ডিউটিতে থাকা পুলিশের গায়ে হাত কিংবা থানায় তাণ্ডব? আন্দোলনের নামে যা ইচ্ছে করলেই এবার বিরাট বিপদ !

রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখানো, উত্তেজিত হয়ে থানা বা বিডিও অফিসে হামলা চালানো, কিংবা রাগের মাথায় সরকারি বাস ও অফিসে আগুন লাগিয়ে দেওয়া— এতদিন ধরে চলা এই ধরণের তাণ্ডবকেই এবার পুরোপুরি রুখে দিতে এক চূড়ান্ত আইনি অবস্থান নিলো রাজ্য প্রশাসন। কিন্তু কীভাবে? শুধু এফআইআর আর জেল-হাজতেই কি সীমাবদ্ধ থাকবে এই শাস্তি, নাকি অপরাধীদের ওপর চাপানো হবে এমন এক বোঝা যা মেটাতে পুরো পরিবার ধুঁকতে থাকবে?

সোমবারে সচিবালয়ে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠক শেষে রাজ্য প্রশাসনের সর্বোচ্চ স্তর থেকে সামনে এসেছে এক অভূতপূর্ব ও অত্যন্ত শানিত সিদ্ধান্ত! পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, রাজ্যপালের চূড়ান্ত অনুমোদনের পরই রাজ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে জারি হয়ে গেছে ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল মেইনটেন্যান্স অফ পাবলিক অর্ডার’ সংক্রান্ত সংশোধিত বিধিমালা। এর সোজা অর্থ— এবার থেকে কোনো থানায় হামলা চালানো, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় মোতায়েন থাকা পুলিশের গায়ে হাত তোলা বা সরকারি দপ্তরে অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনা ঘটলে, দুষ্কৃতীরা আর কোনোভাবেই আইনের ফাঁক গলে পার পাবে না।

সবচেয়ে বড় মোচড়টি রাখা হয়েছে আর্থিক ক্ষতিপূরণের ক্ষেত্রে! সাধারণত এ জাতীয় অপরাধে এতদিন পুলিশ কেবল ফৌজদারি মামলা দায়ের করে অভিযুক্তকে জেলে পাঠাত। কিন্তু নবান্নের নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, ফৌজদারি সাজার পাশাপাশি ধ্বংস হওয়া সমস্ত সরকারি পরিকাঠামো বা সম্পত্তির প্রতিটা টাকার ক্ষয়ক্ষতি সরাসরি আদায় করা হবে হামলাকারীদের কাছ থেকেই! অর্থাৎ সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করার জন্য যে পরিমাণ আর্থিক ক্ষতি হবে, তার সমস্ত দেনা শোধ করতে হবে অভিযুক্ত ও তাঁর সহযোগীদের।

ইতিমধ্যেই এই নতুন ও কঠোর রুল অবিলম্বে প্রয়োগ করার জন্য রাজ্যের সমস্ত জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বাহিনীকে বিশেষ নির্দেশ পাঠানো হয়েছে। জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করে সমাজকে অচল করে দেওয়ার চেষ্টা করা হলে, তাৎক্ষণিক আইনি গ্রেফতারির পাশাপাশি সরকারি সম্পত্তি পুনর্গঠনের সমস্ত খরচ হামলাকারীর ঘাড়েই চাপাবে প্রশাসন। নবান্নের এই অল-আউট পদক্ষেপে স্পষ্ট বার্তা— ক্ষমতার দাপটে বা কোনো উস্কানিতে পুলিশের ওপর হামলা চালালে, এবার তার খেসারত দিতে হবে পদে পদে!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *