পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করতে বড় সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত মোট ১৪২ দশমিক ৭৯ একর জমি BSF-এর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এই জমিতে তৈরি হবে নতুন সীমান্ত চৌকি, কাঁটাতারের বেড়া এবং আধুনিক নিরাপত্তা পরিকাঠামো। নতুন সরকার গঠনের পর প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই সীমান্ত সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। সেই বৈঠক থেকেই ঠিক হয়, মাত্র ৪৫ দিনের মধ্যে ৬০০ একর জমি BSF-এর হাতে তুলে দেওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হবে। আর সেই লক্ষ্য পূরণে এখন জোরকদমে চলছে জমি হস্তান্তরের কাজ।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি জমি হস্তান্তর করা হয়েছে মুর্শিদাবাদ জেলায়। সেখানে এখনও পর্যন্ত ৩৮.৮০৫ একর জমি BSF-এর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে জলপাইগুড়ি, যেখানে ৩৫.১৬৫ একর জমি দেওয়া হয়েছে। কোচবিহারে ২২.৯৫ একর, দক্ষিণ দিনাজপুরে ২০.১৭০১ একর এবং মালদায় ১০.৯০ একর জমি হস্তান্তর করা হয়েছে।
এছাড়াও দার্জিলিংয়ে ৮.৮১৫ একর, উত্তর দিনাজপুরে ২.৮৪ একর, উত্তর ২৪ পরগনায় ২.৬ একর এবং নদিয়ায় ০.৫৫ একর জমি BSF-কে দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের মতে, সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে নিরাপত্তা পরিকাঠামো উন্নত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ প্রায় গোটা সীমান্ত জুড়েই নিরাপত্তা বাড়ানোর প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে।
প্রশাসনের দাবি, সীমান্ত এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই বেআইনি অনুপ্রবেশ, গবাদি পশু পাচার, মাদক পাচার, জাল নোট এবং অন্যান্য সীমান্ত অপরাধ বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
বিশেষ করে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তকে দেশের অন্যতম সংবেদনশীল সীমান্ত বলে মনে করা হয়। কারণ পশ্চিমবঙ্গের একাধিক জেলা সরাসরি আন্তর্জাতিক সীমান্তের সঙ্গে যুক্ত। তাই এবার নজরদারি আরও কড়া করতে চাইছে প্রশাসন। সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, যেসব এলাকায় জমি দেওয়া হয়েছে সেখানে খুব দ্রুত নতুন BSF ক্যাম্প, ওয়াচ টাওয়ার এবং কাঁটাতারের বেড়া তৈরির কাজ শুরু হতে পারে। ফলে সীমান্তে টহলদারি যেমন বাড়বে, তেমনই সীমান্তবর্তী গ্রামের নিরাপত্তাও আরও জোরদার হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এই সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে জোর চর্চা। একাংশের মতে, সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই কেন্দ্র এবং রাজ্যের মধ্যে মতবিরোধ ছিল। তবে নতুন সরকারের এই উদ্যোগ কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় আরও বাড়াবে। আবার বিরোধীদের একাংশের দাবি, শুধু জমি দিলেই হবে না, দ্রুত পরিকাঠামো গড়ে তোলা এবং স্থানীয় মানুষের স্বার্থ রক্ষা করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
সীমান্তবর্তী এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যেও দেখা গিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। অনেকেই মনে করছেন, নতুন BSF ক্যাম্প তৈরি হলে এলাকায় অপরাধ কমবে, পাচার বন্ধ হবে এবং নিরাপত্তা বাড়বে। তবে কিছু মানুষের উদ্বেগও রয়েছে। তাদের আশঙ্কা, জমি অধিগ্রহণের ফলে কৃষিজমির উপর প্রভাব পড়তে পারে এবং স্থানীয় মানুষ সমস্যায় পড়তে পারেন। যদিও রাজ্য সরকারের দাবি, নিরাপত্তার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের স্বার্থও মাথায় রেখেই কাজ করা হবে।
এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, ৪৫ দিনের মধ্যে ৬০০ একর জমি হস্তান্তরের যে লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে, তা কি সময়ের মধ্যে পূরণ করতে পারবে সরকার? আগামী কয়েক সপ্তাহে আরও জমি BSF-এর হাতে তুলে দেওয়া হতে পারে বলেই প্রশাসনিক সূত্রে খবর। সীমান্তে নিরাপত্তা বাড়াতে এই পদক্ষেপ কতটা সফল হয়, এখন সেটাই দেখার।
