নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে সাধারণ ছাত্রদের প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে এবার ঘনিয়ে উঠছে এক গভীর আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের কালো ছায়া। দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে থমকে দিতে কোনো এক অদৃশ্য শক্তি কি আড়াল থেকে এই আন্দোলনকে নিয়ন্ত্রণ করছে? ভারতের গতি রোধ করতে বিদেশি ‘ডিপ স্টেট’ এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তিরা যেভাবে ধীরে ধীরে ময়দানে নামছে, তাতে গোটা দেশের ওয়াকিবহাল মহল ও কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মধ্যে তীব্র দুশ্চিন্তা দেখা দিয়েছে। সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া বেশ কিছু তথ্য ও ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, প্রথাগত দাবিদাওয়া নিয়ে শুরু হওয়া ছাত্রদের এই নির্ভেজাল আন্দোলনের রূপরেখা রাতারাতি বদলে যাচ্ছে। আন্দোলনস্থলে অস্ত্রধারী নিহাং শিখ যোদ্ধা এবং অতীতে বিতর্কিত শিখ চরমপন্থী বা খলিস্তানি ভাবধারার সাথে যুক্ত একাধিক সন্দেহজনক গোষ্ঠীর উপস্থিতি প্রমাণ করছে যে, ছাত্রদের ইমোশনকে সামনে রেখে কোনো এক বিদেশি ‘নীল নকশা’ প্রয়োগের চেষ্টা চলছে।
নেপাল, বাংলাদেশ এবং শ্রীলঙ্কায় যুব সমাজ তথা ‘জেন-জি’-র ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে কীভাবে সেখানে অরাজকতা তৈরি করা হয়েছিল এবং নির্বাচিত সরকারকে উপড়ে ফেলা হয়েছিল— সেই চিত্র আজ সমগ্র বিশ্বের সামনে পরিষ্কার। ডিপস্টেটের অদৃশ্য হস্তক্ষেপে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে সরকার পতনের যে নাটক বারবার রচিত হয়, যন্তর মন্তরের ঘটনাপ্রবাহ যেন তারই এক কার্বন কপি হয়ে উঠছে। কূটনৈতিক মহলের মতে, ভারত যতক্ষণ অর্থনৈতিক ও সামরিক দিক থেকে স্বনির্ভর, ততক্ষণ বাইরের সরাসরি কোনো শক্তি দেশকে আঘাত করতে পারে না। কিন্তু দেশীয় রাজনীতির কিছু কায়েমি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী এবং ঘরের শত্রুরা যখন বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সাথে হাত মেলায়, ঠিক তখনই আগুনের ফুলকি থেকে বিধ্বংসী দাবানল তৈরি হয়।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, প্রথাগত ছাত্র আন্দোলনটি যখন দেশের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য প্রশ্নচিহ্ন হয়ে দাঁড়াচ্ছে, ঠিক তখনই কোনো রকম দূরদর্শিতা না দেখিয়ে আগুনে ঘি ঢালতে নেমে পড়েছে বিরোধী শিবির। রাজপথের এই জটিল পরিস্থিতিকে নিজেদের রাজনৈতিক ফায়দায় ব্যবহার করতে বিরোধী নেতারা আন্দোলনকারীদের দলে ভিড়ছেন, যার ফলে সাধারণ ছাত্রদের আসল দাবিদাওয়াগুলো আড়ালে চলে গিয়ে একটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা তৈরি হচ্ছে। তো ভারতের অভ্যন্তরীণ শান্তি বিঘ্নিত করার এই চক্রান্তকে সময়মতো ব্যর্থ করা এবং বিদেশি ফাঁদকে উপড়ে ফেলে দেশের সার্বভৌমত্ব ও সুশাসন বজায় রাখা এখন প্রতিটি সচেতন নাগরিক ও প্রশাসনের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হয়ে উঠেছে।যন্তর মন্তরে আন্দোলন ‘হাইজ্যাক’ করতে আসরে বিদেশি ‘ডিপ স্টেট’!
