মেদিনীপুরের রাজনৈতিক ময়দানে হঠাৎই এক অভাবনীয় ও সৌজন্যের নতুন ছবি! কাঁথিতে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বাসভবন ‘শান্তিকুঞ্জে’ হঠাৎই হাজির হলেন মেদিনীপুরের এনসিপিআই (NCPI) সাংসদ জুন মালিয়া। প্রাক্তন তৃণমূল তথা বর্তমান সাংসদ জুন মালিয়ার শান্তিকুঞ্জে আগমনের খবর চাউর হতেই রাজনৈতিক মহলে তুমুল জল্পনা শুরু হয়ে যায়। তবে সমস্ত অনুমান ও জল্পনায় জল ঢেলে প্রবীণ রাজনীতিবিদ শিশির অধিকারী এবং গায়ত্রী দেবীর সাথে ব্যক্তিগত সাক্ষাৎ করেন তিনি। সস্ত্রীক শিশির অধিকারীর সাথে বেশ কিছুক্ষণ সময় কাটানোর পর প্রবীণ এই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের পা ছুঁয়ে আশীর্বাদও গ্রহণ করেন সাংসদ।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জুন মালিয়া সাফ জানান— এই সাক্ষাতের পেছনে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল না, এটি সম্পূর্ণ পারিবারিক সৌজন্য বিনিময়। শিশির অধিকারী তাঁকে “ভালো কাজ করছ, ভবিষ্যতে আরও ভালো কাজ করতে হবে” বলে উপদেশ ও পরামর্শ দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনে প্রতি বছর বড় করে উদযাপিত হয় ঐতিহ্যবাহী জগদ্ধাত্রী পুজো এবং তাঁদের পারিবারিক ক্লাব ‘নান্দনিক’-এর দুর্গাপুজো। উভয় পুজোয় উপস্থিত থাকার জন্য প্রবীণ অধিকারীদের তরফে নিমন্ত্রণ পেয়েছেন বলে জানান জুন এবং সেই আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে পুজোয় আসার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।
শান্তিকুঞ্জ থেকে বেরিয়েই কোনো সময় নষ্ট না করে সোজা কাজের ময়দানে নেমে পড়েন সাংসদ। মেদিনীপুরের নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে মুখ্যমন্ত্রীর ছোট ভাই তথা স্থানীয় বিধায়ক দিব্যেন্দু অধিকারীকে পাশে নিয়ে এগরার ভয়াবহ বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শনে যান জুন মালিয়া। প্লাবিত এলাকার দুর্গত মানুষের কাছে পৌঁছে তাঁদের সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন এবং প্রয়োজনীয় ত্রাণের আশ্বাস দেন। তো রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে দূরে সরিয়ে প্রবীণদের প্রতি শ্রদ্ধা ও এলাকার কাজের জন্য এমন সমন্বয় মেদিনীপুরের স্থানীয় রাজনীতিতে সত্যিই এক ইতিবাচক নজির গড়ল।