে হুমায়ুন কবীর কি তাঁর ব্যক্তিগত ভোটব্যাঙ্ক ধরে রাখতে পারবেন? নাকি বিজেপি এবার সেই ভোটে ভাগ বসাতে পারবে?