তিনি যখন রাস্তায় নামেন, তখন নিয়ম বদলায়। তিনি যখন বাইকের হ্যান্ডেল ধরেন, তখন যুবপ্রজন্মের বুকে ঝড় ওঠে। হ্যাঁ, রাজ্যের পঞ্চায়েত ও প্রাণিসম্পদ উন্নয়নমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ এমনই। সরকারে থাকার আগেও তিনি বাইক র্যালি করে রাজপথ কাঁপিয়েছেন, আর সরকারে আসার পরও তারা ‘দাবাং’ মেজাজ বিন্দুমাত্র কমেনি। সম্প্রতি ৫৩ লক্ষ টাকার বিদেশি বাইক নিয়ে ইকো পার্কে তার ঘোরার দৃশ্য কাঁপিয়ে দিয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়া। আর এবার রাজ্যের বাইকপ্রেমী ও নতুন প্রজন্মের জন্য এক দুর্দান্ত সুখবর নিয়ে এলেন খোদ মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ।
প্রতিদিনের মতোই রবিবার সকালেও নিউটাউনে প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়েছিলেন বিজেপির এই নেতা। তবে, এদিন সকালের আবহটা ছিল একেবারেই আলাদা। কারণ সেখানে একটি নামী বিদেশি কোম্পানি হাজির হয়েছিল তাদের চোখধাঁধানো সব দামি বাইক নিয়ে। এ ঘটনা প্রসঙ্গে এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ বলেন, নতুন সরকার যেদিন এসেছে সেদিন অনেকেই গেরুয়া রঙের বাইক কিনেছে। ২০০০ সিসির বাইক ভারতে কম আছে। তবে, এটি আজকের নতুন প্রজন্মের কাছে এক বিরাট আকর্ষণ। তাই রাস্তা-ঘাট ভালো হোক আমরাও চাইব। যাতে এই বাইক কিনে লোকে চালাতে পারে। আর সেই উপযুক্ত রাস্তা আমরা করে দেব।
হ্যাঁ, শুধু নিজে দামি বাইক চালিয়ে আনন্দ পাওয়া নয়, রাজ্যের আপামর যুবসমাজ যাতে বিনা বাধায়, কোনো খানা-খন্দ ছাড়াই এই রাজকীয় বাইকগুলির আনন্দ নিতে পারে— সেই ব্যবস্থাই করতে চলেছে নতুন সরকার। ফলত বোঝাই যাচ্ছে, আগের সরকারের আমলে রাস্তার যে বেহাল দশা ছিল, তা কাটিয়ে এবার আন্তর্জাতিক মানের সড়ক পেতে চলেছে বাংলা। বাইকপ্রেমীরা হুটহাট ঘুরতে বেরিয়ে পড়লেও, ভাঙাচোরা রাস্তা নিয়ে আর তাদের ক্ষোভ থাকবে না। কারণ গতি ও সুরক্ষার এক অভূতপূর্ব মেলবন্ধন ঘটাতে চলেছে এই ডবল ইঞ্জিন সরকার। পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের উদ্দেশ্যে দিলীপ ঘোষের বার্তা, আইন মেনে চলুন, ট্রাফিক নিয়ম মানুন আর বুক ফুলিয়ে বুক চেরা গতিতে এগিয়ে চলুন। মন্ত্রীর এই আশ্বাসে স্বাভাবিকভাবেই উচ্ছ্বসিত রাজ্যের বাইকপ্রেমীরা।
আসলেই দিলীপ ঘোষ মানে এক অন্য আবেগ, অন্য এক আত্মবিশ্বাস। তিনি শুধু রাজনীতির ময়দানেই বিপক্ষকে ক্লিন বোল্ড করেন না, রাজপথেও যুবসমাজকে পথ চেনান। অনেকেই রাজনীতিতে এসে অতীত ভুলে যান, কিন্তু এই নেতা আজও মাটির মানুষ, আবার একই সাথে আধুনিক মনস্ক। যুবপ্রজন্মের পালস তিনি বোঝেন, আর সেই কারণেই ২০০০ সিসির বিদেশি বাইকের গতিকে তিনি বাংলার মসৃণ প্রগতির সাথে জুড়ে দিতে চেয়েছেন। তাই তো ভাঙা রাস্তা আর অনুন্নয়নের অন্ধকার দিন পেরিয়ে, বাংলা এবার বিশ্বমানের পরিকাঠামোয় পা রাখার স্বপ্ন দেখছে। যেখানে গতি থাকবে, প্রগতি থাকবে, আর থাকবে বুক ফুলিয়ে বাঁচার গ্যারান্টি। দিলীপ ঘোষের এই রূপ আর নতুন সরকারের এই মিশন— রাজ্যকে কোন শিখরে নিয়ে যায়, এখন সেটাই দেখার। তবে, আপনার দিলীপ ঘোষের এই রূপ এবং নতুন সরকারের এই উদ্যোগ কেমন লাগল? জানান কমেন্টে!
