বিমানবন্দরের কাছে বাঁকড়া মসজিদ নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত! আপাতত রানওয়ের ধারে নমাজে ‘না’

কলকাতা বিমানবন্দর চত্বরের ভিতরে থাকা ১৩৬ বছরের পুরনো গৌরীপুর জামে মসজিদ। স্থানীয়ভাবে এই মসজিদই পরিচিত ‘বাঁকড়া মসজিদ’ নামে। দীর্ঘদিন ধরে এই মসজিদে নমাজপাঠ হয়ে আসছে। কিন্তু বিমানবন্দর সম্প্রসারণ এবং নিরাপত্তার বিষয়কে কেন্দ্র করে মসজিদটি নিয়ে আগে থেকেই আলোচনা চলছিল। এর মধ্যেই গত ১১ জুলাই সেখানে নমাজপাঠ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। শুধু নমাজ বন্ধ নয়, বিমানবন্দরের ভিতর দিয়ে মসজিদে যাওয়ার জন্য যে এন্ট্রি পাসের ব্যবস্থা ছিল, সেটিও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে আদালতে জানান মামলাকারীদের আইনজীবী।

আর এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেই কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন মামলাকারীরা। মামলাকারীদের হয়ে আদালতে সওয়াল করেন আইনজীবী কিশোর দত্ত। তাঁর বক্তব্য, বিমানবন্দর সম্প্রসারণের জন্য বাঁকড়া মসজিদের জমি আগেই অধিগ্রহণের বিষয়টি সামনে এসেছিল। কিন্তু এখনও পর্যন্ত সেই জমি অধিগ্রহণ করা হয়নি। তাহলে, সম্প্রসারণের কাজ না হওয়া সত্ত্বেও কেন আচমকা মসজিদে নমাজপাঠ বন্ধ করে দেওয়া হল—সেই প্রশ্নই তোলেন তিনি। মামলাকারীদের দাবি, বহু বছর ধরে এই মসজিদে নমাজ পড়া হচ্ছে। এতদিনে কোনও নিরাপত্তাজনিত সমস্যা হয়নি বলেও আদালতে যুক্তি দেওয়া হয়।

তাই নিরাপত্তার প্রশ্ন থাকলে বিকল্প ব্যবস্থা করার কথাও বলা হয়। মসজিদে যাতায়াতের জন্য বিকল্প রাস্তা করে দেওয়া যেতে পারে এমন প্রস্তাবও দেন মামলাকারীদের আইনজীবী। এমনকী, বিমানবন্দরের নিরাপত্তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মসজিদে প্রবেশকারীদের নাম নথিভুক্ত করা বা রেজিস্ট্রেশনের ব্যবস্থা করার পরামর্শও দেওয়া হয়। মামলাকারীদের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, মসজিদে সম্পূর্ণভাবে নমাজ বন্ধ করে দেওয়া সংবিধানগত অধিকারের প্রশ্নের সঙ্গে যুক্ত।

তবে শুনানিতে আদালতের তরফ থেকেও প্রশ্ন ওঠে। স্থায়ী ইনজাংশনের জন্য মামলাকারীরা নিম্ন আদালতে যাচ্ছেন না কেন, এই প্রশ্ন করেন বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের বেঞ্চ। অন্যদিকে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের হয়ে আদালতে সওয়াল করেন আইনজীবী গোপাল মুখার্জি। তাঁদের মূল বক্তব্য নিরাপত্তা ঘিরে।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের দাবি, রানওয়ের অত্যন্ত কাছে ওই মসজিদের অবস্থান। সেখানে নমাজপাঠ চালু হলে মানুষের যাতায়াত বাড়তে পারে। আর রানওয়ের কাছাকাছি অনিয়ন্ত্রিতভাবে মানুষের প্রবেশ বিমানবন্দরের নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা কর্তৃপক্ষের।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের আইনজীবীর বক্তব্য, বিষয়টি শুধুমাত্র বিমানবন্দরের সাধারণ নিরাপত্তার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়ও জড়িত। তাই মামলার সম্পূর্ণ বক্তব্য না শুনে এখনই কোনও অন্তর্বর্তী নির্দেশ না দেওয়ার জন্য আদালতের কাছে আবেদন জানানো হয়। দুই পক্ষের বক্তব্যই শোনে কলকাতা হাই কোর্ট। তবে এদিন আদালত নমাজপাঠ চালু করা বা বন্ধ রাখার বিষয়ে কোনও অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেয়নি।
বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের বেঞ্চ জানিয়ে দিয়েছে, মামলার পরবর্তী শুনানি হবে ৭ অক্টোবর। অর্থাৎ, আপাতত ৭ অক্টোবর পর্যন্ত বাঁকড়া মসজিদে নমাজপাঠ বন্ধই থাকছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *